kalerkantho


রূপচর্চা

জেনে-বুঝে ক্রিম বাছাই

সুস্থ ত্বকের পূর্বশর্ত ময়েশ্চারাইজার—সেটা আমরা সবাই জানি। কিন্তু দিন আর রাতের ময়েশ্চারাইজার আলাদা হবে, আবার বয়সভেদেও ভিন্ন ভিন্ন হতে হয়। কিভাবে ত্বকের ধরন ও বয়স অনুযায়ী লোশন বা ক্রিম বাছাই করতে হবে, সে পরামর্শ দিয়েছেন রূপবিশেষজ্ঞ বীথি চৌধুরী। লিখেছেন আনিকা বিনতে কাশেম

১৫ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



জেনে-বুঝে ক্রিম বাছাই

দিন আর রাতে

দিনের বেলা আমাদের ত্বক সূর্যরশ্মি, দূষণ, মেকআপ, কাজের চাপসহ নানা কিছুর সম্মুখীন হয়। তাই ডে ক্রিমের কাজ মূলত ত্বককে সুরক্ষা দেওয়া। ডে ক্রিমে সাধারণত সানস্ক্রিন হিসেবে এসপিএফ, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও ক্যাফেইন

জাতীয় উপাদান থাকে। ফলে ত্বক দিনভর সতেজ থাকে। দিনের জন্য অন্তত এসপিএস ২০+ আছে এমন ক্রিম বেছে নিন। যেহেতু ডে ক্রিম মেকআপের আগেই দেওয়া হয়, তাই এটি পাতলা হওয়া ভালো, যা সহজেই ত্বক শুষে নিতে পারে। ডে ক্রিম এসপিএফযুক্ত হলে দেওয়ার ১৫-২০ মিনিট পর মেকআপ দিন।

রাতে আমাদের ত্বক শরীরের অন্যান্য অংশের মতোই রিচার্জের মধ্য দিয়ে যায়। দিনে ত্বক যেসব ক্ষতির সম্মুখীন হয় তার পুনরুদ্ধার, সংস্কার ও পুনর্জীবিত করাই নাইট ক্রিমের কাজ। কাজেই নাইট ক্রিম হতে হবে শক্তিশালী এবং ধীরে ধীরে শোষিত হয় এমন উপাদানে তৈরি। ত্বক নিরাময়ের এসব উপাদান সারা রাত ধরে কাজ করে। নাইট ক্রিম সাধারণত ডে ক্রিমের তুলনায় ভারী ও কিছুটা তৈলাক্ত হয়। রাতের ক্রিমের আদর্শ উপাদানগুলোর মধ্যে রয়েছে গ্লাইকোলিক এসিড, হাইয়ালুরনিক এসিড। এগুলো ত্বকে হাইড্রেশন জোগান দিয়ে নির্জীবতা কাটিয়ে আবার সতেজ করে তুলতে সাহায্য করে। বয়স ত্রিশের বেশি হলে অ্যান্টি-এজিং কিংবা রিংকেল বা বলিরেখা থেকে মুক্ত রাখে—এমন ক্রিম বাছাই করুন। রেটিনল, পেপটাইড আছে—এমন ক্রিম এ ক্ষেত্রে বিশেষ উপযোগী। নাইট ক্রিমের আশানুরূপ ফল পেতে রাতে শোবার আগে অবশ্যই ভালোভাবে মুখের ত্বক পরিষ্কার করে নিতে হবে।

 

ত্বকভেদে আলাদা

এবার আসি ত্বকের ধরন অনুযায়ী কিভাবে ময়েশ্চারাইজার বাছাই করতে হবে সে প্রসঙ্গে। প্রথমে নিজের ত্বকের ধরন জেনে নিন। ত্বক পাঁচ ধরনের হতে পারে—তৈলাক্ত, শুষ্ক, মিশ্র, স্বাভাবিক ও স্পর্শকাতর। নরমাল বা তৈলাক্ত হলে ত্বকের লোমকূপ একটু বড় হলে আর মুখ ধোয়ার কিছুক্ষণ পরই মুখে হালকা একটি তেলের স্তর পড়লে সেই ত্বককে তৈলাক্ত ত্বক ধরা হয়। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য অয়েল ফ্রি জেল ধরনের ক্রিম নির্বাচন করতে হবে। এমন ক্রিম, যা ত্বকে পানি ও তেলের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করবে। শুষ্ক ও নির্জীব ত্বকের জন্য দিন আর রাতের ক্রিমে ময়েশ্চারাইজার ও তেলের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে একটু বেশি প্রয়োজন হয়। ত্বকে যদি মৃত কোষের পরিমাণ বেশি থাকে এবং কিছুদিন পর পর ড্রাই-প্যাঁচ দেখা যায়, তাহলে ব্যবহার করতে পারেন আলফা-হাইড্রক্সি এসিডযুক্ত ক্রিম। এই ক্রিম ত্বককে বিশেষ সুরক্ষা দেবে শুষ্ক আবহাওয়া থেকে। ত্বক বেশি শুষ্ক হয়ে গেলে রাতে ভেজা ত্বকে পেট্রোলিয়াম জেলি লাগালে ধীরে ধীরে ত্বক স্বাভাবিক হয়ে আসবে। তৈলাক্ত নয় আবার শুষ্কও নয় অর্থাত্ স্বাভাবিক ত্বকের অধিকারীরা সৌভাগ্যবান। এমন ত্বকে সব ধরনের ক্রিম মানিয়ে যায়। শুধু মুখের টি-জোন তৈলাক্ত এবং বাকি অংশ স্বাভাবিক হলে আপনি মিশ্র ত্বকের অধিকারী। এমন ত্বকে তৈলাক্ত টি-জোনের জন্য আলাদা ক্রিম ব্যবহার করা ভালো। নাক ও কপালের জন্য বেছে নিতে পারেন জেলজাতীয় ক্রিম এবং বাকি অংশের জন্য যেকোনো সাধারণ ময়েশ্চারাইজার। আর স্পর্শকাতর ত্বকের জন্য ক্রিম বাছাই করা খুব মুশকিল। সাধারণত অ্যালোভেরা, গ্রিন টিসমৃদ্ধ ক্রিম স্পর্শকাতর ত্বকের জন্য ভালো। সংবেদনশীল ত্বকে রং ও সুগন্ধি ছাড়া ক্রিম বেছে নিন। তবে কেনার আগে অবশ্যই ত্বকে লাগিয়ে বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে তবেই কিনুন।
 


মন্তব্য