kalerkantho


সোয়েটার এখন স্বাধীন

হালকা শীতে পরার জন্য অনেকের পছন্দ সোয়েটার। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পোশাকটির ধরন-ধারণেও বদল ঘটেছে। শুধু অন্য পোশাকের ওপর নয়, এখন স্বতন্ত্র পোশাক হিসেবেই পরা যাচ্ছে বৈচিত্র্যময় সোয়েটার। লিখেছেন আতিফ আতাউর ও পিন্টু রঞ্জন অর্ক

৮ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



সোয়েটার এখন স্বাধীন

মডেল : জেসমিন জুঁই ও শাকিল ছবি : কাকলী প্রধান সাজ : অরা বিউটি লাউঞ্জ পোশাক : জেন্টল পার্ক

শিশিরভেজা সকালে হিমহিম ভাব থাকে, আবার সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসতেই ঠাণ্ডা হাওয়াটা গায়ে লাগে—এখন আবহাওয়ার ধরনটাই এমন। এ সময়  হালকা-পাতলা, ফ্যাশনেবল পোশাক পরতে পছন্দ করেন ফ্যাশনপ্রেমীরা। এ ক্ষেত্রে সোয়েটার হতে পারে আদর্শ পোশাক। শার্ট, টি-শার্ট কিংবা পাঞ্জাবির ওপর অনায়াসে চাপিয়ে নেওয়া যায় বলে অনেকেরই এটি পছন্দের পোশাক।

 

সোয়েটারে নতুন রূপ

শুরুতে শুধু ছেলেদের সোয়েটার মিলত বাজারে। এখন ছেলে-মেয়ে উভয়ের জন্য হরেক রকম সোয়েটার পাওয়া যাচ্ছে। ডিজাইনাররাও মেতেছেন নানা নিরীক্ষায়। আগে সোয়েটার ছিল অনেকটা পরগাছার মতো—মানে অন্য আরেকটা পোশাকের ওপর পরতে হতো। সোয়েটারকে এবার সেই দায় থেকে মুক্তি দিয়েছেন ডিজাইনাররা ! এখন স্বতন্ত্র পোশাক হিসেবেই পরা যাচ্ছে। সাদাফ ডিজাইন কালেকশনের ডিজাইনার এস এম মাঈন উদ্দিন ফুয়াদ বলেন, ‘শীত পোশাক হিসেবে অনেক দিন ধরেই সোয়েটারের চল। পোশাকটি নিয়ে নতুন করে নিরীক্ষা হচ্ছে। ফ্যাব্রিকস, রং, বোতাম, পকেটের ব্যবহারসহ নানা পরিবর্তনে সোয়েটারও এখন বর্ণিল। প্রিন্ট, স্ট্রাইপ, নানা রকম ওয়াশ ও নতুন মোটিফ সংযোজনে সোয়েটারের চেহারা বেশ পাল্টে গেছে।’ জেন্টল পার্কের চিফ ডিজাইনার শাহাদাৎ চৌধুরী বাবু জানালেন, গ্ল্যামার ও আভিজাত্যের সম্মিলনে সোয়েটার ফ্যাশন ট্রেন্ডে স্থান পায় আশির দশকে। নকশায় নানা সংযোজন-বিয়োজন ও প্যাটার্নের বৈচিত্র্যের কারণে প্রতিনিয়ত বদলাচ্ছে পোশাকটি। এবার পাতলা কাপড়ে তৈরি বাহারি সোয়েটার এনেছি আমরা। এসব সোয়েটারে কুল ডাই ও এসিড ওয়াশ ব্যবহার করা হয়েছে। এ ছাড়া নেকলাইন নিয়ে বেশ কিছু নিরীক্ষাধর্মী কাজ করেছি।’ তিনি আরো জানান, অন্য আরেকটা পোশাকের ওপর নয়, ফুলস্লিভ এসব সোয়েটার পরা যাবে স্বতন্ত্র পোশাক হিসেবেই। টি-শার্টের মতো করেই জিন্স কিংবা গ্যাবার্ডিন প্যান্টের সঙ্গে একটা সোয়েটার গায়ে চাপালেই হলো। শরীরও উষ্ণতা পাবে, ফ্যাশনটাও ঠিকঠাক থাকবে। শীতের প্রকোপ বেশি হলে সোয়েটারের সঙ্গে একটা মাফলার কিংবা কানটুপি পরে নিলেই চলবে।’

বৈচিত্র্যময় নকশা

সোয়েটারের ডিজাইন, সেলাই, কলার, বোতাম, পকেটের ব্যবহারেও আছে নতুনত্বের ছোঁয়া। ছেলে-মেয়ে উভয়ের হাফস্লিভ ও ফুলস্লিভ—দুই রকম সোয়েটারই পাবেন। আগের বছরগুলোতে প্লেইন সেলাইয়ের সোয়েটার দেখা গেছে। এই সেলাই থাকে ভেতরের দিকে। বাইরের দিক থেকে বোঝা যায় না। এবার সেলাইটা বাইরের দিকে দেওয়া হয়েছে, দেখেই বোঝা যায়। শাহাদাৎ চৌধুরী বলেন, ‘তরুণদের অনেকেই ফ্যাশনে নতুন কিছু পছন্দ করে। তাদের কথা ভেবেই গলায় ও কাঁধের সেলাইয়ে এমন নতুনত্ব আনা হয়েছে। আর অফিসগামীদের জন্য আগের মতো প্লেইন সেলাইয়ের সোয়েটারই থাকছে।’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস বিভাগের ছাত্র আরশাদুল হক বলেন, ‘বন্ধুর পরনে এই ডিজাইনের সোয়েটার দেখে ভেবেছিলাম, ও বুঝি ভুলে উল্টো করেই পরেছে। পরে দেখি না, ঠিকই আছে। নতুন এই ডিজাইনটা দারুণ লেগেছে।’ জেন্টল পার্কের যমুনা ফিউচার পার্ক শাখার সহকারী ব্যবস্থাপক মাহফুজুল ইসলাম জানালেন, নতুন ডিজাইনের এই সোয়েটারগুলো এরই মধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছে।

