kalerkantho


গ্রীনলাইন পরিবহনের বাসচাপায়

পা হারানো রাসেলকে কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হাইকোর্টের রুল

নিজস্ব প্রতিবেদক    

১৫ মে, ২০১৮ ০১:৫৪



পা হারানো রাসেলকে কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হাইকোর্টের রুল

এবার রাজধানীর যাত্রবাড়ী ফ্লাইওভারের ওপর গ্রীনলাইন পরিবহনের বাস চাপায় পা হারানো প্রাইভেটকার চালক রাসেল সরকারকে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। 

বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল সোমবার এ রুল জারি করেন। গ্রীনলাইন পরিবহনসহ সংশ্লিষ্টদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। সংরক্ষিত মহিলা আসনের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট উম্মে কুলসুম স্মৃতির করা এক রিট আবেদনে এ আদেশ দেন আদালত। রিট আবেদনকারীর পক্ষে আইনজীবী ছিলেন খন্দকার শামসুল হক রেজা। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অরবিন্দ কুমার রায়।

রিট আবেদনকারী জানান, এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবর সংবাদ মাধ্যমে দেখে কষ্ট পেয়েছি। এ ঘটনায় আমি মর্মাহত। তাই রিট আবেদন করেছি। আদালত রুল জারি করেছেন।

গত ২৮ এপ্রিল মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভারে কথা কাটাকাটির জেরে গ্রীনলাইন পরিবহনের বাসচালক ক্ষিপ্ত হয়ে প্রাইভেটকার চালকের ওপর দিয়েই চালিয়ে দিলেন বাস। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাইভেটকার চালক রাসেল সরকারের (২৩) বাম পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তিনি এখন চিকিৎসাধীন। তার বাড়ি গাইবান্ধার পলাশবাড়ি এলাকায়। পিতা শফিকুল ইসলাম। তিনি রাজধানীর আদাবর এলাকার সুনিবিড় হাউজিংয়ে বসবাস করেন। স্থানীয় একটি ‘রেন্ট-এ-কার’ প্রতিষ্ঠানের প্রাইভেটকার চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। 

জানা যায়, ঘটনার দিন সকালে রাসেল যাত্রীসহ কেরানীগঞ্জে যান। সেখান থেকে ফেরার পথে যাত্রাবাড়ীর ধোলাইপাড় এলাকায় হানিফ ফ্লাইওভারের ঢালে পৌঁছালে পেছন থেকে গ্রীনলাইন পরিবহনের একটি বাস ধাক্কা দেয়। তখন প্রাইভেটকার চালক রাসেল গাড়ি থামিয়ে বাস চালকের সঙ্গে জানালা দিয়ে ধাক্কা দেওয়ার কারণ জানতে চান। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে গ্রীনলাইন বাসের চালক ক্ষিপ্ত হয়ে রাসেলের ওপর দিয়ে বাস চালিয়ে দেন। এতে ঘটনাস্থলেই রাসেলের বাম পায়ের হাঁটুর নিচ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে চালকসহ গ্রীনলাইন পরিবহনের বাসটি আটক করে শাহবাগ থানা পুলিশ।

এর আগে দুই বাসের চাপায় প্রথমে হাত হারানো ও পরে মারা যাওয়া তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী রাজিব হাসানের ছোট দুইভাইকে এককোটি টাকা ক্ষতিপুরণ দিতে গত ৮ মে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। স্বজন পরিবহনের মালিক দেবে ৫০ লাখ ও বিআরটিসি দেবে ৫০ লাখ টাকা। প্রথম ধাপ হিসেবে একমাসের মধ্যে ২৫ লাখ টাকা করে মোট ৫০ লাখ টাকা দিতে হবে। নিহত রাজিবের খালা জাহানারা পারভীন এবং রাজিবের ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদের ছেলে কাষ্টমস কর্মকর্তা ওমর ফারুকের যৌথ হিসাবে এই টাকা জমা দিয়ে আগামী ২৫ জুনের মধ্যে আদালতকে অবহিত করতে হবে। এজন্য ওমর ফারুক ও জাহানারা পারভীনকে সোনালী ব্যাংকের মতিঝিল শাখায় একটি হিসাব খুলতে বলা হয়েছে। প্রথম ধাপের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আদেশ দেবেন আদালত। এ অবস্থায় বিআরটিসি তার অংশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করেছে।


মন্তব্য