kalerkantho

দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিদিন

লংগদুতে হামলার এক বছর : বিচার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৭ জুন, ২০১৮ ০৪:৪৭



লংগদুতে হামলার এক বছর : বিচার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ

রাঙামাটির লংগদুতে পাহাড়িদের বাড়ি-ঘরে হামলা ও আগুন দেওয়ার ঘটনার এক বছর হয়ে গেলেও সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং বিচার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে আদিবাসী ফোরামসহ চারটি সংগঠন।

গতকাল বুধবার রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে আয়োজিত এক আলোচনাসভায় বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। 

‘রাঙামাটি পার্বত্য জেলার লংগদুর অগ্নিসংযোগ ও সাম্প্রদায়িক হামলার এক বছর, গৃহনির্মাণসহ সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন ও বর্তমান প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক এই আলোচনাসভার আয়োজক সংগঠনগুলোর অন্য তিনটি হলো বেসরকারি সংস্থা আইইডি, জনউদ্যোগ ও কাপেং ফাউন্ডেশন।

জনউদ্যোগের আহ্বায়ক ডা. মুশতাক হোসেনের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব তারিক হোসেন মিঠুলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনাসভায় গত এক বছরে সরকারের প্রতিশ্রুতি ও বর্তমান অবস্থার বিবরণ তুলে ধরেন কাপেং ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক পল্লব চাকমা। বক্তব্য দেন ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য, গবেষক ও লেখক সৈয়দ আবুল মকসুদ, আইইডির নির্বাহী পরিচালক নুমান আহমেদ খান, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং প্রমুখ। 

পল্লব চাকমা বলেন, গত বছরের ১ জুন খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা সড়ক থেকে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলের চালক নুরুল ইসলাম নয়নের লাশ উদ্ধারের পর ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর গ্রামে হামলা চালানো হয়। দুষ্কৃতকারীরা বাড়িঘরে লুটপাট, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। হামলায় জড়িতদের বিচারের উল্লেখযোগ্য কোনো ব্যবস্থা এখনো নেওয়া হয়নি। বরং গ্রেপ্তারকৃত ৩৪ জন আসামির মধ্যে একজন বাদে সবাই জামিনে ছাড়া পেয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল তা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। 

সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, এই লংগদুতে ১৯৮৯ সালে যে সাম্প্রদায়িক হামলায় ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ৩০ জনকে হত্যা করা হয়েছিল এবং অনেক গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছিল তার বিচার যদি ঠিকভাবে হতো তাহলে ২৮ বছর পর সেখানে এ ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতো না। তিনি এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দুষ্কৃতকারীদের বিচারের আওতায় আনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পাহাড়িদের ন্যায়সংগতভাবে পুনর্বাসনের দাবি জানান।


মন্তব্য