kalerkantho


বিচারপতি জয়নুল আবেদীন বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের চিঠি নিয়ে

হাইকোর্টের সাত দফা পর্যবেক্ষণ সম্বলিত রায় প্রকাশ

সুপ্রিম কোর্টের চিঠি দেশের সর্বোচ্চ আদালতের মর্যাদা ও ভাবমূর্তি খর্ব করেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৪ মে, ২০১৮ ০১:৫১



হাইকোর্টের সাত দফা পর্যবেক্ষণ সম্বলিত রায় প্রকাশ

সাবেক বিচারপতি মো. জয়নুল আবেদীনের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধান বন্ধে দুদককে সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া চিঠি নিয়ে গতবছর নভেম্বরে হাইকোর্টের দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায় গতকাল রবিবার প্রকাশিত হয়েছে। বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চের ২৬ পৃষ্ঠার এ রায়ে সাত দফা পর্যবেক্ষণ দেওয়া হয়েছে। 

আদালতের দেওয়া পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, আপিল বিভাগের প্রশাসনিক ক্ষমতায় দেওয়া আলোচিত চিঠি দেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কিছু অপ্রাসঙ্গিক ও নিজ এখতিয়ার বহির্ভূত যুক্তি গ্রহণ করেছে, যা কর্তৃপক্ষকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। এ চিঠি আপিল বিভাগ তার প্রশাসনিক ক্ষমতায় দিয়েছে। এটা কোনোভাবেই সুপ্রিম কোর্টের মতামত হিসেবে বলার সুযোগ নেই। এ চিঠি জনগণের কাছে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের মর্যাদা ও ভাবমূর্তিকে খর্ব করেছে। 
ওই চিঠি জনগণের মধ্যে বার্তা দিয়েছে যে সুপ্রিম কোর্টের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ফৌজদারি বিচারের ক্ষেত্রে দায়মুক্ত। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে মহামান্য রাষ্ট্রপতি ছাড়া আর কেউ দায়মুক্তি পেতে পারে না। তবে রাষ্ট্রপতি শুধুমাত্র তার পদে বহাল থাকাবস্থায় এ দায়মুক্তি পাবেন। সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি জয়নুল আবেদীনের বিরুদ্ধে সাত বছর ধরে অনুসন্ধান কার্যক্রম সম্পন্ন করতে ব্যর্থতা কোনোভাবেই যুক্তিযুক্ত নয়। এবং ভবিষ্যতে সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারকের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান বা তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থা বা কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই বিশেষ নজর রাখতে হবে। যাতে অকারণে তাদের মর্যাদাহানি না ঘটে বা হয়রানির শিকার না হন। মনে রাখতে হবে এর সঙ্গে বিচার বিভাগের মর্যাদা ও গৌরব জড়িত। এ কারণে এ চিঠি দেওয়া যথাযথ হয়েছে কিনা, সে বিষয়ে জারি করা রুলের বিচার চলতে পারে।

বিচারপতি জয়নুল আবেদীনের চাকরি সংক্রান্ত বিষয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চেয়ে গত বছর ২ মার্চ সুপ্রিম কোর্টকে চিঠি দেয় দুদক। কিন্তু দুদককে তদন্ত না করতে গতবছর ২৮ মার্চ পাল্টা চিঠি দেয় সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। সুপ্রিম কোর্টের এ চিঠি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার পর গতবছর ৩১ জুলাই সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন বিচারপতি জয়নুল আবেদীনের বিষয়ে মোট ২৩ ফর্দ নথি দুদকের কাছে সরবরাহ করে। এরপর থেকে দুদক জোরেসরেই জয়নুল আবেদীনের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের অভিযোগের অনুসন্ধান কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। এ অবস্থায় দুদককে দেওয়া চিঠি গতবছর ৯ অক্টোবর আদালতের নজরে আনেন অ্যাডভোকেট বদিউজ্জামান তরফদার। আদালত রুল জারি করেন। এ রুলের ওপর শুনানি শেষে গতবছর ১৪ নভেম্বর হাইকোর্ট রায় দেন।

বিচারপতি মো. জয়নুল আবেদীন ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকার সময় হাইকোর্টের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। পরে ২০০৯ সালে আপীল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে অবসরে যান তিনি। আলোচিত এ বিচারপতি ২০০৪ সালে একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনায় বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা জড়িত বলে তার তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছিলেন। 

এর মাধ্যমে তদন্ত কার্যক্রম ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করেছিলেন বলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। ওই হামলায় আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, সে সময়কার স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুত্ফুজ্জামান বাবর আসামি। তাদের বিরুদ্ধে নিম্ন আদালতে বিচার চলছে। 


মন্তব্য