kalerkantho


কাজের মানুষ

কাজ নিজের, সুনাম অন্যের

আপনার পুরস্কার পেয়ে যায় অন্য কেউ। কাজের দিকে নজর দেওয়ার আগে এবার কিছুটা সময় দিন নিজের দিকে। আর দেখুন কিভাবে নিজের কাজের পুরস্কার নিজেই রাখতে পারেন। আপনার জন্য রইল দশ পরামর্শ।

২২ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



কাজ নিজের, সুনাম অন্যের

সৈয়দ আখতারুজ্জামান, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ব্রিজ ইনস্টিটিউট অব ট্রেনিং অ্যান্ড কনসালট্যান্সি

এক.

আপনার কাজের সুনাম কার কার কাছে চলে যেতে পারে, তাঁদের তালিকা করুন। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাই আপনার কাজের সুফল ভোগ করেন। আপনি কাজ শেষ করেই অন্য কাজে মনোনিবেশ করেন। শেষ করা কাজের রেশ ধরে তখন কাজ শুরু করেন অন্য কেউ আপনার অজ্ঞাতে। আপনি টের পাচ্ছেন না। কারণ আপনি তখন আর পূর্ববর্তী কাজের মধ্যে নেই, অন্য কাজ নিয়ে মগ্ন হয়ে পড়েছেন। সুতরাং খেয়াল করুন, কাজ শেষ হওয়ার পরও কাজটির ফলাফল কোথায় কোথায় প্রভাব ফেলছে।

দুই.

আপনি কি জানেন, কাজ শেষে আপনার জন্য কোনো স্বীকৃতি রাখা আছে কি না? ধরুন, কাজটি ভালোভাবে করতে পারলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কাড়তে পারেন বা পদোন্নতি নির্ভর করছে এই কাজটি কতটা সুষ্ঠুভাবে করতে পারছেন তার ওপর অথবা এই কাজটি আপনার পারফরম্যান্স প্রতিবেদনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে যাচ্ছে। এখন থেকে কাজ শুরু করার আগেই বিষয়গুলোর দিকে নজর দিন।

তিন.

আপনি যে কাজটি করছেন, সেটি আসলে কার জন্য করছেন? প্রতিষ্ঠানের জন্য নিজ উদ্যোগে করছেন নাকি আপনার বস আপনাকে করতে বলেছেন তাই শুধু করছেন? আপনার বস তারপর এই সম্পন্ন কাজের ফলাফল দিয়ে কী করবেন, সে সম্পর্কে আপনার কোনো ধারণা নেই অথবা কাজটি করা কর্তব্য বলে সবাই যেমন করছে, আপনিও তাঁদের একজন হয়ে কাজটি করে যাচ্ছেন দিনের পর দিন, মাসের পর মাস। আসলে কী করছেন আপনি, কেন করছেন, কার জন্য করছেন, কাজের ফলাফল আসলে কে চেয়েছে, মোট কথা—উেস কে আছে, যার আদেশে বা যার প্রয়োজনে আপনি এই কাজটি করছেন তা জানা দরকার।

চার.

আপনার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আরো ভালো সম্পর্ক তৈরিতে মনোযোগ দিন। দেখা হলে কাজ নিয়ে আলাপ করার প্রসঙ্গ তৈরি করুন। আপনার কাজ নিয়ে পরামর্শ বা মতামত জানতে চাইতে পারেন। প্রতিষ্ঠানের চলমান ঘটনা নিয়ে আলাপ করতে পারেন। এই ভালো সম্পর্ক আপনাকে আপনার কাজ সম্পর্কে অন্যকে জানান দেওয়ার দরজা খুলে দেবে। ফলে চাইলেই সহজে কেউ আপনার কাজ নিজের নামে চালানোর সাহস পাবে না।

পাঁচ.

