kalerkantho


মুক্তিযোদ্ধাদের অবসরের বয়সসীমা ৬১ হওয়া উচিত ছিল: হাইকোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১২ এপ্রিল, ২০১৮ ০৪:১৬



মুক্তিযোদ্ধাদের অবসরের বয়সসীমা ৬১ হওয়া উচিত ছিল: হাইকোর্ট

সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধাদের অবসরের বয়সসীমা ৫৯ বছর থেকে ৬০ বছর করে ২০১৩ সালে করা আইন অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, মুক্তিযোদ্ধাদের অবসরের বয়সসীমা ৬১ বছর করা উচিত ছিল। কিন্তু সেটা না করা বৈষম্যমূলক হয়েছে।

আদালত বলেন, জাতীয় সংসদকে আইন করার নির্দেশ দিতে পারে না আদালত।  এ কারণে সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের ৬১ বছর পর্যন্ত সকল সুবিধা দেবে বলে মনে করি।

বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর ও বিচারপতি এ কে এম সাহিদুল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল বুধবার এ রায় দেন। সোনালী ব্যাংকের ডিজিএম মশির উদ্দিন ওয়ারেশী ও আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের জেনারেল ম্যানেজার তপন কুমার সাহার রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ রায় দেওয়া হয়।

আদালতে রিটকারীদের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিষ্টার সিদ্দিকুর রহমান খান ও অ্যাডভোকেট গাজী মোশতাক আহমেদ। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এএসএম নাজমুল হক।

রায়ের পর অ্যাডভোকেট গাজী মোশতাক আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, এই রায়ের ফলে চাকরিজীবী মুক্তিযোদ্ধারা ৬১ বছর বয়স পর্যন্ত অবসরের সকল সুযোগ-সুবিধা পাবেন।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ এস এম নামজুল হক সাংবাদিকদের বলেন, এ রায়ের ফলে মুক্তিযোদ্ধাদের চাকরি থেকে অবসরের বয়সসীমা ৫৯ হলো। তবে ৬১ বছর পর্যন্ত সুবিধা পাবেন কীনা সেটা সরকারের সিদ্ধান্তের বিষয়।

গতকাল আদালত তার রায়ের অভিমতে বলেন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি মুক্তিযোদ্ধাদের চাকরি থেকে অবসরের বয়সসীমা সাধারণ চাকরিজীবীদের চেয়ে ২ বছর বাড়িয়ে ৬১ বছর করার সিদ্ধান্ত দিয়ে তা বাস্তবায়ন করার জন্য মন্ত্রণালয়কে বলেছিল। কিন্তু সরকার সেটা না করে এক বছর বাড়িয়ে ৬০ বছর করে। এতে জাতীয় সংসদের অভিপ্রায় আইনের মধ্যে প্রতিফলিত হয়নি। 

আদালত চাকরিতে অবসরের বয়সসীমা সংক্রান্ত গত কয়েক বছরের আইন সংশোধনের বিষয়ে বলেন, সকলের অবসরের বয়সসীমা ছিল ৫৭ বছর। সেখানে মুক্তিযোদ্ধাদের বয়সসীমা ২ বছর বাড়িয়ে ৫৯ বছর করে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানিত করে। কিন্তু পরবর্তীতে সকলের চাকরি থেকে অবসরের বয়সসীমা ৫৯ বছর করে সরকার। এ অবস্থায় মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানিত করতে তাদের এক বছর বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু প্রথমে দুইবছর দিয়ে সম্মানিত করার পর এক বছর করার মধ্য দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান খাটো করা হয়েছে। 

আদালত বলেন, সংবিধানের ঘোষণা ও প্রস্তাবনায় মুক্তিযোদ্ধাদের অবদানের স্বাীকৃতি রয়েছে। যাদের অবদানে রাষ্ট্র স্বাধীন হয়েছে, তাদের সম্মান করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।       

উল্লেখ্য, সরকার গণকর্মচারী (অবসর) (সংশোধন) আইন সংশোধন করে চাকরি থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের অবসরের বয়সসীমা ৫৭ বছর থেকে ২ বছর বাড়িয়ে ৫৯ বছর নির্ধারণ করে ২০০৯ সালের ১৩ ডিসেম্বর। কিন্তু সরকার ২০১১ সালের ২৬ ডিসেম্বর এ আইন সংশোধন করে সকল সরকারি চাকরিজীবীর অবসরের বয়সসীমা নির্ধারণ করেন ৫৯ বছর। এতে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে অন্যদের কোনো পার্থক্য না থাকায় সরকার ২০১৩ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি আবার আইন সংশোধন করে মুক্তিযোদ্ধাদের ক্ষেত্রে অবসরের বয়সসীমা এক বছর বাড়িয়ে ৬০ বছর করে। এ অবস্থায় চাকরি থেকে অবসরের বয়সসীমা ২ বছর বাড়ানোর নির্দেশনা চেয়ে দুই মুক্তিযোদ্ধা গত বছর হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। এ রিট আবেদনে রুল জারি করেন আদালত। এরপর রিট আবেদনকারীরা ২০১৩ সালের আইনের সংশোধনী বাতিল চেয়ে সম্পুরক আবেদন করেন। এ আবেদনেও রুল জারি করেন আদালত। উভয় রুলের ওপর শুনানি শেষে গতকাল রায় দিলেন হাইকোর্ট। 



মন্তব্য