kalerkantho


অর্থনীতি সমিতির দ্বিবার্ষিক সম্মেলন বৃহস্পতিবার

আর্থিক খাতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশংকা : বারকাত

* সঠিক তদারকি হলে ৫০ শতাংশ ব্যাংক বন্ধ হয়ে যাবে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ ডিসেম্বর, ২০১৭ ২৩:৪৪



আর্থিক খাতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশংকা : বারকাত

আবুল বারকাত। ফাইল ছবি

বাংলাদেশে আর্থিক খাতের বাজারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশংকা প্রকাশ করেছেন অর্থনীতিবিদ ও বাংলাদেশে অর্থনীতি সমিতির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক আবুল বারকাত। তিনি বলেন, সঠিকভাবে তদারকি করা হলে দেশের প্রায় ৫০ শতাংশ ব্যাংক বন্ধ হয়ে যাবে। এ ছাড়া তিনি মনে করেন প্রচলিত ব্যাকিং খাতের জন্যে এতগুলো ব্যাংকের প্রয়োজন নেই। এটা চাহিদার চেয়ে অনেক বেশি।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর ইস্কাটনে অর্থনীতি সমিতির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সমিতির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক আবুল বারকাত এসব তথ্য তুলে ধরেন। সমিতির ২০তম দ্বিবার্ষিক সম্মেলন উপলক্ষ্যে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে অন্যদের মধ্যে বক্তব্যে রাখেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. জামাল উদ্দিন বক্তব্যে রাখেন।

ড. জামাল উদ্দিন বলেন, অধিকাংশ বেসরকারি ব্যাংকের উদ্যেক্তা সরকারি ব্যাংকগুলো ঋণ খেলাপি। ফলে এই খাতটিতে এমন ধস নামছে। এ ছাড়া আগে মাত্র ৭টি ব্যাংকের তদারকি করতো বাংলাদেশ ব্যাংক। বর্তমানে ৫৭টি ব্যাংকের তদারকি করতে হয়। তাই এর পরিধিও বাড়ানোর সময় হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
ব্যাংকিং ব্যবস্থায় আইনি সংস্কারের প্রয়োজন প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৯৪৭ সালে আইন দিয়ে বর্তমান প্রেক্ষাপটে আর্থিক খাতকে গতিশীল করা সম্ভব নয়। ব্রিটিশ আমলের ওই আইন পাকিস্তান নামটি সংযোজন করে সংস্কার হয়েছে। বাংলাদেশ আমলে সংযোজন হয়েছে বাংলাদেশ নামটি। এমন আইন দিয়ে সুষ্ঠু ব্যাংকিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করা অনেকটা দুরুহ। তাই বর্তমান বাজার অর্থনীতির সঙ্গে এটাকে সমন্বয় করতে হবে।

অদৃশ্য হাতের কারণে বাজারে দ্রব্যূমল্যর দাম বাড়ছে উল্লেখ করে আবুল বারাকাত বলেন, কৃষকের দেয়া ১০/১৫ টাকার পেঁয়াজ আমাদের ১৩০ টাকায় কিনে খেতে হয়। তাই আসন্ন সম্মেলনে দেশের অর্থনীতিতে এমন নীতি নৈতিকতা ঘাটতির খুঁজে দেখা হবে। আমাদের প্রত্যাশা দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে অর্থ শাস্ত্রের নীতি নৈতিকতার বিষয়গুলো উঠে আসবে।

সংবাদ সম্মেলনে বর্তমান শিক্ষা ও আর্থিক খাতের অবক্ষয়ের কথা তুলে ধরে আবুল বারকাত বলেন, শিক্ষাব্যবস্থায় ছাত্র-ছাত্রীদের গোল্ডেন পাওয়া নিয়ে অভিভাবকরা খুশি হলেও দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার গোড়া দূর্বল হয়ে পড়ছে। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করা ছাত্র-ছাত্রীরা বের হয়ে কর্মস্থলে কি ভূমিকা রাখবে এমন আশংকা প্রকাশ করে তিনি বলেন, এ নিয়ে দেশের নীতি-নির্ধারকদের এখনই ভাবা দরকার। সরকারকে এখনই শিক্ষাখাতে বড় ধরনের বিনিয়োগ নিয়ে এগিয়ে আসারও পরামর্শ দেন তিনি। এছাড়া তিনি  দেশের দ্রারিদ্র‌্যতা কমছে বলে উল্লেখ করে বলেন, একইসঙ্গে অন্যায্যতাও বাড়ছে বলে মন্তব্য করেন।


মন্তব্য