kalerkantho


অভিজিৎ হত্যা : গ্রেপ্তার সায়মনের দোষ স্বীকার

আদালত প্রতিবেদক   

১৯ নভেম্বর, ২০১৭ ২২:৩৫



অভিজিৎ হত্যা : গ্রেপ্তার সায়মনের দোষ স্বীকার

ফাইল ছবি

বিজ্ঞান মনস্ক লেখক এবং মুক্তমনা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ রায় হত্যা মামলায় আরো একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট (সিটিটিসি)। আদালতে হাজির করার পর সে হত্যায় সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দিয়েছে।

 
শনিবার রাতে উত্তরার বাউনিয়া বাদালদি রোড এলাকা থেকে সায়মনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সায়মনের সাংগঠনিক নাম শাহরিয়ার। তিনি আনসার আল ইসলামের ইনটেলিজেন্স (গোয়েন্দা শাখা) এবং মিডিয়া উইংয়ের প্রধান। অভিজিৎ হত্যার ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

আজ আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের পুলিশ পরিদর্শক মনিরুল ইসলাম পৃথক দুইটি আবেদন দাখিল করেন। একটিতে আসামিকে অভিজিৎ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। আরেক আবেদনে বলা হয়, আসামি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যায় সম্পৃক্ততার বিষয়টি স্বীকার করেছে। স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিতে চায়।

তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হোক।

এর প্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর হাকিম আহসান হাবীব তার খাস কামরায় আসামির দেওয়া জবানবন্দি ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় লিপিবদ্ধ করেন। জবানবন্দি রেকর্ড করা শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এর আগে ডিএমপির গণমাধ্যম শাখার প্রধান মো. মাসুদুর রহমান ব্রিফিংয়ে জানান, পলাতক জঙ্গি নেতা মেজর জিয়ার নির্দেশে অভিজিৎ হত্যাকাণ্ডে অংশ নেন সায়মন। এ ছাড়া জুলহাস-তনয়, ব্লগার নিলাদ্রী নিলয় ও লেখক ফয়সাল আরেফিন দীপন হত্যাকাণ্ডে অংশ নিয়েছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। সায়মন বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও পেজে আনসার আল ইসলামের সব হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছিলেন।

এর আগে গত ৫ নভেম্বর আনসার আল ইসলামের ইন্টেলিজেন্স শাখার সদস্য আবু সাকিব ওরফে সোহেল গ্রেপ্তার হয়। পরদিন আদালতে সে দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

এ মামলায় এখন পর্যন্ত আনসারউল্লাহ বাংলা টিমের নয়জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। উল্লেখিতরা ছাড়াও সদস্য জাফরান হাসান, শফিউর রহমান ফারাবী, তৌহিদুর রহমান, সাদেক আলী, আবুল বাশার, আমিনুল ইসলাম ও মান্না ইয়াহি ওরফে রাহী। বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ড শেষে এরা বর্তমানে কারাগারে আছে।

হত্যাকাণ্ডের 'প্রধান সন্দেহভাজন' মুকুল রানা ওরফে শরিফুল খিলগাঁওয়ে গত বছরের ১৯ জুন পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন।

পদার্থবিদ অধ্যাপক অজয় রায়ের ছেলে নিহত অভিজিৎ থাকতেন যুক্তরাষ্ট্রে। তিনি মুক্তমনা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা ও লেখক। তাঁর লেখা নয়টি বই রয়েছে। জঙ্গিদের হুমকির মুখেও বইমেলা অংশ নিতে দেশে এসেছিলেন তিনি। ২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে একুশে বইমেলা চলাকালে বাংলা একাডেমি থেকে বের হওয়ার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির কাছে ফুটপাতে কুপিয়ে হত্যা করা হয় অভিজিৎ রায়কে। ওই সময় তার সঙ্গে থাকা স্ত্রী বন্যা আহমেদও হামলার শিকার হয়ে একটি আঙুল হারান। ঘটনার পরদিন নিহতের বাবা বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় হত্যা মামলা করেন।


মন্তব্য