kalerkantho

দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিদিন

নতুন করে ৩১ জন শনাক্ত

হালিশহরে জন্ডিস আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

১০ জুলাই, ২০১৮ ০২:০৪



হালিশহরে জন্ডিস আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে

চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহর ও আশপাশের এলাকায় জন্ডিস রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। গতকাল সোমবার আক্রান্ত আরো ৩১ জন শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে একজনকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যরা হালিশহর নয়াবাজার এলাকায় স্থাপন করা স্বাস্থ্য বিভাগের অস্থায়ী চিকিৎসা ক্যাম্পের মাধ্যমে চিকিত্সা নিচ্ছে। এ নিয়ে গত পাঁচ মাসে প্রায় দুই হাজার ১৫০ জন জন্ডিসে আক্রান্ত হয়েছে বলে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী গতকাল সন্ধ্যায় কালের কণ্ঠকে নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে নগরীর একটি এলাকায় এত অধিকসংখ্যক মানুষ জন্ডিসে আক্রান্ত হওয়ায় চিন্তিত স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা। বিষয়টি নিয়ে গত রবিবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে আলোচনা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। ওই সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।

ওই সভায় উপস্থিত চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, কেন ওই এলাকায় এত অধিকসংখ্যক জন্ডিস রোগী তা নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভায় আলোচনা হয়েছে। এ নিয়ে আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে চট্টগ্রামে একটি সমন্বয় সভা হবে। ওই সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী, চট্টগ্রামের সিটি মেয়র, ওয়াসা, স্বাস্থ্য বিভাগসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত থাকবেন।

তিনি আরো বলেন, সরকারি হিসাবে গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে গত শনিবার পর্যন্ত ওই এলাকায় দুই হাজার ১০৭ জন জন্ডিসে আক্রান্ত হয়েছে। এ ছাড়া আজকে (গতকাল) নতুন করে আক্রান্ত ৩১ জন চিহ্নিত হয়েছে। 

এদিকে পানিতে ‘জীবাণু’ থাকার কারণে জন্ডিসের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় হালিশহর এবং আশপাশের এলাকায় জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তবে সেবাসংস্থাগুলো বলছে, হালিশহর এলাকায় জন্ডিসের প্রকোপ বাড়লেও ‘আতঙ্কিত’ হওয়ার কিছু নেই। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসন জন্ডিসের প্রকোপ ঠেকাতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে। হালিশহর এলাকায় ইতিমধ্যে ওয়াসার পানি পরীক্ষা করা হয়েছে। সেখানে জণ্ডিসের জীবাণু পাওয়া যায়নি। 

অন্যদিকে কোনো কোনো সংস্থা বলছে, হালিশহর এলাকায় ওয়াসার পাইপে ‘লিকেজ’ আছে। সেগুলো থেকে জীবাণু ছড়াতে পারে। চসিক থেকে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছিল। কমিটি ওই এলাকার ওয়াসার পানিতে ক্ষতিকারক কোনো জীবাণু পায়নি। কিছু বাড়ির রিজার্ভার অপরিষ্কার থাকায় সেখান থেকে পানি দূষিত হচ্ছে বলে অনুমান করা হচ্ছে।



মন্তব্য