kalerkantho


চট্টগ্রাম বন্দরের অবকঠামো উন্নয়ন চায় পোশাক ব্যবসায়ীরা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৩১ জুলাই, ২০১৭ ২১:০৫



চট্টগ্রাম বন্দরের অবকঠামো উন্নয়ন চায় পোশাক ব্যবসায়ীরা

সময়মত পণ্য খালাসের জন্য অধিকসংখ্যক ইয়ার্ড ও জেটি নির্মাণ করে জরুরীভিত্তিতে চট্টগ্রাম বন্দরের অবকাঠামো উন্নয়নের দাবি জানিয়েছে পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ।  

সংগঠনের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, পোশাক তৈরির উপকরণ বোঝাই জাহাজকে পণ্য খালাসের জন্য দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে বন্দরে। পণ্য খালাস করতে না পারায় কন্টেইনার ভাড়া বাবদ বন্দর ও জাহাজ কোম্পানিতে অতিরিক্ত জরিমানা দিতে হচ্ছে। এর থেকে উত্তোরণের জন্য পর্যাপ্ত হ্যান্ডলিং ইক্যুয়িপমেন্ট এবং অধিকসংখ্যাক জেটি ও ইয়ার্ড নির্মাণ করে বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

সোমবার রাজধানীর বিজিএমইএ কার্যালয়ে ‘চট্টগ্রাম বন্দরে পোশাক শিল্পের আমদানিকৃত মালামাল খালাস ও রপ্তানি পণ্য জাহাজীকরণে জটিলতা এবং পোশাক শিল্পখাতের সার্বিক পরিস্থিতি বিষয়ক' এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

সিদ্দিকুর রহমান বন্দরের অদক্ষ কর্মকর্তাদের অন্যত্র সরিয়ে দেওয়ার আহবান জানান। তিনি বলেন,এসব অদক্ষ কর্মকর্তাদের কারণে পণ্য খালাসে দেরি হচ্ছে। তবে চট্টগ্রামসহ সকল স্থল ও নৌবন্দরের কাস্টমস স্টেশন আমদানি-রফতানির কাজে ২৪ ঘন্টা খোলা রাখার সরকারের সিদ্ধান্তকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

বন্দরের দ্রুত সেবা না পাওয়ার কারণে সময়মতো রফতানি পণ্য পাঠানো যাচ্ছে না উল্লেখ করে এই ব্যবসায়ী নেতা বলেন, অনেক ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে আর্থিক মাশুল দিয়ে উড়োজাহাজেও পণ্য রফতানি করছি। টানা আড়াই মাসের বেশি সময় ধরে বন্দরে জাহাজ জট চলমান থাকার পরিস্থিতির সাথে এখন যুক্ত হয়েছে জাহাজীকরণ জটিলতা। রফতানি কন্টেইনার না নিয়েই জাহাজের বন্দর ছেড়ে যাওয়ার ঘটনা,যা এর আগে ঘটেনি।

এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে বিদেশী ক্রেতারাও সময়মতো পোশাক পাবে না। আর এর মাশুল দিতে হবে আমাদের রফতানিকারকদেরকে। ক্রেতারা ভারত, ভিয়েতনাম, ইথিওপিয়া ও মিয়ানমারের মতো দেশে তাদের অর্ডার সরিয়ে নিতে পারেন বলে তিনি আশংকা প্রকাশ করেন।  

তিনি সিসিটি বার্থে বিকল ২টি গ্যাংট্রি ক্রেন দ্রুত মেরামত করে এর অপারেশনাল কার্যক্রম শুরু করার দাবি জানান।  

সিদ্দিকুর রহমান বলেন, কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ইক্যুয়িপমেন্টসমূহ জরুরী ভিত্তিতে সরকারীভাবে ক্রয়ের ব্যবস্থা করা অথবা বেসরকারী খাত থেকে হলেও ভাড়া নিয়ে বর্তমান সংকট মোকাবেলা করা সম্ভব। বন্দরের চলমান প্রবৃদ্ধিকে সামনে রেখে সক্ষমতা বাড়ানোর কন্টেইনার ইয়ার্ড সম্প্রসারণে জরুরী ভিত্তিতে ২৬ একর পশ্চাৎ সুবিধাদিসহ পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মাণ কাজ শুরু করতে হবে।  

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ফারুক হাসান, পরিচালক মোহাম্মদ নাসির প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।


মন্তব্য