kalerkantho


মাহে রমজান ইবাদতের বসন্তকাল

মুফতি শাহেদ রহমানি   

২৯ মে, ২০১৮ ১২:৪৭



মাহে রমজান ইবাদতের বসন্তকাল

রমজান ইবাদতের মাস। এটি ইবাদতের বসন্তকাল। সাওয়াব ও পুণ্যের সমুদ্দুর পবিত্র মাহে রমজান। অল্প নেক আমল বেড়ে যায় বহুগুণ। রমজান মাস সাওয়াব অর্জনের বিস্তৃত ফলন মাঠ। এই মাসে সাওয়াবের কথা বলতে গিয়ে মহানবী (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি রমজান মাসে নফল ইবাদত করে, সে

যেন অন্য মাসের ফরজ আদায় করে। আর যে ফরজ আদায়  করে, সে যেন অন্য মাসের ৭০টি ফরজ আদায় করে।’ (সহিহ ইবনে খুজাইমা, হাদিস : ১৮৮৭)

তাই এখানে রমজানের বিশেষ কিছু আমল উল্লেখ করা হলো—এক. তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করা। রমজানে কিয়ামুল লাইল করার কথা আছে। কিয়ামুল লাইল শব্দের অর্থ রাতের নামাজ। তারাবির নামাজ যেমন কিয়ামুল লাইলের মধ্যে পড়ে, তেমনি শেষ রাতে তাহাজ্জুদও সালাতুল লাইলের অন্তর্ভুক্ত।

দুই. কোরআন খতম ও তিলাওয়াত। রমজানে যেহেতু প্রতিটি ইবাদতের সাওয়াব ৭০ গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়, তাই এ মাসে যথাসাধ্য বেশি বেশি কোরআন তিলাওয়াত করা আবশ্যক। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘রোজা ও কোরআন কিয়ামতের দিন মানুষের জন্য সুপারিশ করবে...।’ (মুসনাদে আহমাদ : হাদিস : ৬৬২৬)

তিন. সদকা বা দান। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘মহানবী (সা.) ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দানশীল। আর রমজানে তাঁর বদান্যতা আরো বেড়ে যেত।’ (মুসলিম : হাদিস : ৩২০৮)

চার. ইতিকাফ। ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘মহানবী (সা.) রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করতেন।’ (মুসলিম : হাদিস : ১১৭১)

পাঁচ. রোজাদারদের ইফতার করানো। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো রোজা পালনকারীকে ইফতার করাবে, সে রোজা পালনকারীর অনুরূপ সাওয়াব লাভ করবে। এতে রোজা পালনকারীর সাওয়াব থেকে বিন্দুমাত্র হ্রাস করা হবে না।’ (মুসনাদে আহমাদ : হাদিস : ২২৩০২)

ছয়. রমজান মাসে একে অন্যকে কোরআন শোনানো একটি উত্তম আমল। এটিকে ‘দাওর’ বলা হয়। ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘জিবরাইল (আ.) রমজানে প্রতি রাতে রাসুল (সা.)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন আর রাসুল (সা.) তাঁকে কোরআন শোনাতেন।’ (বুখারি : হাদিস : ১৯০২)

সাত. রোজা ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম। রমজান মাসে রোজা রাখা ফরজ। আল্লাহ বলেন, ‘সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে এ মাসটিতে উপস্থিত হবে, সে যেন তাতে রোজা রাখে।’ (সুরা : বাকারা,  আয়াত : ১৮৫)

আট. তারাবি পড়া। হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে সাওয়াব হাসিলের আশায় রমজানের রাতে ইবাদত করে, তার অতীতের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।’ (বুখারি : হাদিস : ২০০৯)

নয়. লাইলাতুল কদর তালাশ করা। রমজান মাসে একটি রাত রয়েছে, যা হাজার মাসের চেয়ে উত্তম। ইরশাদ হয়েছে, ‘কদরের রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।’ (সুরা : কদর, আয়াত : ৪)

দশ. ফিতরা দেওয়া। রোজার ত্রুটি-বিচ্যুতি পূরণার্থে ফিতরা দেওয়া আবশ্যক। ইবনে ওমর (রা.) বলেন, মহানবী (সা.) ঈদের নামাজ আদায়ের আগে ফিতরা আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন। (বুখারি : হাদিস : ১৫০৩)

লেখক : সিইও, সেন্টার ফর ইসলামিক ইকোনমিকস বাংলাদেশ, বসুন্ধরা, ঢাকা 


মন্তব্য