kalerkantho


ক্ষতিপূরণের মামলায় দক্ষিণের মেয়রকে সমন

মানহানির মামলা খারিজ

আদালত প্রতিবেদক   

১৬ নভেম্বর, ২০১৭ ২১:৪৬



ক্ষতিপূরণের মামলায় দক্ষিণের মেয়রকে সমন

ফাইল ছবি

ঢাকা সিটি করপোরেশন দক্ষিণের মেয়র সাইদ খোকনের বক্তব্যের দরুন পাঁচ কোটি টাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন মর্মে ক্ষতিপূরণ দাবি করে দায়ের করা দেওয়ানী মোকদ্দমায় সমন জারি করা হয়েছে। মানহানির অভিযোগে দায়ের করা অপর ফৌজদারি মামলাটি খারিজ হয়েছে।

রাজধানীর শাহবাগের বাসিন্দা হাজী মমতাজ ইসলাম বাদী হয়ে আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার নিম্ন আদালতে ফৌজদারী ও দেওয়ানী আইনে পৃথক আদালতে দুটি মামলা করেন। দুই মামলাতে মেয়র সাইদ খোকনকে বিবাদী করা হয়েছে।  

মেয়রের বক্তব্য দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার পর আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন মর্মে ক্ষতিপূরণ দাবি করে দায়েরকৃত দেওয়ানি মোকদ্দমায় ঢাকার চতুর্থ সহকারি জজ আদালতের বিচারক দেব দাস চন্দ্র গ্রহণযোগ্যতার শুনানি শেষে বিবাদীর প্রতি সমন জারি করেন। আগাম ২১ জানুয়ারি জবাব দাখিলের জন্য দিন ধার্য হয়েছে।

অন্যদিকে, মানহানির অভিযোগে ফৌজদারি আইনে দায়ের করা মামলাটি ঢাকার মহানগর হাকিম মাজহারুল হক যথেষ্ট তথ্য উপাত্ত নাই মন্তব্যে খারিজ করেছেন।  

বাদীর আইনজীবী এখলাস উদ্দিন ভূঁইয়া জানান, গত ১৩ নভেম্বর একটি জাতীয় দৈনিকে 'গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে ১৯ নভেম্বর অভিযান শুরু' শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। একই ধরনের সংবাদ প্রকাশিত হয় আরো দুটি পত্রিকায়।

প্রকাশিত ওই সংবাদে বলা হয়, গত ১২ নভেম্বর একটি সমন্বয় সভায় মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, আনন্দবাজার এলাকার ফুলবাড়ীয়া বাসস্ট্যান্ড স্থানান্তর করার জন্য উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আনন্দবাজারে রেলওয়ের জায়গা আছে।

এই জায়গায় ফুলবাড়ীয়া বাসস্ট্যান্ড স্থাপনের লক্ষ্যে শিগগিরই উচ্ছেদের অভিযান পরিচালনা করা হবে। মেয়রের ওই বক্তব্য পরের দিন বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়। ওই বক্তব্যে বিভিন্ন আবাসিক ও দোকানের মালিক ও কর্মচারীরা উচ্ছেদ আতঙ্কে ভীত হয়ে ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ করে দেন। অনেকেই বাদীর বাসাভাড়া ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দেন।

আরজি থেকে জানা গেছে, হাজী মমতাজ ইসলাম ৪২ বছর যাবৎ রাজধানীর শাহবাগ থানা এলাকার ৯/৫, সেক্রেটারিয়েট (আনন্দবাজার) এলাকায় ৪.১৭ একর জমি মালিক হিসাবে দখলে আছেন। ওই সম্পত্তি নিয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ে ও ঢাকার তত্কালীন সিটি করপোরেশনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। মামলায় রেলওয়ে ও সিটি করপোরেশনের বিরুদ্ধে ১৯৮৩ সালে আদালত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেন, যা বর্তমানেও বলবৎ আছে।

২০১১ সালের ২২ মার্চ বাংলাদেশ রেলওয়ে তা উচ্ছেদ করতে চাইলে হাইকোর্ট স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়ে আদালতের আশ্রয় নিতে বলেন। ২০১২ সালের ১৮ ডিসেম্বর আবারও উচ্ছেদ করতে চাইলে বাদী হাইকোর্টে আরেকটি রিট পিটিশন দায়ের করেন। পরের বছরের ৭ জুলাই উভয় পক্ষের শুনানি শেষে হাইকোর্ট অবজারভেশনসহ ওই রিট আবেদনটি নিষ্পত্তি করেন।

বাদীর অভিযোগ, যেহেতু উক্ত জায়গা নিয়ে মামলা চলমান এবং আদালতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা বলবৎ আছে, তাই মেয়রের এমন বক্তব্যে বাদিনীর মানহানি হয়েছে। আর এ ধরনের বক্তব্য প্রকাশিত হওয়ার পর বাদীর জায়গায় বসবাসরত আবাসিক বাসিন্দা ও ভাড়াটিয়ারা উচ্ছেদ আতঙ্কে অন্যত্র চলে যাওয়ার হুমকি দেয়। ফলে চরম আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।


মন্তব্য