kalerkantho


পিকনিকে মনে রাখুন

শীত এলেই মন উশখুশ করে পিকনিকের জন্য। পারিবারিক কিংবা স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের বনভোজন— যা-ই হোক না কেন, আনন্দের পাশাপাশি মাথায় রাখতে হবে প্রয়োজনীয় জিনিসগুলোর কথাও। নয়তো ঘটবে হরিষে বিষাদ। লিখেছেন পিন্টু রঞ্জন অর্ক

১৫ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



পিকনিকে মনে রাখুন

তালিকা ধরে ব্যাগ গোছান

কোথায় বেড়াতে যাচ্ছেন, সেখানে কত দিন অবস্থান করবেন, তার ওপর নির্ভর করবে সঙ্গে কী কী নেবেন। ইন্টেলিজেন্ট ট্যুরিস্ট এইডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাফওয়ান মাহমুদ বলেন, ‘পাহাড়, সমতল বা সমুদ্র—যেখানেই যান না কেন, ব্যাগভর্তি জিনিস না নিয়ে একান্তই দরকারি জিনিসগুলো নেওয়াই উত্তম। ব্যাগটা কিন্তু আপনাকেই বহন করতে হবে। তাই কী কী লাগতে পারে, তার একটা তালিকা করুন। এরপর টুথপেস্ট, ব্রাশ, গামছা বা তোয়ালে, ক্যাপ, জুতা, বেল্ট ইত্যাদির তালিকা ধরে একেকটা জিনিস ব্যাগে ভরুন। এতে করে দরকারি কোনো কিছু ভুলে ফেলে যাবেন না।’ প্রয়োজনীয় জামাকাপড়, জুতা, কসমেটিকস আলাদা করে প্যাক করুন। এতে স্থানসংকুলান হবে, আবার জিনিসপত্রও এলোমেলো হবে না। ভ্রমণের সময় চাকাযুক্ত ব্যাগ ব্যবহার করতে পারেন। এটি বহন করা সহজ। একটি কাগজে নাম, ঠিকানা ও  ফোন নম্বর লিখে ব্যাগের ভেতর সেঁটে রাখতে পারেন।

সাজ-পোশাক

আমব্রেলার উপদেষ্টা ও ডিজাইনার এমদাদ হক বললেন, ‘ভ্রমণের সময় ঢিলাঢালা পোশাক পরিধান করাই ভালো। তাপনিরোধক, দ্রুত পানি শুকিয়ে যায়—এমন পোশাক বেছে নিন। ভ্রমণের স্থান, পরিবেশ ও সংস্কৃতির বিষয়টিও বিবেচনায় রাখবেন।’ তিনি আরো জানালেন, আবহাওয়া অনুযায়ী পোশাক পরুন। সকালে গরম কাপড় পরে বের হলেন, কিন্তু বেলা বেড়ে রোদ উঠতেই দেখা গেল গরম লাগছে। এ জন্য কয়েক স্তরে পোশাক পরুন। সোয়েটারের নিচে পাতলা টি-শার্ট পরতে পারেন, যাতে পরে সোয়েটার খুলে ফেললেও অসুবিধা না হয়। খুব ভোরে বের হলে মাথার টুপি, হাত ও পায়ের মোজা নিতে পারেন। এই সময়টায় বেড়াতে গেলে গাঢ় রঙের মোটা কাপড়ের তৈরি জামা পরিধান করুন। তবে প্রচুর হাঁটতে হতে পারে—এমন ট্যুরে সাদা রঙের পোশাক পরা ভালো। যদি নদী, ঝরনা বা সাগরে যান, তাহলে গোসলের জন্য বাড়তি পোশাক নেবেন।’ পাহাড়, সমুদ্র কিংবা হাওরে গেলে বাইনোকুলার সঙ্গে রাখতে পারেন।  জুতাটা যেন নরম ও আরামদায়ক হয়। ছেলেদের জন্য কেডস ভালো। মেয়েদের হিল জুতা এড়িয়ে চলাই উত্তম। ভ্রমণে ত্বকের লোমকূপগুলোয় ধুলাবালি জমতে পারে। তাই সঙ্গে নিন ফেসওয়াশ। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে বাঁচতে পরতে পারেন সানগ্লাস। রোদে বের হওয়ার মিনিট ত্রিশেক আগে সানপ্রোটেক্ট লোশন কিংবা ক্রিম ব্যবহার করতে পারেন। ফেসিয়াল টিস্যু, ছোট্ট একটি আয়না, চিরুনি, লোশনের মতো টুকিটাকি জিনিসগুলো নিতে ভুলবেন না।

বসার জন্য চেয়ার

ভ্রমণের স্পটে বসার জন্য নিতে পারেন একটি প্লাস্টিক চাদর বা সুতির কাপড়। তা ছাড়া বাজারে এখন ছোট-বড় বিভিন্ন আকৃতির কাপড়, প্লাস্টিক ও কাঠের তৈরি ফোল্ডিং চেয়ার কিনতে পাওয়া যায়। সেগুলোও নিতে পারেন। কাপড়ের ফোল্ডিং চেয়ার বেশ হালকা। চারটি ধাতব রডের সঙ্গে মোটা কাপড় বসিয়ে তৈরি করা হয় এ ধরনের চেয়ার। ভাঁজ করলে মাত্র চারটি রডের জায়গা দখল করে। ফলে সহজেই গাড়ির এক কোণে রেখে নিয়ে যেতে পারেন। চেয়ার নিতে না চাইলে আছে প্লাস্টিকের টুল।

