kalerkantho

দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিদিন

সীতাকুণ্ডে বেকারদের স্বাবলম্বী করতে তৈরি হচ্ছে যুব সেলস সেন্টার

সৌমিত্র চক্রবর্তী, সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম)   

১২ মে, ২০১৮ ০০:২৮



সীতাকুণ্ডে বেকারদের স্বাবলম্বী করতে তৈরি হচ্ছে যুব সেলস সেন্টার

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বেকার যুবক-যুবতীদের স্বাবলম্বী করে তুলতে উপজেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর নির্মাণ করছে ‘যুব সেলস সেন্টার’। এ বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণে উপজেলা পরিষদের পাশাপাশি বিনিয়োগ করেছে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ১২ যুবা। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত যুবসমাজ এ বাণিজ্যিক ভবনের কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সুযোগ পাবে এবং ভবিষ্যতে তা নিজেদের প্রতিষ্ঠায় কাজে লাগাতে পারবে বলে সংশ্লিষ্টদের বিশ্বাস। 

সীতাকুণ্ডে উপজেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেওয়া সত্ত্বেও অনেকে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাচ্ছে না, ফলে তাদের প্রশিক্ষণ কোনো কাজে আসছে না। এ ধরনের ব্যক্তিদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করতে উপজেলা পরিষদের শহীদ মিনারসংলগ্ন এলাকার একটি অংশকে যুব চত্বর ঘোষণা করে, সেখানে ‘যুব সেলস সেন্টার’ নামে বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়েছে। নির্মাণকাজ প্রায় শেষপর্যায়ে।

উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. শাহআলম জানান, যুব সেলস সেন্টারে মোট ১২টি দোকান থাকবে। আড়াই মাস আগে দোকানগুলো নির্মাণ শুরু হয়েছে। ঈদের পর পর এসব দোকান উদ্বোধন করা হবে। ভবনটি নির্মাণে এরই মধ্যে প্রায় ১৪ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। আরো কয়েক লাখ টাকা ব্যয় হবে। তিনি আরো জানান, যুব সেলস সেন্টারে ব্যবসা করতে আগ্রহী ১২ জন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত যুবকের কাছ থেকে ৮০ হাজার টাকা করে মোট ৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা অগ্রিম নেওয়া হয়েছে, যার বিনিময়ে উদ্যোক্তাদের আগামী ১০ বছর কোনো ভাড়া দিতে হবে না। অবশিষ্ট বরাদ্দ দিচ্ছে উপজেলা পরিষদ। 

শাহআলম জানান, যুব সেলস সেন্টার পরিচালনার জন্য বিধিমালা তৈরি করা হয়েছে। বিধিমালা অনুযায়ী শুধু উপজেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরে প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরাই এখানে দোকান বরাদ্দ পাবে। প্রথম ধাপে ১২ যুবকে দোকান দেওয়া হলেও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সব যুবকই নিজের পণ্য সেলস সেন্টারে বিক্রির সুযোগ পাবে। দোকান মালিকরা অধিদপ্তরে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সবাইকে ব্যবসার সুযোগ দিতে কিছু নিয়ম-নীতি মেনে চলবেন। বিধিমালা অনুযায়ী সেলস সেন্টার পরিচালনার জন্য একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। পদাধিকার বলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এর সভাপতি ও যুব উন্নয়ন অফিসার সদস্যসচিবের দায়িত্ব পালন করবেন। 

সীতাকুণ্ডের সদ্য বিদায়ী ইউএনও নাজমুল ইসলাম ভূইয়া এই যুব সেলস সেন্টার স্থাপনের মূল পরিকল্পনাকারী। নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘এই যুব সেলস সেন্টারটি বেকার যুবদের কর্মসংস্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমি বিশ্বাস করি। যুবকদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে এভাবে সেলস সেন্টার স্থাপনের মতো উদ্যোগ আছে কি না, আমি জানি না।’ দেশ থেকে বেকারত্ব দূর করতে এ উদ্যোগ যুগোপযোগী হবে বলে মনে করেন তিনি।


মন্তব্য