kalerkantho


রকিবুলের মৃত্যুতে শোকে স্তব্ধ সিরাজগঞ্জবাসী

সিরাজগগঞ্জ প্রতিনিধি   

১৪ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



নেপালে বিমান দুর্ঘটনায় প্রকৌশলী রকিবুল হাসানের (২৯) মৃত্যুতে শোকে মুষড়ে পড়েছে সিরাজগঞ্জের চৌহালীবাসী। উপজেলার বাঘুটিয়া ইউনিয়নের বিনানই গ্রামের মৃত রবিউল করিমের ছেলে বহু গুণে গুণান্বিত রকিবুলের মৃত্যু তারা কেউ মেনে নিতে পারছে না।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে সরেজমিন রকিবুলের গ্রামের বাড়ি বিনানই গিয়ে দেখা যায়, তাঁর মৃত্যুর খবরে এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছে তাঁর স্বজনরা। রকিবুলের বড় চাচা বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। স্বজনদের সান্ত্বনা দেওয়ার মতো ভাষাও যেন কেউ খুঁজে পাচ্ছেন না।

রকিবুলের চাচা জানে আলম ও নাসির উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের বংশের প্রদীপ ছিল রকিবুল। তার মৃত্যুর খবর মেনে নিতে পারছি না, খুব কষ্ট হচ্ছে। ছোটবেলা থেকেই সে ছিল ভ্রমণপিপাসু। চরের ধুলাবালিতে বড় হলেও অত্যন্ত মেধাবী রকিবুল ছিল অন্যদের চেয়ে ব্যতিক্রম। সর্বত্র সে তার স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখত।’

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রকিবুল ঢাকায় বিদেশি একটি সফটওয়্যার কম্পানিতে চাকরি করতেন। মা ও স্ত্রীকে নিয়ে থাকতেন মিরপুরের একটি ভাড়াবাসায়। একমাত্র বোন থাকেন আমেরিকায়। ১৫ দিনের ছুটিতে স্ত্রী রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) শিক্ষক ইমরানা কবির হাসিকে নিয়ে নেপালে বেড়াতে যাচ্ছিলেন। দুর্ঘটনায় আহত অবস্থায় স্ত্রী সেখানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

স্থানীয় সম্ভুদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘রকিবুল ছোটবেলা থেকেই বেশ মেধাবী ছিল। প্রথম শ্রেণি থেকে সব ক্লাসেই সে ছিল প্রথম। এলাকার সবার সঙ্গেই ভালো সম্পর্ক ছিল। তার অকাল মৃত্যু আমাদের সবাইকে খুবই ব্যথিত করেছে।’

চৌহালীর বাঘুটিয়া ইউপি চেয়ারম্যান ও সম্ভুদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল কাহহার সিদ্দিকী বলেন, ‘রকিবুল বেশ সজ্জন ও পরোপকারী ছিল। গত বছরের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসীর জন্য সহায়তা নিয়ে স্ত্রীসহ সে পাশে দাঁড়িয়েছিল।’

 



মন্তব্য