kalerkantho


প্রিন্স মুসার বিরুদ্ধে অর্থপাচার ও রিজার্ভ চুরির মামলায় প্রতিবেদন নাই

আদালত প্রতিবেদক   

১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ২৩:০০



প্রিন্স মুসার বিরুদ্ধে অর্থপাচার ও রিজার্ভ চুরির মামলায় প্রতিবেদন নাই

ফাইল ছবি

সুইজারল্যান্ডের সুইস ব্যাংকে টাকা জমা রাখার অস্পষ্ট হিসাব দাখিলের অভিযোগে ধনকুবের প্রিন্স মুসা বিন শমসেরের বিরুদ্ধে অর্থপাচার প্রতিরোধ আইনের মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা পড়েনি। প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ফের ১৮ অক্টোবর নতুন সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় দায়ের করা মামলায়ও তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল হয়নি। এ নিয়ে ১৭তম ধার্য তারিখেও তদন্ত সংস্থা সিআইডি কোনো প্রতিবেদন দাখিল না করায় ফের ১১ অক্টোবর দিন ধার্য করেছেন আদালত।

আজ সোমবার দুই মামলায় প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। কোন প্রতিবেদন না আসায় পৃথক ম্যাজিস্ট্রেট দুই মামলায় পরবর্তী দিন ধার্য করেন।

প্রিন্স মুসা বিন শমসেরের মামলার শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ থেকে কোনো প্রতিবেদন দাখিল না হওয়ায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নুর নাহার ইয়াসমিন পরবর্তী দিন ধার্য করেন।

শুল্ক ফাঁকি দিয়ে একটি গাড়ি ব্যবহারের ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের দুই মাস পর মুসা বিন শমসেরের বিরুদ্ধে রাজধানীর গুলশান থানায় মুদ্রা পাচার প্রতিরোধ আইনে গত ৩১ জুলাই ওই মামলা দায়ের করেন শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা (এআরও) মো. জাকির হোসেন।

কারনেট ডি প্যাসেজ সুবিধায় জনৈক ফারুক উজ-জামান চৌধুরীর নামে নিবন্ধিত ওই রেঞ্জ রোভার গাড়ি গত ২১ মার্চ মুসার ছেলের শ্বশুর বাড়ি থেকে উদ্ধার করেন শুল্ক গোয়েন্দারা। তারপর মুসাকে কাকরাইলে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কার্যালয়ে তলব করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

ভোলা বিআরটিএ'র কয়েকজন কর্মকর্তার যোগসাজসে ভুয়া কাগজ দিয়ে ওই গাড়ি রেজিস্ট্রেশন এবং বেনামে অবৈধ আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা ওই সময়ই জানিয়েছিল শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর।

ওই তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে মুসার বিরুদ্ধে মামলা করতে দুর্নীতি দমন কমিশনকে সুপারিশও করে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। পাশাপাশি ফাঁকি দেওয়া অর্থ পাচারের অভিযোগে মামলার অনুমতি চাওয়া হয় রাজস্ব বিভাগের কাছে। সেই অনুমতি পাওয়ার পর সোমবার মুদ্রা পাচারের মামলাটি হয়।

এদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় দায়ের করা মামলায়ও তদন্ত সংস্থা সিআইডি প্রতিবেদন দাখিল না করায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট এ কে এম মাঈন উদ্দিন সিদ্দিকী পরবর্তী দিন ধার্য করেন।

২০১৬ সালের ৫ ফেব্রম্নয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে জালিয়াতি করে সুইফট কোডের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের আট কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি করে পরে টাকা ফিলিপাইনে পাঠানো হয়। দেশের অভ্যন্তরের কোনো একটি চক্রের সহায়তায় হ্যাকার গ্রুপ রিজার্ভের ওই অর্থপাচার করেছে বলে ধারণা করা হয়।

ওই ঘটনায় গত বছরের ১৫ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং ডিপার্টমেন্টের উপ-পরিচালক জোবায়ের বিন হুদা বাদী হয়ে রাজধানীর মতিঝিল থানায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন-২০১২ (সংশোধনী ২০১৫) এর ৪-সহ তথ্য ও প্রযুক্তি আইন-২০০৬ এর ৫৪ ধারায় ও ৩৭৯ ধারায় একটি মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করা হয়েছে।


মন্তব্য