kalerkantho


যুদ্ধাপরাধীদের মদদ দেওয়ার মামলা

খালেদার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা প্রতিবেদন দাখিল ১৪ জানুয়ারি

আদালত প্রতিবেদক   

১২ ডিসেম্বর, ২০১৭ ২২:০০



খালেদার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা প্রতিবেদন দাখিল ১৪ জানুয়ারি

ফাইল ছবি

যুদ্ধাপরাধীদের মদদ দেওয়ার মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা সংক্রান্ত কোন প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেনি গুলশান থানা পুলিশ। আগামি বছরের ১৪ জানুয়ারি ওই পরোয়ানা তামিল প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার ওই প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। পুলিশের পক্ষ থেকে কোন প্রতিবেদন না আসায় ঢাকার মহানগর হাকিম নুরুন্নাহার ইয়াসমিন পরবর্তী দিন নির্ধারণ করেন।

আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করার পর নির্ধারিত তারিখে আদালতে হাজির না হওয়ায় গত ১২ অক্টোবর সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। একইসঙ্গে গত ১১ নভেম্বরের মধ্যে ওই সংক্রান্তে তামিল প্রতিবেদন দাখিলের জন্য গুলশান থানাকে নির্দেশ দেয় আদালত।

গত বছরের ৩ নভেম্বর বাংলাদেশ জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এ বি সিদ্দিকী মানহানির অভিযোগে এই মামলা করেন। ওইদিনই তেজগাঁও থানার ওসিকে ঘটনাটি তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। তদন্ত শেষে সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীকে অভিযুক্ত করে তেজগাঁও থানার ওসি (তদন্ত) এ বি এম মশিউর রহমান চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি মামলাটিতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। অন্যদিকে প্রচলিত আইনে মৃত ব্যক্তির বিচারের সুযোগ না থাকায় প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন করেন।

গত ২২ মার্চ প্রতিবেদনটি গ্রহণপূর্বক অভিযোগ আমলে নিয়ে খালেদা জিয়াকে হাজির হতে সমন জারি করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জয়লাভ করলে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মন্ত্রী পরিষদ গঠন করেন। ওই মন্ত্রী পরিষদে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের যারা প্রকাশ্য এবং আত্মস্বীকৃতিরূপে পাকিস্তানের দোসর হিসেবে নিজেদের পরিচয় প্রতিষ্ঠা করেছিল, সেই জামায়াতে ইসলামী, ছাত্রশিবির, আলবদর, আলশামস কমিটির সদস্যদের নিয়ে মন্ত্রী ও এমপি বানান। পরবর্তীতে উক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে অনেকেই আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে মৃত্যুদণ্ডসহ বিভিন্ন দণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন।

তার মধ্যে তৎকালীন খালেদা জিয়ার সরকারের মন্ত্রী মতিউর রহমান নিজামী ও আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। কিন্তু তারা ক্ষমতায় থাকাকালীন মন্ত্রীত্বের সুবিধা নিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের মানচিত্র এবং জাতীয় পতাকা তাদের বাড়ি এবং গাড়িতে ব্যবহার করেছেন। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া স্বাধীনতাবিরোধী ব্যক্তিদের তার মন্ত্রী সভায় মন্ত্রীত্ব প্রদান করে ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত পতাকাকে উক্ত স্বাধীনতা বিরোধীদের গাড়িতে তুলে দিয়ে সত্যিকারের দেশপ্রেমিক জনগণের মর্যাদা ভূলুণ্ঠিত করেছেন। যা প্রচলিত দণ্ডবিধি আইনে ৫০০ ধারায় মানহানির অপরাধ।

এ ছাড়া খালেদা জিয়া ২০০১ সালে ক্ষমতা গ্রহণ করে স্বাধীনতা বিরোধী আলবদর রাজাকারদের হাতে মন্ত্রিত্ব তুলে দেন। যার মাধ্যমে স্বীকৃত স্বাধীনতা বিরোধীদের গাড়িতে জাতীয় পতাকা তুলে দিয়ে দেশের মানচিত্র এবং জাতীয় পতাকার মানহানি ঘটিয়েছেন।


মন্তব্য