kalerkantho


শিশু অপহরণ ও হত্যার দায়ে তিনজনের যাবজ্জীবন

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৯ আগস্ট, ২০১৭ ১৪:২২



শিশু অপহরণ ও হত্যার দায়ে তিনজনের যাবজ্জীবন

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে শিশু রমজান সিকদারকে অপহরণের পর হত্যার দায়ে তিন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ বুধবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ১ নং আদালতের বিচারক মিয়াজী শহীদুল আলম চৌধুরী আসামিদের উপস্থিতিতে এই রায় দেন বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি আবদুর রহিম।



সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, শেরপুরের নকলা উপজেলার ধামনা ধনকুশা গ্রামের মৃত নেয়ামত আলীর ছেলে হামিদুল হক, হামিদুলের বোন আফরোজা ও ফুপাতো ভাই মো. রিপন। একই সঙ্গে আদালত লাশ গুমের অপরাধে প্রত্যেক আসামিকে সাত বছর করে কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন।

নিহত শিশু রমজান সিকদার নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়ি এলাকার মৃত ইসমাইল সিকদারের ছেলে। সে জালকুড়ি পূর্বপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র ছিল। রমজানের মা মার্জিয়া বেগম এ রায়ে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেন, আমরা এই রায়ে খুশি নই। আমরা আসামিদের ফাঁসি চেয়েছিলাম। আমরা খুনিদের ফাঁসি চাই। আমরা এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করব।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালের ৭ সেপ্টেম্বর সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়ি এলাকার ইসমাঈল হোসেনের ছেলে রমজানকে হামিদুল হক, রিপন এবং আফরোজা কৌশলে শেরপুরের নকলা এলাকায় অপহরণ করে নিয়ে যান।

পরে তারা মুঠোফোনে ইসমাঈল হোসেনের কাছে ১০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। মুক্তিপণের টাকা না দেওয়ায় আসামিরা গলাটিপে রমজানকে হত্যার পর লাশ গুম করে ফেলেন।

এ ঘটনায় রমজানের মা বাদী হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মামলা করেন। পরে পুলিশ তদন্ত করে ওই আসামিদের গ্রেপ্তার করে এবং তাঁদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী নকলা উপজেলার চাপা ঝুড়ি সেতু এলাকা থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করে। পুলিশ তদন্ত শেষে ২০১৪ সালের ৩১ মার্চ তিন আসামিকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।

 


মন্তব্য