kalerkantho


কাজের মানুষ

কাজে হতাশা

৮ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



কাজে হতাশা

সৈয়দ আখতারুজ্জামান, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, ব্রিজ ইনস্টিটিউট অব ট্রেনিং অ্যান্ড কনসালট্যান্সি

সময় এক রকম যায় না। কখনো ভালো, কখনো মন্দ। এমন সময় আসে, যখন ভালো লাগে না কিছুই। কোথাও স্বস্তি মেলে না। চাকরি, মিটিং, কাজ, আড্ডা, গল্প, ঘরসংসার কিছুই ভালো লাগে না। জীবনের ওপরই চলে আসে বিতৃষ্ণা। আবার এ রকম অবস্থায় বেশি দিন চলা যায় না। কিছু একটা সমাধান দ্রুত দরকার। এ রকম পরিস্থিতি সামলাতে আপনার জন্য রইল ১০ পরামর্শ।

 

এক.

কারণ বিনা কিছুই হয় না। কেন হতাশা, তার কারণ অবশ্যই আছে। হয়তো আপনি দীর্ঘদিন একটানা একঘেয়ে কাজ করে হাঁপিয়ে উঠেছেন। হয়তো কাজ শেষে আপনার প্রশংসা মেলে না। তাই আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন সব কিছুর ওপর থেকেই। তাই অফিসের কারণে যদি বিষাদগ্রস্ত হয়ে থাকেন, তাহলে কয়েক দিন অফিস থেকে দূরে থাকুন। ছুটি নিন। পরিবারের সঙ্গে দু-এক দিনের জন্য হলেও কোথাও বেড়াতে যান। আপনার আনন্দময় অবসর দরকার।

 

দুই.

হতাশার সমাধান সহজ নয়। কোনো কোনো সময় বিশ্রাম নিতে বা বেড়াতে যেতেও ইচ্ছা করে না। আর পরিবারসহ বেড়াতে যাওয়া নিতান্ত কম খরচেরও নয়। সে ক্ষেত্রে বাসায়ই সময় কাটাতে পারেন। বই পড়ে, মুভি দেখে সময় কাটাতে পারেন। দেখা করতে পারেন পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে। উদ্দেশ্য একটাই, যা আপনার একঘেয়ে লাগে সেসব থেকে কিছুদিন দূরে থাকা।

 

তিন.

যদি সব কিছুই একঘেয়ে আর বিরক্তিকর লাগে, তাহলে আপনার কাউন্সেলিং প্রয়োজন। একজন মোটিভেশন কাউন্সেলরই আপনাকে যথাযথ সাহায্য করতে পারবেন। এই মোটিভেশন কাউন্সেল হতে পারেন আপনার প্রিয় বন্ধুও। যাঁর কাছে এই যন্ত্রণাময় সময়ের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে পারবেন, যিনি অখণ্ড অবসরে আপনার সমস্যার কথা শুনতে পারবেন এবং আপনাকে সহযোগিতা করতে পারবেন।

 

চার.

অফিসে আপনার এই ভালো না লাগা বিষয়গুলো চেপে না রেখে আপনার বস বা ঘনিষ্ঠ কোনো সহকর্মীর সঙ্গে শেয়ার করতে পারেন। তাঁর পরামর্শ নিতে পারেন। যেহেতু আপনারা একই প্রতিষ্ঠানে, একই পরিবেশে কাজ করেন, তিনি আপনাকে অন্যদের চেয়ে অনেক ভালো বুঝতে পারবেন।

 

পাঁচ.

হতে পারে আপনার জীবনের লক্ষ্য সম্পর্কে সন্দিহান হয়ে পড়েছেন। লক্ষ্য ছাড়া কাজে উৎসাহ পাওয়া অসম্ভব। আপনি হয়তো ভাবছেন, যা করছি কেন করছি, কী হবে এসব করে। কিন্তু ক্যারিয়ারে সফল হতে হলে আপনাকে লক্ষ্য স্থির করতেই হবে এবং বারবার এই লক্ষ্য পরিবর্তন করা যাবে না। মাঝেমধ্যে লক্ষ্য সম্পর্কে এভাবে আপনি সন্দিহান হয়ে পড়লে আপনার সাফল্যের গতি মন্থর হয়ে যাবে। আপনাকে নিজের সঙ্গে অনেকটা যুদ্ধই করতে হবে। প্রয়োজনে নতুন লক্ষ্য স্থির করুন এবং লক্ষ্যে অটল থাকুন।

 

ছয়.

যাঁরা অফিসে প্রচুর কাজের চাপে থাকেন, তাঁরা কাজের চাপ কমে গেলেই হতাশ হয়ে পড়েন। কেউ কেউ আছেন কাজের চাপ না থাকলে কাজই করতে পারেন না। আপনার হতাশার পেছনে এই যদি হয় কারণ তাহলে দ্রুত সিরিয়াস কোনো কাজে নিজেকে জড়িত করুন। কাজ না থাকলে বসের সঙ্গে দেখা করুন। কাজ খুঁজে নিন। কিন্তু নিজেকে কখনোই হতাশ হতে দেবেন না।

 

সাত.

বিশ্বাস করুন আর না-ই করুন, হতাশা একটি সংক্রামক ব্যাধি। হতাশ ব্যক্তিদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন। আপনি নিজে যখন হতাশ, তখন মনে রাখবেন, আপনি অন্যদেরও প্রভাবিত করে চলেছেন।

 

আট.

আপনার ভালো না-লাগা দিনগুলোকে অবহেলা করবেন না। এই মানসিক বিষণ্নতা কাটিয়ে ওঠার জন্য উদ্যোগ নিন। যন্ত্রণা লুকিয়ে রেখে সবার সামনে ভালো থাকার অভিনয় করে যাওয়া আপনার জন্য আরো বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে। বিষণ্নতা, দুশ্চিন্তা, মানসিক অশান্তি থেকে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক পর্যন্ত হতে পারে। সুতরাং সময় থাকতে পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝুন।

 

নয়.

ডায়েরি লেখার অভ্যাস থাকলে আপনার এই বিষাদময় অভিজ্ঞতার কথা ডায়েরিতে লিখতে পারেন। চাইলে ব্লগেও শেয়ার করতে পারেন। লিখতে পারলে আপনার ভেতরটা অনেক হালকা হয়ে যাবে। যেমন—দুঃখের কথা কারো সঙ্গে শেয়ার করলে ভালো লাগে। আপনি এক ধরনের স্বস্তি অনুভব করবেন।

 

দশ.

সবচেয়ে ভালো হয়, আপনার শখের কোনো কাজে যদি সময় দিতে পারেন। হয়তো আপনি একসময় স্ট্যাম্প সংগ্রহ করতেন, সংগ্রহ করতেন কয়েন বা ব্যাংক নোট। অথবা আপনি টবের বাগানে সময় দেন না বহু দিন। এবার নিয়ে বসুন এ ধরনের সব পুরনো কাজ। আশা করি আপনার ভালো লাগবে। ফিরে পাবেন কাজের উৎসাহ।

akhter.bst@gmail.com


মন্তব্য