ক্যাটস আইয়ের পরিচালক ও ডিজাইনার সাদিক কুদ্দুস জানান, গলার ডিজাইনের ওপর নির্ভর করে বিভিন্ন ধরনের সোয়েটার পাওয়া যায়। ছেলেদের জন্য আছে ভি নেক, টারটল নেক, ক্রু নেক, গোল গলা প্রভৃতি। মেয়েদের জন্য তৈরি সোয়েটারে লং পুলওভার, রোল নেক বা গাউন স্টাইলই বেশি জনপ্রিয়। ফ্যাব্রিকস হিসেবে উলের পাশাপাশি সুতি, ভিসকস, ডেনিম কিংবা খাদি কাপড়ও ব্যবহৃত হচ্ছে। আড্ডায়, পার্টিতে বা বেড়াতে  গেলে সবচেয়ে আরামদায়ক হতে পারে ক্রু নেক বা  গোল গলার সোয়েটারগুলো। যেকোনো ট্রাউজার বা জিন্সের সঙ্গে মানিয়ে যায় এটি। শীতের প্রকোপ বেশি হলে টারটেল নেক বা হাই নেক সোয়েটার পরতে পারেন।’ জিপার ও বোতামের নকশায়ও রয়েছে বৈচিত্র্য। মেটাল ও প্লাস্টিক দুই রকমের বোতাম নজরে পড়েছে। মেয়েদের সোয়েটারে মেটালের বোতামের ব্যবহার বেশি। প্লেটের পাশাপাশি দুই হাতার ওপরের অংশে পর পর তিনটি করে বোতাম ব্যবহার করে নকশায় বৈচিত্র্য আনা হয়েছে। এ ছাড়া আছে জিপারের সোয়েটার।

 

সোয়েটারে পকেট

সোয়েটারের ডিজাইনে নতুন করে এবার বুক পকেট যোগ  হয়েছে। এসব পকেটেও রয়েছে আলাদা আলাদা স্টাইল ও নকশার কাজ। যাঁদের বুক পকেট পছন্দ নয়, তাঁদের জন্য রয়েছে হ্যান্ড পকেটের সোয়েটার। কোনো সোয়েটারের নিচের দিকে দুই পাশে দুটি পকেট আছে। কোনোটায় আবার শুধু ডান পাশে একটা পকেট। এসব পকেটের কোনোটা খোলা, কোনোটায় আবার জিপারের ব্যবহার আছে।

 

রঙের বাহার

শীতে প্রকৃতিতে একটা রুক্ষ ভাব থাকে। তাই এ সময়টায় বর্ণিল পোশাক পরতে পছন্দ করেন ফ্যাশনপ্রেমীরা। তাই রঙের ক্ষেত্রেও বৈচিত্র্য দেখা যাচ্ছে সোয়েটারগুলোতে। একরঙা সোয়েটারের পাশাপাশি কয়েকটি রঙের সমন্বয়ে বর্ণিল সোয়েটারও মিলছে। রঙের ক্ষেত্রে সাদা, নীল, মেরুন, নেভি ব্লু, ছাই, বাদামি, অফহোয়াইট, সাদা-কালোর শেড, দুই রঙের মিশ্রণ, স্ট্রাইপ, চেকসহ গাঢ় রং বেশি চলছে। বিশ্বরঙের কর্ণধার ও ডিজাইনার বিপ্লব সাহা বলেন, ‘শীতে সবাই কালারফুল পোশাক পরতে পছন্দ করেন। সেদিকটা বিবেচনা করে লাল, নীল ও হলুদের মতো উজ্জ্বল রঙের পাশাপাশি পার্টিতে পরার জন্য গাঢ় রঙের সোয়েটারও এনেছি।

 

কোথায় পাবেন, কেমন দাম

জেন্টল পার্ক, ক্যাটস আই, এক্সট্যাসি, ইয়েলো, প্লাস পয়েন্ট, বিশ্বরঙ, লা রিভ, সেইলর, রিচম্যান বিভিন্ন ব্র্যান্ডের শোরুমে পাবেন এসব সোয়েটার। স্লিভলেস সোয়েটারগুলোর দাম পড়বে ৫৫০ থেকে ১৮৫০ টাকা পর্যন্ত। ফুলস্লিভ সোয়েটারের দাম ৮৫০ থেকে ২৯৫০ টাকার মধ্যে। নিউ মার্কেট, নূরজাহান মার্কেট, গুলিস্তান, মিরপুরের বিভিন্ন মার্কেটে পাবেন ৩৫০ থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে।


মন্তব্য