kalerkantho


সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের মির্জা ফখরুল

'জাতীয় পার্টির সঙ্গে বিএনপির জোট হবে কি না ভবিষ্যৎ বলবে'

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৬ ডিসেম্বর, ২০১৭ ২০:০৫



'জাতীয় পার্টির সঙ্গে বিএনপির জোট হবে কি না ভবিষ্যৎ বলবে'

ফাইল ছবি

একাদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জাতীয় পার্টির সঙ্গে বিএনপির ঐক্যের সম্ভাবনা নাকচ করছেন না দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, পার্লামেন্টারি ডেমোক্রেসিতে কোনো সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

ভবিষ্যতে জাতীয় পার্টির সঙ্গে বিএনপির জোট গঠনের সুযোগ আছে কি না জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, “আপনাদের চিন্তাশক্তির জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। এটা পুরোপুরি অনুমান নির্ভর। হবে কি হবে না, তা ভবিষ্যৎ বলবে। ”

আজ বুধবার দুপুরে নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, “আমরা কোনোটাই উড়াই না। পার্লামেন্টারি ডেমোক্রেসিতে কোনো সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। আওয়ামী লীগ যদি জামায়াতে ইসলামীর সাথে আন্দোলন করতে পারে এবং আসন বণ্টন করতে পারে অতীতে, তাহলে ভবিষ্যতে ইসলামী ঐক্যজোটের সাথে করতে পারে। তাহলে আপনার নাথিং ইজ ইমপসিবল ফর পার্লামেন্টারি ডেমোক্রেসি। ”

জাতীয় পার্টির নেতাদের সঙ্গে আপনাদের যোগাযোগ হচ্ছে কি না জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “এগুলোতে তো আপনি এখন জানতে পারবেন না।

কারণ…। ”

এ সময় একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বে ‘যুক্তফ্রন্ট’ গঠনকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, “আজকে যে আরেকটা জোট গঠন হয়েছে, অবশ্যই আমরা তাকে স্বাগত জানাচ্ছি। আমরা আশা করছি গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনার, মানুষের অধিকারকে ফিরিয়ে আনার জন্য, সত্যিকার অর্থেই জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠা করার জন্য এই চার দলের জোট (যুক্তফ্রন্ট) তাদের যে দায়িত্ব সেই দায়িত্ব পালন করবে।

ফখরুল বলেন, “একই সঙ্গে আমরা এখনও বলছি, একটা বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনার জন্য অত্যন্ত জরুরি। গ্রেটার ন্যাশনাল ইউনিটিই একমাত্র পথ যাতে আমরা এই ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারী শক্তিকে পরাজিত করতে পারি। সেজন্য জনগণের বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। তাতে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্য অত্যন্ত জরুরি। ”

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, “আগাম নির্বাচনে বিএনপির আপত্তি নেই। তবে তা নির্দলীয় সরকারের অধীনে হতে হবে।  

তিনি আরো বলেন, “সেই নির্বাচনটা চাই এই আওয়ামী লীগ সরকারের বাইরে। সরকারে আওয়ামী লীগ থাকবে না, শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী পদে থাকবেন না। আমরা একটা নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন চাই। সেটা যদি কালকে হয়, কালকেই চাই। ”

এ ছাড়াও প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, “তার সাথে আমার ব্যক্তিগত ভালো সম্পর্ক ছিল। তাকে টিপিক্যাল রাজনীতিবিদ মনে হয়নি, আমার তাকে মনে হয়েছে তিনি একটু ব্যতিক্রমধর্মী চিন্তা করছেন। তিনি তার অল্প সময়ে নিঃসন্দেহে কিছুটা প্রভাব রাখতে পেরেছেন।

তিনি আরো বলেন, “এই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নেওয়া না নেওয়ার ব্যাপারে এখনও আমরা দলগতভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নিইনি। আমাদের সিদ্ধান্ত হলে আপনারা জানাতে পারবেন। ”


মন্তব্য