kalerkantho


জন্মদিনের পার্টি

রেইনট্রি হোটেলে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ, এবার ড্রাইভারের জামিন

আাদালত প্রতিবেদক   

১৬ মার্চ, ২০১৮ ০০:৩১



রেইনট্রি হোটেলে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ, এবার ড্রাইভারের জামিন

বনানীর রেইনট্রি হোটেলে জন্মদিনের পার্টিতে ডেকে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে বিচারাধীন মামলার প্রধান আসামি আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে সাফাত আহমেদের গাড়িচালক (ড্রাইভার) বিল্লাল হোসেনকে জামিন দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল।

গতকল বৃহস্পতিবার মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য ছিল। ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল দ্বিতীয় আদালতে বিচারাধীন এ মামলায় কেউ সাক্ষি দিতে হাজির ছিল না। এখন পর্যন্ত বাদী সাক্ষিকে জেরা শেষ হয়েছে।
 
প্রসিকিউশন সূত্র জানায়, সাফাতের গাড়িচালক বিলস্নালের জামিন চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। এজলাসে শুনানি শেষে বিচারক শফিউল আযম আাসমির জামিন মঞ্জুর করেন। এ নিয়ে দুইজন জামিন পেল। গত জানুয়ারি মাসে সাফাতের ব্যক্তিগত দেহরক্ষী রহমত আলী উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়েছেন।

অবশিষ্ট তিন আসামি কারাগারে রইল। এর হলেন, আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের ছেলে শাফাত আহমেদ, তার বন্ধু ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান 'ই-মেকার্স'র কর্মকর্তা নাঈম আশরাফ ওরফে আবদুল হালিম, ঢাকার পিকাসো রেস্তোরাঁর মালিক রেগনাম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ হোসেন জনির ছেলে সাদমান সাফিক। শুনানির আগে জামিনপ্রাপ্ত আাসামিসহ তাদের কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

আসামিদের পক্ষে মামলা পরিচালনা করছেন অ্যাডভোকেট কাজী নজীব উল্যাহ হিরু। রাষ্ট্রপক্ষে ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি আলী আকবর। এ ছাড়া বাদীকে মহিলা সমিতির পড়্গে আইনগত সহায়তা করছেন অ্যাডভোকেট ফাহমিদা আক্তার রিংকি।

গত বছরের ১৩ জুলাই চার্জ গঠন করে ধর্ষণ ও সহায়তার অভিযোগে আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু করা হয়। এর আগে ১৯ জুন সাফাত আহমেদ ও তার বন্ধু নাঈম আশরাফ ওরফে আবদুল হালিমের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও সাফাতের বন্ধু সাদমান সাফিক, গাড়িচালক বিল্লাল হোসেন ও সাফাতের দেহরক্ষী রহমত আলীর বিরুদ্ধে ধর্ষণে সহায়তার অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল।

৮ জুন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের পুলিশ পরিদর্শক ইসমত আরা এমি আদালতে পাঁচ আসামিকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করেন।

ধর্ষণের ঘটনার ৪০ দিন পর একই বছরের ৬ মে বনানী থানায় পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করেন ধর্ষণের শিকার হওয়া বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী দুইজনের একজন।

এজাহারে বলা হয়, সাফাতের জন্মদিনের পার্টিতে অংশ নিতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হন তারা। বনানীর দ্য রেইনট্রি হোটেলের দুটি কক্ষে আটকে রেখে তাদেরকে ধর্ষণ করা হয়। গত বছরের ২৮ মার্চ রাত ৯টা থেকে পরদিন সকাল ১০টা পর্যন্ত আসামিরা মামলার বাদী এবং তার বান্ধবী ও বন্ধু শাহরিয়ারকে আটকে রাখে। অস্ত্র দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও গালাগাল করে। বাদী ও তার বান্ধবীকে পৃথক কক্ষে নিয়ে যায় আসামিরা। বাদীকে সাফাত আহমেদ একাধিকবার ও তার বান্ধবীকে নাঈম আশরাফ একাধিকবার ধর্ষণ করে।


মন্তব্য