kalerkantho


‘বিএনপিকে দুর্নীতিবাজ বলার আগে আয়নায় নিজেদের মুখ দেখুন’

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১ মার্চ, ২০১৮ ২০:৪৩



‘বিএনপিকে দুর্নীতিবাজ বলার আগে আয়নায় নিজেদের মুখ দেখুন’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিএনপিকে দুর্নীতিবাজ বলার আগে আয়নায় ‘নিজেদের মুখ’ দেখতে হবে। এসময় তিনি আওয়ামী লীগ সরকার আমলে মেগা প্রকল্প থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট হওয়ার অভিযোগও করেন।

বৃহস্পতিবার এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, ‘গতকাল প্রধানমন্ত্রী সংসদে আপত্তিকর কিছু কথা বলেছেন। একটি বৃহত্তম রাজনৈতিক দল যারা প্রতিষ্ঠার পর থেকে পাঁচবার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে জনগণের ভোটে। যারা জনগণের সঙ্গে সব সময় থেকেছে, বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে, সংসদীয় গণতন্ত্র নিয়ে এসেছে, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা দিয়েছে-এই দলটিকে তিনি (প্রধানমন্ত্রী) বলেছেন যে, দুর্নীতি পরায়ন দল।’

‘বলার আগে আয়নায় তো নিজের মুখ দেখতে হবে। বলার আগে মানুষ কী বলে আপনাদের সম্পর্কে সেটা জানতে হবে তো। এই যে মেগা প্রজেক্ট, এসব মেগা প্রজেক্টগুলোতে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট হয়ে যাচ্ছে। ব্যাংকগুলো থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করে  নিয়ে গেছে। আর দেশের মানুষ খুব ভালো করে জানে যে, কারা দুর্নীতি করছে, কারা দুর্নীতি করছে না।’

দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত হয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাবন্দি হওয়ার পর পদাধিকারবলে তার ছেলে ও একই মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত তারেক রহমান দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হয়েছেন।

বুধবার সংসদে বক্তব্যে এই প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, দুর্নীতিই এখন তাদের নীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

তার এই বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে আওয়ামী লীগের সমালোচনা তুলে ধরেছেন বিএনপি মহাসচিব ফখরুল। এ প্রসঙ্গে প্রয়াত সাংবাদিক এ বি এম মূসা ও লেখক বদরুদ্দীন উমরের বক্তব্য উদ্ধৃত করেছেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘অনেক দিন আগে অত্যন্ত শ্রদ্বেয় সাংবাদিক এ বি এম মূসা সাহেব বলেছিলেন যে, আওয়ামী লীগ দেখলেই বলবা ‘চোর’।’

‘বদরুদ্দীন উমর সাহেব কয়েক দিন আগে কলকাতায় একেবারে নাম ধরে বলেছেন, চোর। আপনারা জানেন কি না জানি না, কলকাতা এয়ারপোর্টে সাংবাদিকরা জিজ্ঞাসা করেছে, নাম ধরে বলেছেন যে ‘চোর’।’

যে মামলায় দণ্ডিত হয়ে খালেদা জিয়া কারাগারে আছেন, সেই জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট মামলা দায়ের হয়েছিল সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে। সে সময় বিএনপি প্রধানের চেয়ে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ‘বেশি’ মামলা হলেও সেগুলো পরে প্রত্যাহার করার কথা উল্লেখ করেন ফখরুল।

তিনি বলেন, ‘দেশনেত্রীর বিরুদ্ধে চারটা মামলা ছিল, আর প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ১৫টা। এই ৪টা মামলা রেখে দিয়েছেন আর ১৫টা মামলা তুলে নিয়েছেন।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ওই সময় আওয়ামী লীগ কর্মীদের বিরুদ্ধে সাড়ে সাত হাজার মামলা থাকলেও ক্ষমতায় আসার পর সেগুলো তুলে নেওয়া হয়।

‘আর আমাদের বিরুদ্ধে সেই মামলা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এখন ৭৮ হাজারে। আমাদের আসামি সংখ্যা এক মাস আগে পর্যন্ত হিসাব নিয়েছি ১৮ লাখের উপরে। গোটা কারাগারগুলো ভরে গেছে বিএনপির নেতা-কর্মীদের ভিড়ে। কেন করছেন এটা? একটি মাত্র কারণ, তারা যদি বাইরে থাকে, মাঠে থাকে, জনগণের সঙ্গে থাকে তাহলে আগামী নির্বাচনে আপনাদের (আওয়ামী লীগ) কোনো আশা নেই।’

আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে ‘যেনতেনভাবে জোর করে ক্ষমতা দখলের’ জন্য বিরোধী নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের মুক্তির দাবিতে দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের তৃতীয় তলার কনফারেন্স লাউঞ্জে জাতীয় গণতান্ত্রিক অধিকার মঞ্চের উদ্যোগে এই সভা হয়।

সংগঠনের সভানেত্রী নিপুন রায় চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটি সদস্য মির্জা আব্বাস, ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লাহ বুলু,  স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক শিরিন সুলতানা, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

লিফলেট বিতরণে ফখরুল
জাতীয় প্রেস ক্লাবের আলোচনা সভা শেষে বেলা ১টার দিকে নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পথচারী, রিকশাচালক ও দোকানদারের হাতে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি সম্বলিত লিফলেট তুলে দেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসও তার সঙ্গে ছিলেন।

খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে বৃহস্পতিবার লিফলেট বিলির কর্মসূচি ছিল বিএনপির। এতে কেন্দ্রীয় নেতা আমিরুজ্জামান শিমুল, ফরহাদ হোসেন আজাদ, শেখ শামীম, হায়দার আলী লেলিন, আবদুল মতিন প্রমুখ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

১১ মার্চ জনসভার প্রস্তুতি
পুলিশের অনুমতি না মেলায় খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে ২২ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় জনসভা করতে ব্যর্থ বিএনপি আগামী ১১ মার্চ  এই কর্মসূচি পালনের উদ্যোগ নিয়েছে।

বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে আগামী ১১ মার্চ রোববার আমরা বিএনপি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা করব। এজন্য আমরা পুলিশ কমিশনার ও গণপূর্তের প্রধান প্রকৌশলীকে চিঠি দিয়েছি।’

‘তারা  একুশে ফেব্রুয়ারি ও বইমেলার দোহাই দিয়ে আমাদের জনসভা করতে দেয়নি, যেটি  ২২ ফেব্রুয়ারি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে হওয়ার কথা ছিল। সেজন্য আবারও আমরা পুলিশকে অবহিত করেছি যে, আমরা ১১ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা করব।’

খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আগামী ১০ মার্চ খুলনায় বিভাগীয় সমাবেশের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে খুলনার সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল  ইসলাম মনজুর বরাত দিয়ে জানান তিনি।

এদিন ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বিএনপির লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে পুলিশ চড়াও হয়ে নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করেছে বলে অভিযোগ করেন রুহুল কবির রিজভী।


মন্তব্য