সোনামণির বিশেষ যত্ন

বনভোজনে সোনামণিদের জন্য চাই একটু বাড়তি যত্ন। তাই তাদের পছন্দের খেলনা যেমন—ব্যাট, বল, গাড়ি, পুতুল নিতে ভুলবেন না। ছোটদের পোশাক এমন হওয়া উচিত, তারা ছোটাছুটি করতে যেন স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। যেহেতু সারা দিনের ঝক্কি, তাই ওদের ডায়াপার সঙ্গে নেওয়া চাই।

সঙ্গে রাখুন দরকারি ওষুধ

দীর্ঘ ভ্রমণে যাওয়ার আগে সঙ্গে দরকারি ওষুধ নিয়ে নিন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক চিকিত্সক ডা. গুলজার হোসেন উজ্জ্বল জানালেন, ভ্রমণে মাথা ব্যথা, এসিডিটি আর ধুলাবালিতে অ্যালার্জি হতে পারে। তাই প্যারাসিটামল, অ্যান্টিহিস্টামিন ও ওমিপ্রাজল গ্রুপের ওষুধ সঙ্গে রাখলে কাজে লাগবে। যাঁরা উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস প্রভৃতি অসুখের জন্য নিয়মিত ওষুধ খান, তাঁরা ওষুধ নিয়ে নিতে ভুলবেন না। ভ্রমণে বমিভাব হলে আদা চিবোতে পারেন। যাঁদের বেশি সমস্যা হয়, তাঁরা গাড়িতে ওঠার আধা ঘণ্টা আগে ডমপেরিডন, মেক্লিজিন বা মেটাক্লোপ্রামাইড-জাতীয় ওষুধ সেবন করতে পারেন। পার্বত্য এলাকায় ভ্রমণের আগেই প্রয়োজনে চিকিত্সকের পরামর্শ অনুযায়ী ম্যালেরিয়া প্রতিরোধক ওষুধ সেবন করে নিতে পারেন। মশা নিধনকারী স্প্রে বা অ্যারোসল, হাতে-পায়ে মাখার জন্য বিশেষ মশা নিবারক ক্রিম ও মশারি ব্যবহার করুন। সেই সঙ্গে নিয়ে নিন একটি ফার্স্ট এইড বক্স। খাওয়ার স্যালাইন, ব্যান্ড এইড, অ্যান্টিসেপটিক এবং পরিমাণ মতো তুলা ও গজ নিয়ে নিন। বিপদে কাজে লাগবে। এ ছাড়া পানির বোতল, বিস্কুট কিংবা চিপসের মতো কিছু শুকনো খাবার রেখে দিতে পারেন। বনভোজন থেকে ফিরতে সাধারণত রাত হয়। তাই ব্যাগে একটি ছোট্ট টর্চলাইটও রাখুন।

আগেই জেনে নিন

যেখানে যাবেন ঠিক করেছেন, তার আশপাশে কী দেখার আছে, কোথায় কোথায় ঘুরবেন, কবে কখন কী করবেন—আগেই খোঁজখবর নিয়ে একটা খসড়া তালিকা তৈরি করুন। পাশাপাশি নিকটস্থ থানা কিংবা ট্যুরিস্ট পুলিশের হেল্প ডেস্ক নম্বর, হাসপাতাল, আবাসিক হোটেল, ব্যাংকসহ সেখানকার জরুরি ফোন নম্বর ও লোকেশন সম্পর্কে তথ্য আগে থেকে সংগ্রহ করে রাখুন। এতে আপনার সময় বাঁচবে, অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির হাত থেকে সহজেই রেহাই পাবেন। কখন কোন হোটেলে থাকছেন, বাড়ির লোকদের জানিয়ে দেবেন এবং ফোন নম্বরটাও। ভ্রমণের সময় গাড়ির নম্বরটাও পরিচিত কাউকে জানিয়ে রাখতে পারেন। জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি সঙ্গে নিতে ভুলবেন না। এখন অনেক হোটেলে জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি ছাড়া রুম ভাড়া দেওয়া হয় না। অবশ্যই একাধিক কপি রাখবেন।

আরো যা কিছু

রওনা দেওয়ার আগে মোবাইল ফোন ফুল চার্জ করে নিন। ফোনের চার্জার নিতে ভুলবেন না। আজকাল স্মার্টফোনের সবচেয়ে বড় সমস্যা চার্জ শেষ হয়ে যাওয়া, তাই সঙ্গে করে একটি পাওয়ার ব্যাংক নিয়ে যেতে পারেন। মানিব্যাগ, ক্রেডিট কার্ড সাবধানে রাখবেন। প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত কিছু টাকা সঙ্গে রাখুন। তবে সব টাকা মানিব্যাগে না রেখে কিছু টাকা অন্য কোথাও রাখা ভালো। একটি কার্ডে আপনার ঠিকানা লিখে রাখবেন। ব্যাগ হারিয়ে গেলে কেউ পেয়ে থাকলে ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। মোবাইলে পর্যাপ্ত ব্যালেন্স ভরে নেবেন। সুন্দর মুহূর্তগুলো ফ্রেমবন্দি করে রাখার জন্য নিতে পারেন ক্যামেরা। ক্যামেরার ব্যাটারি ফুল চার্জ দিয়ে নিন। সঙ্গে অতিরিক্ত ব্যাটারি থাকলে ভালো।
 


মন্তব্য