kalerkantho


সৈনিক মহসিন হত্যা

পরকীয়ায় আসক্ত স্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড

আদালত প্রতিবেদক   

৬ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১৮:০৫



পরকীয়ায় আসক্ত স্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড

প্রতীকী ছবি

সেনাবাহিনীর সৈনিক মো. মহসিন হত্যা মামলায় পরকীয়ায় আসক্ত স্ত্রী মোছা. সালেহা খাতুন শিউলিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত সালেহা চাঁদপুর জেলার উত্তর মতলবের আইঠাদি মাথাভাঙ্গার সিরাজুল ইসলাম মাস্টারের মেয়ে।

বর্তমানে সে পলাতক রয়েছে। আজ বুধবার ঢাকার ৪ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবদুর রহমান সরদার এ রায় দেন।  

বিচারক পলাতক আসামির বিরুদ্ধে রায় ঘোষনার আগে পর্যবেক্ষণে বলেন, ‘পরকীয়ায় আসক্ত হয়ে সমাজে বর্তমানে স্বামী তার স্ত্রীকে হত্যা করছে আবার স্ত্রীও স্বামীকে নির্মমভাবে হত্যা করছে। দেশে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এ ধরনের মামলার আসামীর উপযুক্ত বিচার হওয়া প্রয়োজন। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া না হলে এরকম নির্মম ও নিষ্ঠুর হত্যার অভিশাপ থেকে সমাজকে মুক্তি দেওয়া সম্ভব হবেনা।  

বিচারক বলেন, এ মামলার আসামী যে অপরাধ করেছে তা খুবই মর্মান্তিক, নারকীয় ও ভয়ংকর। তার অপরাধ বর্বরতা মানব সভ্যতার সীমা ছাড়িয়ে গেছে। সভ্য সমাজে মানুষের কাছে এ অপরাধ কোনোভাবেই সহনীয় ও গ্রহণযোগ্য নয়। ’ রায়ের আদেশে বলা হয়, আসামী পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে মৃত্যু পরোয়ানা জারি করা হল।

আসামী গ্রেপ্তার অথবা আত্মসমর্পন করার পর হাইকোর্টের অনুমোদন সাপেক্ষে ওই রায় কার্যকর হবে।   

মামলার বিচার চলাকালে চার্জশিটভুক্ত সাতজন সাক্ষির সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক বিপ্লব কুমার শীল নিহতের স্ত্রীকে একমাত্র আসামী করে ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।  

চার্জশিটে বলা হয়, মো. মহসিন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে কর্মরত ছিলেন। সে তার স্ত্রী, দুই ছেলে প্রান্ত ও প্রিয়ন্তকে নিয়ে পল্লবীতে স্থায়ীভাবে বাস করতেন। নিহতের স্ত্রী সালেহা বিভিন্নজনের সাথে পরকীয়ায় জড়িত ছিলেন, যার ফলে তাদের মধ্যে ঝগড়া ও মারামারি লেগেই থাকতো।  

এর জেরে সালেহা খাতুন পরকীয়া প্রেমিকের সহায়তায় শরীফ চৌধুরী আপন, সুরুজ মিয়াসহ ৫/৭ জনকে নিয়ে ২০১২ সালের ২৬ অক্টোবর মহসিনের লিঙ্গ ও অন্ডকোষ পুরোটাই শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে। গলার শ্বাসনালী ধারালো অস্ত্র দিয়ে কেটে ফেলে। মুমূর্ষু অবস্থায় সিএমএইচ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে নিহতের ভাই মো. মজনু মিয়া বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা করেন।

ঘটনার পর সালেহাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। ঘটনা স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। পরবর্তীতে জামিন নিয়ে পলাতক হয়।  

 

 

 

 


মন্তব্য