kalerkantho


মানবতাবিরোধী অপরাধ : আজহার-কায়সারের আপিল শুনানি ১০ অক্টোবর

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৩ আগস্ট, ২০১৭ ১০:৪৬



মানবতাবিরোধী অপরাধ : আজহার-কায়সারের আপিল শুনানি ১০ অক্টোবর

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম আজহারুল ইসলাম ও জাতীয় পার্টির সাবেক নেতা সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সারের আপিলের সারসংক্ষেপ ২৪ আগস্টের মধ্যে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে দুটি আপিল শুনানির জন্য ১০ অক্টোবর তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

আজ রবিবার সকালে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে তিন বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।  অন্য দুই বিচারপতি হচ্ছেন বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার।

আদেশে বলা হয়, ২৪ আগস্টের মধ্যে আপিলের সার সংক্ষেপ জমা দিতে হবে। ১০ অক্টোবর আপিল শুনানি শুরু হয়ে কোনো ধরনের মুলতবি ছাড়াই চলবে।

আদালতে এ দিন এ টি এম আজহারুলের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট-অন-রেকর্ড জয়নুল আবেদীন তুহিন। আর কায়সারের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এস এম শাহজাহান। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহাবুবে আলম।

জানা গেছে, অ্যাটর্নি জেনারেল দুই মামলায় আলাদা শুনানির আবেদন করলে প্রধান বিচাপরতি বলেন, 'আপনারা অনেক সময় নিয়ে নিয়েছেন। লিখিত আর্গুমেন্ট জমা দেবেন, ‍শুনানি হবে।

'

প্রসঙ্গত, গত ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ১ রংপুরের আলবদর কমান্ডার যুদ্ধাপরাধী এ টি এম আজহারুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন। পাশাপাশি তাকে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেন। ট্রাইব্যুনালের দেওয়া এই রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের ২৮ জানুয়ারি খালাস চেয়ে আপিল করেন এই জামায়াত নেতা।  

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম আজহারুল ইসলাম একাত্তরে ইসলামী ছাত্র সংঘের জেলা কমিটির সভাপতি ছিলেন। সে সময় তার নেতৃত্বেই বৃহত্তর রংপুর এলাকায় হত্যা, ধর্ষণ, অপহরণ, নির্যাতন, বাড়িঘরে লুটপাট, অগ্নিসংযোগের মতো বর্বরতা চালানো হয়।

অপরদিকে মুক্তিযুদ্ধের সময় হবিগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণসহ বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে রাজাকার সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সারকে ২০১৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২। ওই রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের ১৯ জানুয়ারি আপিল করেন কায়সার।  

একাত্তরে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় 'কায়সার বাহিনী' গঠন করে ওই দুই জেলায় যুদ্ধাপরাধে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এই মুসলিম লীগ নেতা। অন্য অপরাধের পাশাপাশি দুই সাঁওতাল নারীসহ তিনজনকে ধর্ষণের দায়ে এই মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।


মন্তব্য