kalerkantho


মোবাইল ব্যাংকিং কি সুদের অন্তর্ভুক্ত?

মাওলানা সাখাওয়াত উল্লাহ   

২৬ জানুয়ারি, ২০১৮ ১৬:১৪



মোবাইল ব্যাংকিং কি সুদের অন্তর্ভুক্ত?

একজন মোবাইল অ্যাকাউন্টধারী তার হিসাব থেকে অন্য অ্যাকাউন্টধারীর হিসাবে নির্ধারিত পরিমাণ টাকা পাঠাতে পারে। এটাকে বলা হচ্ছে সেন্ড মানি। নির্ধারিত ফ্ল্যাট রেটে এই সুবিধা দেওয়া হয়। এতে ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে কোনো সমস্যা নেই।

ক্যাশ আউট মোবাইল ব্যাংকিংয়ের বহুল ব্যবহৃত সুবিধা এটি। নিজ অ্যাকাউন্ট থেকে অথবা এজেন্টের কাছে প্রেরিত টাকা উত্তোলনই মোবাইল ব্যাংকিংয়ের (বিকাশ, এমক্যাশ ইত্যাদি) মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি হয়ে থাকে। ইসলামী ফিকহের দৃষ্টিতে এটি ‘আলইজারাহ’-এর অন্তর্ভুক্ত। ‘ইজারাহ হচ্ছে নির্ধারিত বিনিময়ে নির্ধারিত সেবা বিক্রয় করার নাম।’ (আরো দেখুন : আলআওসাত ১১/১৩১; আলমুগনী ৮/২২; আলফুরূক ৪/৩৪)

এ ক্ষেত্রে টাকা জমা বা উত্তোলনকারী হচ্ছে সেবাগ্রহীতা বা ‘মুসতাজির’। আর কম্পানি হচ্ছে সেবাদাতা বা ‘আজির’। এজেন্ট হচ্ছে মূল সেবাদাতা বা আজিরের ওয়াকিল বা প্রতিনিধি। ওয়াকালাহ বা Agency Contract-এর ক্ষেত্রে প্রতিনিধি পারিশ্রমিকের বিনিময়ে তার Agency-র দায়িত্ব পালন করতে পারে। আর পারিশ্রমিকের ক্ষেত্রে তা নির্দিষ্ট হওয়া জরুরি। তা নির্দিষ্ট অঙ্ক বা কোনো অঙ্কের নির্দিষ্ট হার—উভয়টিই হতে পারে। যেমন ১০০ টাকায় ১০ টাকা বা ১০০ টাকার ১০ শতাংশ উভয়টিই বৈধ।

তবে এ ক্ষেত্রে উল্লেখ্য, সার্বিক বিবেচনায় বিকাশের মাধ্যমে টাকা প্রেরণ ও গ্রহণে যদিও কোনো সমস্যা নেই, কিন্তু তা যেন সুদভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের সুদভিত্তিক কার্যক্রমে সহযোগিতার পর্যায়ে না হয়, তা লক্ষ রাখা উচিত। অতএব, সেবাদাতা কম্পানি (যেমন বিকাশ, ডাচ্-বাংলা ইত্যাদি) যদি সুদভিত্তিক কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত থাকে, তাহলে তাদের কাছে বেশি সময় টাকা গচ্ছিত রাখা উচিত নয়। কারণ এতে তারা গ্রাহকের টাকা কিছু সময়ের জন্য হলেও সুদভিত্তিক খাতে বিনিয়োগ করার সুযোগ পেয়ে যাবে।

 লেখক : ইসলামী গবেষক



মন্তব্য