প্রতিদিন অ্যাক্টিভিটি রিপোর্ট লিখুন। মানে প্রতিদিন কী কী কাজ করলেন, তার একটি সংক্ষিপ্ত ও চটজলদি প্রতিবেদন তৈরি করুন। যা পরবর্তী সময়ে অন্তত আপনাকে মনে করিয়ে দেবে যে ওই বিশেষ দিনে আপনি কী কী কাজ করেছিলেন। যদি কখনো আপনি আপনার কাজ নিয়ে অন্য কারো চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন, তাহলে এই পুরনো প্রতিবেদনের ফাইলটি আপনাকে তথ্য সরবরাহ করে জোরালো বক্তব্য প্রদানে অনেক সাহায্য করবে।

ছয়.

ডেইলি অ্যাক্টিভিটি রিপোর্ট লিখে নিজের কাছে রেখে দেবেন না। প্রথমত, সুপারভাইজার বরাবর প্রতিদিন রিপোর্ট জমা দিন। তা না পারলে প্রতি সপ্তাহের শেষে না হলে প্রতি মাসের শেষে একবার জমা দিন। এই কৌশল আপনাকে সহকর্মীদের দিকটা সামলাতে সাহায্য করবে। কিন্তু আপনার বসই যখন আপনার কৃতিত্ব পুরোপুরি নিজে নিতে চাইবেন, তখন? ফলে চেষ্টা করুন, (প্রাসঙ্গিক এবং নিজেকে নিরাপদ রেখে) কিভাবে আপনার কাজের মাসিক প্রতিবেদনের একটা কপি আরো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে পৌঁছানো যায়।

সাত.

শুনতে কিছুটা চটকদার মনে হতে পারে, কিন্তু যেখানে নিজের কাজের পুরস্কার চুরি হওয়ার ভয় আছে, সেসব ক্ষেত্রে নিজের ঢাক নিজে পেটাতে লজ্জার কিছু নেই। তবে এটাও খেয়াল রাখতে হবে, সারাক্ষণ নিজের ঢোল নিজে পেটানো কেউ পছন্দ করে না। তাই আপনাকে নিজের কাজের প্রচার চালাতে হবে সুন্দরভাবে, যাতে দৃষ্টিকটু না লাগে।

আট.

প্রতিষ্ঠানের কোনো অনুষ্ঠানে কী বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ আসে? আপনি কি প্রতিষ্ঠানের মাসিক নিউজ লেটারে বা বনভোজন সাময়িকীতে লেখার সুযোগ পান? উত্তর যদি হ্যাঁ হয়, তাহলে এই সুযোগের সদ্ব্যবহার করুন। আপনার বক্তব্যে সহকর্মী, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উচিত প্রশংসা করুন; কিন্তু কায়দা করে নিজের শ্রেষ্ঠ অবদানগুলোর কথা শৈল্পিক উপায়ে উপস্থাপন করতে ভুলবেন না। যাঁদের জানা প্রয়োজন, তাঁরা জানুক আপনার অবদান কোথায় কোথায় ছিল?

নয়.

চোখের সামনে যদি বস আপনার কাজকে নিজের কাজ বলে দাবি করে বসেন? তাহলে এর প্রতিবাদ করবেন কী করে? আর প্রতিবাদ করলে তো অনেকেরই রোষানলে পড়তে পারেন। সুতরাং আগে থেকেই সতর্ক অবস্থান নিতে হবে। ঊর্ধ্বতন কেউ আপনার আগেই যদি দাবি করে বসে যে অমুক আইডিয়াটা আমার ছিল বা অমুক কাজটি আমি করেছি, তাহলে আপনার তেমন কিছুই করার থাকবে না।

দশ.

যাঁরা আপনার কৃতিত্ব চুরি করতে চান, তাঁরা আপনার এই সব আত্মরক্ষার কৌশল মোটেই পছন্দ করবেন না। যাঁরা আপনার কাজের পুরস্কার চুরি করতে চান, তাঁরা আপনার আশপাশেই আছেন। ফলে আপনার প্রতিরক্ষাব্যূহ তৈরি করতে হবে চতুর্দিকে। নিজে কী ভাবছেন, কী পরিকল্পনা করছেন, কী হতে যাচ্ছে—এ বিষয়ে অকাতরে সবার সঙ্গে আলাপ করা যাবে না। akhter.bst@gmail.com


মন্তব্য