kalerkantho


বরিশাল কালেক্টরেট ভবন

আজিম হোসেন, বরিশাল   

১৩ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



বরিশাল কালেক্টরেট ভবন

ঔপনিবেশিক শাসনামলের স্থাপত্য ঐতিহ্যের অন্যতম স্মারক নিদর্শন ‘বরিশাল কালেক্টরেট ভবন’। ১৯৭৯ সালে ভবনটিকে ব্যবহার অনুপযোগী এবং ১৯৮৪ সালের দিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। ২০০৪ সালে বাংলাদেশ সরকার এই ভবনটি সংরক্ষিত পুরাকীর্তি ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে। ২০০৫ সালে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের কাছে পুরনো কালেক্টরেট ভবন হস্তান্তর করা হয়। পরে ২০১২ সালে ভবনটিকে সংস্কার এবং ২০১৫ সালে বিভাগীয় জাদুঘর ঘোষণা করা হয়।

বাংলাদেশ প্রত্নতাত্ত্বিক অধিদপ্তর সংরক্ষিত এই ভবনে রয়েছে পুরনো আসবাব, পাথরের মূর্তি, পোড়ামাটির ফলক, কারুকার্যখচিত ইট, পুরনো মুদ্রাসহ দুই শতাধিক নিদর্শন।

বরিশাল বিভাগীয় জাদুঘরের সহকারী কাস্টডিয়ান শাহীন আলম বলেন, বরিশাল কালেক্টরেট ভবন দেশের সর্বপ্রথম সরকারি ভবন। এই ভবন তৈরির আগের কিছু ইতিহাস আছে। সুলতানি ও মোগল আমলের প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত হয়েছিল ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার ‘বারৈকরণ’। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কার্যক্রমও চলত এখান থেকে। ১৭৯২ খ্রিস্টাব্দে স্যামুয়েল মিডলটন সুন্দরবন কমিশনারের দায়িত্ব পাওয়ার পর যোগাযোগব্যবস্থার সুবিধার্থে প্রশাসনিক কার্যক্রম প্রথমে স্থানান্তর করা হয় বাকেরগঞ্জে। পরবর্তী সময় ১৮২১ সালে বরিশালে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কালেক্টরেট ভবনটি নির্মাণ করা হয়। স্বাধীনতার পূর্ববর্তী সময় পর্যন্ত এ নামেই ভবনটি চিনত সবাই। স্বাধীন বাংলাদেশে ভবনটি বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয় হিসেবে পরিচিতি পায়।

ভবনটির দেয়াল সুরকি আর ইট দিয়ে করা। ছাদে ব্যবহার করা হয়েছে রেলের পাটি। ভবনটির দৈর্ঘ্য ৩০০ আর প্রস্থ ৯০ ফুট। বাইরে বারান্দা রয়েছে ৩০ ফুট। পুরো ভবনে মোট ১৮টি কক্ষ রয়েছে। আরেকটি ভবনের দৈর্ঘ্য ১০০ ও প্রস্থ ৯০ ফুট। সেখানে রয়েছে আরো পাঁচটি কক্ষ।

 


মন্তব্য