kalerkantho


বেহুলার বাসরঘর

লিমন বাসার, বগুড়া   

১৩ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



বেহুলার বাসরঘর

বাংলার বহুল আলোচিত লোককথা বেহুলা-লখিন্দরের এই কাহিনির সঙ্গে জড়িয়ে আছে অনেক আবেগ ও আকর্ষণ। বগুড়া শহর থেকে আট কিলোমিটার দূরে বগুড়া-রংপুর মহাসড়কের পাশে গোকুল গ্রামের দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তে রয়েছে ‘বেহুলার বাসরঘর’-এর ধ্বংসাবশেষ। স্থাপনাটি গোকুল মেদ নামেও পরিচিত। বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের মতে, আনুমানিক সপ্তম থেকে এক হাজার ২০০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে এটা নির্মিত।

বেহুলার কাহিনি সেন যুগের অনেক আগের ঘটনা। বেহুলার বাসরঘর একটি অকল্পনীয় মনুমেন্ট। গবেষকদের মতে, এ মনুমেন্ট ৮০৯ থেকে ৮৪৭ খ্রিস্টাব্দে দেবপাল নির্মিত একটি বৈদ্যমঠ। এই স্থাপনার পশ্চিমাংশে আছে বাসরঘরের প্রবাদ স্মৃতিচিহ্ন। পূর্বাংশে রয়েছে ২৪ কোণবিশিষ্ট চৌবাচ্চাসদৃশ একটি স্নানঘর। ওই স্নানঘরের মধ্যে ছিল আট ফুট গভীর একটি কূপ।

১৯৩৪ থেকে ১৯৩৬ সালের মধ্যে এখানে প্রথম খননকাজ চালায় ইংরেজরা। এর পর থেকে স্থানটি অখননকৃত অবস্থায়ই আছে। তাই এটা যে আসলে কী ছিল তা এখনো অজানা। বেহুলা-লখিন্দরের মিথটাই প্রচলিত হয়ে গেছে, যা এখনো বেহুলা-লখিন্দরের বাসরঘর নামে বেশি পরিচিত।

মাটি থেকে প্রায় অর্ধশত ফুট উঁচুতে একটা ঘরের ধ্বংসাবশেষ দেখতে পাওয়া যায়। আরেক পাশে আছে কুয়াসহ স্নানাগার। প্রচলিত ধারণা, বাসর রাতের পর বেহুলা-লখিন্দরের স্নান করার জন্য স্নানাগারটি তৈরি করা হয়েছিল। এখানে আরো অনেক ঘরের কাঠামো চোখে পড়ে, আনুমানিক ১৭২টি। সবই বদ্ধ কুঠরি। আপাতদৃষ্টিতে ঢোকা বা বের হওয়ার কোনো পথ নেই।


মন্তব্য