kalerkantho


এদের ব্যাপারে দেশবাসীকে সতর্ক থাকতে হবে : শেখ হাসিনা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৬ আগস্ট, ২০১৭ ২২:২০



এদের ব্যাপারে দেশবাসীকে সতর্ক থাকতে হবে : শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনগণের উচ্ছাকাঙ্ক্ষা ও সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের সম্ভাবনা নস্যাতের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহবান জানিয়েছেন।  

তিনি বলেন, এই দেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে কেউ যেন আর ছিনিমিনি খেলতে না পারে।

আর কেউ যেন বাংলাদেশের মানুষের উন্নত জীবন পাবার যে সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে তা যেন কেড়ে নিতে না পারে, সে বিষয়ে দেশবাসীকে তাদের সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আয়োজিত জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ৪২তম শাহাদৎ বার্ষিকী আলোচনা সভাপতির ভাষণে একথা বলেন।

তিনি বলেন, আমরা দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই, কিন্তু এখনো কিছু লোক দেশকে পিছনের দিকে নিয়ে যেতে চায়। এদের ব্যাপারে দেশবাসীকে সতর্ক থাকতে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ধারা ব্যহত হয়। কিন্তু ’৯০ এ গণ আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়ে দেশকে একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ফিরিয়ে আনতে পেরেছিলাম। কিন্তু সেটাকে আবার ব্যহত করে খালেদা জিয়া ’৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ভোটারবিহীন প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে। সেখানে জনগণ আন্দোলন করে সংগ্রাম করে, মাত্র দেড় মাস সে ক্ষমতায় থাকতে পেরেছিল এবং তার পতন ঘটে। পদত্যাগে বাধ্য হয় খালেদা জিয়া।

আবার নির্বাচন হলে সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে।

শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশের জনগণ প্রকৃত গণতন্ত্রের সুফল ভোগ করে এবং আওয়ামী লীগ সরকার দেখিয়ে দিয়েছে সরকার যদি আন্তরিকভাবে কাজ করে তাহলে জনগণের কল্যাণ সম্ভব।

সভায় বক্তৃতা করেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু ও তোফায়েল আহমেদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী ও মোহাম্মদ নাসিম।

আরো বক্তৃতা করেন অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এবং সংস্কৃতি বিষয়ক উপকমিটির চেয়ারম্যান আতাউর রহমান, সাংবাদিক কলামিস্ট আবেদ খান, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সিমিন হোসেন রিমি।

কবিতা আবৃত্তি করেন সংস্কৃতিক বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। ছড়া পাঠ করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান।  আলোচনা সভা পরিচালনা করেন আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ এবং উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সভায় প্রারম্ভিক বক্তৃতা করেন। আলোচনা সভার প্রারম্ভে ১৫ আগস্ট এবং মুক্তিযুদ্ধের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

১৫ আগস্টের শহীদদের জন্য প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করে বলেন, আর দোয়া করবেন এই দেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে যেন আর কেউ ছিনিমিনি খেলতে না পারে। আর কেউ যেন বাংলাদেশের মানুষের উন্নত জীবন পাবার যে সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে তা যেন কেড়ে নিতে না পারে।  

তিনি বলেন, ইনশাল্লাহ ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে আমরা মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পারবো। ২০২০ সালে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী আমরা পালন করবো। ২০৪১ সালের মধ্যে আমরা দেশকে উন্নত সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করবো। জাতির পিতার স্বপ্ন আমরা পূরণ করবো, সেটাই আজকের দিনে আমাদের প্রতিজ্ঞা।  

তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের কল্যাণে ’৯৬ পরবর্তি আওয়ামী লীগ সরকার নিবেদিত প্রাণ ছিল বলে ২১ বছর পর ক্ষমতায় এসেও বাংলার মানুষের মাঝে আবার একটা প্রেরণা ও উৎসাহ জাগাতে সক্ষম হয়েছিল। কিন্তু আবার সেটা আঘাত প্রাপ্ত হলো ২০০১ সালে যখন বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় এলো।  

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে ২০১৪ সালের নির্বাচনে আবার আওয়ামী লীগ জয়ী হয়ে ক্ষমতায় ফিরে এলো এবং আজকে ৮ বছরের রাষ্ট্র পরিচালনায় বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলার পথে।

স্বজন হারানোর বেদনা নিয়ে বেচেঁ থাকা যে কতবড় কষ্ট তা একমাত্র যারা স্বজন হারিয়েছেন তারাই কেবল বুঝতে পারবেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারপরেও যে কাজ করে যাচ্ছি দেশের জন্য সেখানে প্রতি মুহূর্তেই একটা কথাই শুধু মনে করি-সেটা হলো এই দেশের মানুষের জন্যইতো আমার বাবা সারাজীবন জেল, জুলুম, অত্যাচার সহ্য করেছেন। আর এদেশের মানুষের জন্যই আমার বাবা, মা, ভাইয়েরা জীবন দিয়ে গেছেন। কাজেই জীবনে আর চাওয়া পাওয়ার কিছু নেই, একটাই আছে। আমার বাবার অসমাপ্ত কাজগুলো যদি আমি করে যেতে পারি।  

প্রধানমন্ত্রী এবং বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, মানুষকে যদি একটু সুন্দর উন্নত জীবন দিতে পারি, তাঁদের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে পারি। অন্তত মৃত্যুর পরে যদি কখনো দেখা হয় আব্বাকে যেন আমি বলতে পারি- দুঃখী মানুষের জন্য এইটুকু কাজ আমি করে আসতে পেরেছি, সেইটুকুই আমার চাওয়া।


মন্তব্য