kalerkantho


আপনার শিশু

শীতে শিশুও ত্বকের সমস্যায়

শীতে শিশুর ত্বকে সাধারণত তিন ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। এগুলো হলো—ত্বক ফাটা, র্যাশ ও খুশকি। এসব সমস্যায় কী করবেন রইল তার উপায় ত্বক ফাটলে

২২ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



শীতে শিশুও ত্বকের সমস্যায়

শীতে প্রকৃতি রুক্ষ ও শুষ্ক থাকে। ফলে ছোট-বড় সবারই ত্বক ফাটার সমস্যা দেখা দিতে পারে। সাধারণত বাচ্চাদের মুখের দু’পাশের ত্বক বেশি ফাটে। এ ছাড়া কারো কারো সারা শরীরের ত্বকেই এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। শোভন স্কিন কেয়ার স্টুডিওর স্বত্বাধিকারী শোভন সাহা জানালেন, সাধারণত ময়েশ্চরাইজারের অভাবে এই সমস্যা দেখা দেয়। এ ক্ষেত্রে গোসলের পর পরই শিশুর ত্বকে আলতো করে বেবি লোশন লাগিয়ে দেখতে পারেন। বেবি লোশনে ভালো কাজ না হলে ভালো মানের বেবি ক্রিম লাগাবেন। ভিটামিন ‘ই’, আমন্ড অয়েল, অ্যালোভেরাসমৃদ্ধ বেবি ক্রিম শিশুর ত্বকের জন্য ভালো। তাই বেবি ক্রিম কেনার আগে ভালোভাবে এই উপাদানগুলো আছে কি না দেখে নিন ।

র্যাশ হলে

বাচ্চাদের ত্বক খুবই স্পর্শকাতর। ফলে নানা কারণে ওদের ত্বকে র্যাশ হতে পারে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক চিকিত্সক ডা. গুলজার হোসেন উজ্জ্বল বললেন, ‘ভাইরাল ইনফেকশন, ডাস্ট কিংবা কোল্ড অ্যালার্জি, ফুড অ্যালার্জির কারণেও ত্বকে র্যাশ হতে পারে। অনেক সময় অতিরিক্ত গরম, ঠাণ্ডা বা অতিরিক্ত আর্দ্র আবহাওয়ায় বাচ্চারা এ সমস্যায় আক্রান্ত হয়।’ তিনি আরো জানালেন, সাধারণত র্যাশ লালচে, শুকনা ও খসখসে হয়ে থাকে। কিন্তু র্যাশের সঙ্গে জ্বর থাকলে দ্রুত চিকিত্সকের শরণাপন্ন হওয়া দরকার। কারণ তা মারাত্মক রোগের পূর্বলক্ষণ হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে জ্বর বা সংক্রমণ ছাড়া র্যাশ সাধারণত ত্বকের কোনো অ্যালার্জি বা প্রতিক্রিয়ার বহিঃপ্রকাশ। যে ধরনের র্যাশই হোক না কেন, তা চুলকানো ঠিক নয়। কারণ বেশি চুলকালে চামড়ায় ক্ষত বা সংক্রমণ হয়। র্যাশ হলে বাচ্চাদের পোশাকগুলো অ্যান্টিসেপটিক মেশানো পানি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে দিতে হবে। অ্যান্টিসেপটিক মেশানো পানিতে গোসল করাতে পারেন। তবে খেয়াল রাখতে হবে, অ্যান্টিসেপটিকের পরিমাণ যেন বেশি না হয়। সাধারণত ৫ লিটার পানিতে ৫ মিলিলিটার অ্যান্টিসেপটিক দিলেই চলবে। এ ছাড়া নিমপাতা সিদ্ধ করে ওই পানি ঠাণ্ডা করে তা দিয়ে গোসল করালেও ভালো ফল পাবেন। হাতের নখ বড় থাকলে তা কেটে দিতে হবে। বড়দের মতো ছোটদের ত্বকে কোনো হারবাল প্যাক ব্যবহার না করাই ভালো। কারণ এতে করে হিতে বিপরীত হতে পারে। শোভন সাহা বললেন, ‘বাজারে র্যাশ প্রতিরোধক ক্রিম ও জেল পাওয়া যায়। সেসব ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে কেনার আগে এসব জেল বা ক্রিমে অ্যালোভেরা, চন্দন, হলুদের মতো প্রাকৃতিক উপাদান আছে কি না তা দেখে নিতে হবে। একজিমা হলে কোনোভাবেই অতিরিক্ত ক্ষারযুক্ত সাবান ব্যবহার করা যাবে না।’ কোনোভাবেই র্যাশ না কমলে দ্রুত ত্বক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

খুশকি হলে

অতিরিক্ত ঠাণ্ডার কারণে অনেক অভিভাবকই শীতে শিশুকে গোসল করানো থেকে বিরত থাকেন। এর ফলে শিশুর মাথার ত্বকে খুশকির সমস্যা দেখা দিতে পারে। শীতে শিশুকে নিয়মিত গোসল করানো ভালো। সম্ভব না হলে এক দিন অন্তর গোসল করানো যেতে পারে। নিয়মিত বেবি শ্যাম্পু দিয়ে চুল পরিষ্কার করে দিলে খুশকি চলে যায়। তবে কোনোমতেই বড়দের শ্যাম্পু ব্যবহার করা যাবে না। কারণ এসব শ্যাম্পুতে কেমিক্যাল থাকে, যা শিশুর সংবেদনশীল ত্বকের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে। এ ছাড়া নরম কাপড় দিয়ে আলতো করে ঘষে দিলে শিশুর মাথার স্কাল্প চলে যাবে।


মন্তব্য