kalerkantho

দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিদিন

চসিকে ২ হাজার ৪২৫ কোটি ৪২ লাখ ৮২ হাজার টাকার বাজেট

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

১১ জুলাই, ২০১৮ ০২:৩৬



চসিকে ২ হাজার ৪২৫ কোটি ৪২ লাখ ৮২ হাজার টাকার বাজেট

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য দুই হাজার ৪২৫ কোটি ৪২ লাখ ৮২ হাজার টাকার বাজেট ঘোষণা করেছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে চসিক মিলনায়তনে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বাজেট ঘোষণা করেন। সভায় ২০১৭-১৮ অর্থবছরের ৮৮৩ কোটি ৩৮ লাখ ৭০ হাজার টাকার সংশোধিত বাজেটও অনুমোদন দেওয়া হয়। মেয়র হিসেবে এটি নাছির উদ্দীনের চতুর্থ বাজেট। গতবার প্রস্তাবিত বাজেটের চেয়ে এবার প্রায় ১০০ কোটি টাকা বেশি। গতবার তা ছিল দুই হাজার ৩২৭ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। গতকাল বাজেট ঘোষণা শুরুর আগে বিশেষ সাধারণ সভায় প্রস্তাবিত বাজেট সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন করা হয়। 

বাজেটে আয় খাতে চসিকের নিজস্ব উত্স থেকে প্রাপ্তি ধরা হয়েছে ৬৯৪ কোটি ৯২ লাখ ৮২ হাজার টাকা। এর মধ্যে বকেয়া কর ও অভিকর ১৯১ কোটি আট লাখ ৪১ হাজার টাকা, হাল কর ও অভিকর ১৪৪ কোটি ৩৪ লাখ ৪১ হাজার টাকা, অন্যান্য করাদি ১৩৩ কোটি দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা, ফিস ৯৯ কোটি ৮০ লাখ ৫০ হাজার টাকা, জরিমানা ৫০ লাখ টাকা, সম্পদ থেকে অর্জিত ভাড়া ও আয় ৭৩ কোটি ১০ লাখ টাকা, লভ্যাংশ পাঁচ কোটি টাকা, বিবিধ আয় ২৩ কোটি ৪২ লাখ টাকা এবং ভর্তুকি ২৪ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ধরা হয়েছে। এ ছাড়া ত্রাণ সাহায্য ২০ লাখ, উন্নয়ন অনুদান এক হাজার ৬৮০ কোটি এবং অন্যান্য উত্স ৫০ কোটি ৩০ লাখ টাকাসহ মোট আয় ধরা হয়েছে এক হাজার ৭৩০ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

প্রস্তাবিত বাজেটে বেতন-ভাতা ও পারিশ্রমিক, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ, ভাড়া-কর ও অভিকর, বিদ্যুত্, জ্বালানি ও পানি, কল্যাণমূলক ব্যয়, ডাক তার ও দূরালাপনী, আতিথেয়তা ও উত্সব, বীমা, ভ্রমণ ও যাতায়াত, বিজ্ঞাপন ও প্রচারণা, মুদ্রণ ও মনিহারি, ফিস বৃত্তি ও পেশাগত ব্যয়, প্রশিক্ষণ ব্যয়, বিবিধ ব্যয় ও ভাণ্ডার খাত মিলে মোট পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৪২ কোটি ৮৭ লাখ ২৫ হাজার টাকা। এ ছাড়া ত্রাণ ব্যয়, বকেয়া দেনা, স্থায়ী সম্পদ, উন্নয়ন (রাজস্ব ও এডিপি) ও অন্যান্য খাত মিলে মোট ব্যয় ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ৮৮০ কোটি ৬০ লাখ টাকা। বাজেটে উদ্বৃত্ত দেখানো হয় এক কোটি ৯৫ লাখ ৫৭ হাজার টাকা।

চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহার সভাপতিত্বে বাজেট অধিবেশনে প্রধান অতিথি ছিলেন সিটি মেয়র। বাজেটের আয় ও ব্যয়ের খাত উপস্থাপন করেন সিটি করপোরেশনের অর্থ স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান কাউন্সিলর মো. শফিউল আলম। এ সময় প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ, প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা নাজিয়া শিরিনসহ বিভিন্ন সাধারণ ও সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর এবং করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বাজেট বক্তৃতায় সিটি মেয়র বলেন, ‘জলাবদ্ধতা নিরসনে গত তিন বছরে নগরীর প্রতিটি সড়কের পাশে পরিকল্পিত ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা পাঁচ হাজার ৬০০ কোটি টাকার একটি মেগাপ্রকল্প সিডিএকে অনুমোদন দিয়েছেন; যার বাস্তবায়ন সেনাবাহিনীর মাধ্যমে সম্পন্ন হবে। এ ছাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন সরকারের প্রকল্প সহায়তায় জলাবদ্ধতা নিরসণে কাজ করছে। আশা করা যাচ্ছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উন্নয়নকাজ সম্পন্ন হলে চট্টগ্রামের পরিবেশ বদলে যাবে, দৃষ্টিনন্দন হবে আমাদের প্রিয় নগর চট্টগ্রাম।’ 

মেয়র আরো বলেন, সিটি করপোরেশনের আবশ্যিক সেবা কার্যক্রম হচ্ছে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, রাস্তাঘাট সংস্কার ও মেরামতের মাধ্যমে চলাচল উপযোগী রাখা এবং সড়ক বাতির মাধ্যমে আলোকায়নের ব্যবস্থা করা। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এর বাইরে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ব্যাপক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে থাকে। শিক্ষা খাতে প্রতিবছর ৪৩ কোটি টাকা এবং স্বাস্থ্য খাতে প্রতিবছর ১৩ কোটি টাকাসহ এই দুটি খাতে সর্বমোট ৫৬ কোটি টাকা ভর্তুকি প্রদান করে, যার নজির বাংলাদেশে আর কোনো সিটি করপোরেশনের নেই। নগরীর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজের মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৪১টি ওয়ার্ডকে দুই ভাগে অর্থাত্ উত্তর ও দক্ষিণ জোনে বিভক্ত করা হয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে সব ওয়ার্ড থেকে ৫০০ জন নর্দমা পরিষ্কার/শ্রমিক উঠিয়ে এনে নালা-নর্দমা পরিষ্কারের বিশেষ ক্রাশ প্রগ্রাম শুরু করা হয়েছে। 

সিটি মেয়র বলেন, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যবেষ্টিত চট্টগ্রাম নগরকে পরিচ্ছন্ন, সবুজ এবং যথাযথ উন্নয়নের মাধ্যমে বাসযোগ্য নান্দনিক নগরে পরিণত করার জন্য রাজস্ব বিভাগে ব্যাপক যুগোপযোগী সংস্কারের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। আপনারা ঘরে বসে সব তথ্য-উপাত্ত পেয়ে যাবেন যাতে হোল্ডিং কর ও রেট এবং ট্রেড লাইসেন্স ফি ও অন্যান্য করাদি পরিশোধ সহজ থেকে সহজতর হয়। নিয়মিত কর পরিশোধ করে আপনার শহরকে পরিচ্ছন্ন, সবুজ, সুন্দর, জলজটমুক্ত ও বাসযোগ্য নগর গড়তে নগরবাসীর সহায়তা কামনা করছি।



মন্তব্য