kalerkantho


নির্মূল কমিটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ওবায়দুল কাদের

আওয়ামী লীগ নির্বাচনী কৌশল করলেও আদর্শে আপোষ করে না

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ জানুয়ারি, ২০১৮ ২২:৩১



আওয়ামী লীগ নির্বাচনী কৌশল করলেও আদর্শে আপোষ করে না

ফাইল ছবি

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ক্ষমতায় আসতে আওয়ামী লীগ নির্বাচনী কৌশল করলেও আদর্শের সঙ্গে আপোষ করে না, আদর্শ থেকে এক চুলও নড়ে না। পঁচাত্তর সালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরবর্তী একুশ বছরের দুর্বিসহ জাতীয় রাজনৈতিক চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, সে কারণে ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসতে আমাদেরকে কৌশল গ্রহণ করতে হয়েছে। মোজাফ্‌ফর হোসেন পল্টুর বদলে সাবের হোসেন চৌধুরীকে, মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিনকে বাদ দিয়ে হাজী সেলিমকে মনোনয়ন দিতে হয়েছে। এটা করতে হয়েছে ক্ষমতায় আসার জন্য। ক্ষমতায় না আসলে কি হতো? আজ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হতো না, তরুণ প্রজন্মের কাছে মুক্তিযদ্ধের কথা পৌঁছাতো না। এটাকে আপনারা আপোষ বলবেন না, এটা কৌশল, আদর্শ থেকে সরে আসা নয়। গতকাল রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনিসটিটিউটে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটি আয়োজিত '২৬ বছরের অভিযাত্রা-নির্বাচনের বছরে নির্মূল কমিটির আন্দোলন' শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি কথাগুলো বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আন্দোলনে শুরু করেছিলেন শহীদ জননী জাহানারা ইমাম তাকে সে সময়ে পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। এখন জাহানারা ইমামের আন্দোলন সফলতার পথে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আর কে আছে শেখ হাসিনার মত? এই সাহস দেখাবার। শেখ হাসিনাই পেরেছেন, তার মত অসীম সাহসীর পক্ষেই সম্ভব হয়েছে বাঘা বাঘা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুধু নয়, ফাঁসিতে বিচারের রায় কার্যকর করার? শেখ হাসিনা ছাড়া এটা সম্ভব হতো।

সাংগঠনিক ভাবে জামায়াতের বিচার ও জামায়াতের স্থানীয় পর্যায়ের নেতাদের দলে আশ্রয় দেয়ার বিষয় নিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগ আদর্শের প্রশ্নে আপোষ করে না। আওয়ামী লীগ নির্বাচনে লড়তে জামাত কর্মীর দরকার হয় না। তবে একটি কথা বলি বিচার বিভাগ স্বাধীন, ষোড়শ সংশোধনী রায়ে যা অভজারভেশন দেয়া হলো তা কি আমরা করেছি। তবে ধৈর্য হারা হবেন না, সব বিচার হবে। শেখ হাসিনাকে ভুল বুঝবেন না, জামাতের বিরুদ্ধে যা করার শেখ হাসিনাই করবেন।

হেফাজত প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, আজ হেফাজত নিয়ে অনেক কিছু বলা হয়। আমরা হেফাজতের সঙ্গে আপোষ করিনি, সমঝোতা করিনি। বাস্তবতার নিরিখে তাদের শিক্ষা সনদ দেয়ার বিষয়টি মেনে নিয়েছি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, আজ ভালো লাগে যখন দেখি জীবনমানের সূচকগুলোতে পাকিস্তানের তুলনায় বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে। শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে অনেক উচ্চতায় পেৌছে দিয়েছেন। দেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে। মানুষের জীবন যাত্রার মান বেড়েছে। কেবল তাই নয় গোটা বিশ্বের সেরা রাষ্ট্রনায়কদের কাতারে শেখ হাসিনা। তাই বলতে হয় শেখ হাসিনাই বাঙালির নির্ভরযোগ্য ঠিকানা।

আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে বিএনপির সঙ্গে সংলাপের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, সংলাপের দরজা খালেদা জিয়া আগেই বন্ধ করে দিয়েছেন। এ ছাড়া নির্বাচন হচ্ছে প্রতিটি রাজনৈতিক দলের জন্য অধিকার। অধিকার প্রয়োগ করতে কাউকে সংলাপ করে, আদর করে ডেকে আনতে হবে কেন? বিএনপি তো সিইসির প্রশংসায় গদগদ। নির্বাচন কমিশন রোডম্যাপ দিয়েছে, বিএনপি নির্বাচনে আসবে। জনপ্রিয়তা থাকলে কুমিল্লার মতো তারা জিতবে না হলে হারবে। তবে বিএনপি কি চায় এখনো সেটাই তারা ঠিক করতে পারেনি। নানা ঝামলে আছে তাদের ভেতর। মির্জা ফকরুল একটু নরম ভাষায় কথা বললে দলের অন্যরা তাকে দালাল বলে। ৩০০ আসন দিলেও বিএনপিকে খুশি করতে পারবে না। তারা নেতিবাচক দলে পরিনত হয়েছে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, দলের কেউ অপরাধ করলে আমরা ছাড় দেই না। এখনো আমাদের এক মন্ত্রীর ছেলে জেলে আছে, একজন এমপি জেলে আছে। কোনো ধর্ষক ছাত্রলীগের আমাদের প্রয়োজন নেই।
প্রধানমন্ত্রী আমাকে বলেছেন, নারায়ণগঞ্জের বিষয়ে তদন্ত কমিটি করতে। তদন্ত চলছে। যে অপরাধী তাকে শাস্তি পেতেই হবে।

গুম-খুনের বিষয়ে বলেন, বিএনপির সুইডেন প্রবাসী এক নেতা দেশের এই গুম-খুন আগুন সন্ত্রাস সিন্ডিকেটের নেতা। এই বিএনপি যদি ক্ষমতায় আসে দেশ আবার সেই বিভীষিকাময় অন্ধকারে পতিত হবে। দেশ ধাবিত হবে পাকিস্তানের দিকে।

বিচারপকি শামসুল হুদার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির। আলোচনায় অংশ নেন অধ্যাপক মুনতাসির মামুন, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সবাপতি মোহাম্মাদ শফিকুর রহমান, মেজর জেনারেল (অব.) আবদুর রশিদ, সাংবাদিক শাহীন রেজা নূর প্রমুখ।

শাহরিয়ার কবির উপস্থাপিত প্রবন্ধে বলা হয় সারাদেশে ৫০টি নির্বাচনী এলাকা আছে যেখানে সংখ্যালগু নির্যাতনের পরিমাণ বেশি। নির্বাচনের আগেই এ বিষয়গুলো নিয়ে ইসির সঙ্গে আলাপ করে পদক্ষেপ নেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির জামায়াত ও মৌলবাদের আশ্রয়দাতা প্রার্থীদের বিরুদ্ধে নির্বাচনী প্রচারণা চালাবে বলে বলা হয়। অনুষ্ঠানে সিরাজগঞ্জে নির্যাতিতা পূর্নিমার মা বাসনা রানী যিনি সাহস করে মামলা করেছিলেন তাকে পুরস্কৃত করা হয়।


মন্তব্য