kalerkantho


উদ্যোক্তা

লেজার মেডিক্যালের ৯০ ভাগ কর্মীই নারী

শরিফ রনি   

৮ মার্চ, ২০১৮ ১৫:৩৩



লেজার মেডিক্যালের ৯০ ভাগ কর্মীই নারী

লেজার মেডিক্যালের উদ্যোক্তা ডা. জাহানারা ফেরদৌস (ঝুমু খান)

রাজধানীর নারীদের কাছে সৌন্দর্যচর্চায় এখন জনপ্রিয় নাম লেজার মেডিক্যাল। এই প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার থেকে শুরু করে নিম্নস্তর পর্যন্ত ৯০ শতাংশই নারী। আবার এখানে সেবা নিতে আসেন তাঁদেরও বেশির ভাগই নারী। ২০০৩ সালের দিকে নিজের সঞ্চয় এবং জমি বন্ধক রেখে লেজার মেডিক্যাল সেন্টার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তিনি। যাত্রা শুরুর পর এই প্রতিষ্ঠানে ২০০ জনের কর্মসংস্থান হয়েছে যাঁদের প্রায় সবায় নারী। সম্প্রতি কালের কণ্ঠকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লেজার মেডিক্যাল সেন্টার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. জাহানারা ফেরদৌস (ঝুমু খান) তাঁর উদ্যোক্তা জীবনের পথচলার কথা জানান।

তিনি বাংলাদেশের লেজার মেডিক্যালের প্রবর্তক। ‘নিউ লুক নিউ লাইফ’ স্লোগানে বাংলাদেশে প্রথম লেজার চিকিৎসা চালু করেন। রাজধানীর তিনটি অভিজাত এলাকা গুলশান, ধানমণ্ডি ও উত্তরায় লেজার মেডিক্যালে চিকিৎসা করে থাকেন। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের মেধাবী ছাত্রী ছিলেন ঝুমু খান। তিনি বলেন, ‘নারী চাইলে সফলতার সঙ্গে উদ্যোক্তা হতে পারেন। লেজার মেডিক্যাল গড়ে তুলতে আমাকে অনেক ত্যাগ-পরিশ্রম করতে হয়েছে। সফলভাবে প্রতিষ্ঠান চালানোর জন্য আমরা নিবেদিত ছিলাম। তাই ১৪ বছর পর বর্তমানে আমাদের ৩টি শাখা হয়েছে।’

তিনি বলেন, একটা সময় ছিল এ দেশের ব্যাংকগুলো ডাক্তারদের উদ্যোক্তা মনে করত না। আমি লেজার মেডিক্যাল সেন্টারের শুরুর দিকে এই চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছি। যদিও ধীরে ধীরে এই ধারণার পরিবর্তন হচ্ছে। শুরুতে ব্যাংকঋণ পেতে সমস্যা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমি মূলত একজন ডার্মাটোলজিস্ট। ডার্মাটোলজিতে কাজ করার সময় আমি লেজার চিকিৎসার প্রতি আকৃষ্ট হই। আমি ঢাকা মেডিক্যাল থেকে এমবিবিএস করেছি। হলি ফ্যামিলিতে প্রফেসর কবির চৌধুরীর সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পাই। কাজ করতে গিয়ে আমি ত্বকের চিকিৎসায় নানা সীমাবদ্ধতা অনুভব করেছি; সেই সীমাবদ্ধতা থেকে লেজার চিকিৎসার প্রতি আমার উৎসাহ ও আগ্রহ আরো বেড়ে যায়। লেজার চিকিৎসা উন্নত বিশ্বেও আধুনিক চিকিৎসা। সময়ের সঙ্গে প্রতিনিয়ত আমাদের চিকিৎসার আরো আধুনিকায়ন ঘটেছে।

লেজার চিকিৎসার যন্ত্রপাতি আমদানিসহ অন্যান্য বিনিয়োগ মিলিয়ে প্রাথমিকভাবে কেমন মূলধন বিনিয়োগ করতে হয় এ প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘প্রায় ৩ কোটি টাকা। আমরা ইউরোপ-আমেরিকা থেকে সর্বাধুনিক লেজার চিকিৎসা যন্ত্রপাতি আমদানি করি। আমরা যখন বাংলাদেশে লেজার মেডিক্যাল সেন্টার গড়ে তুলি। তখন ভারতেও সবেমাত্র লেজার চিকিৎসা শুরু হয়।’

লেজার চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে তিনি বলেন, আমরা ব্রণ কিংবা লোম নিরাময়ে অ্যাসথেটিক্সের ওপর গুরুত্ব দিই। সহজ করে বললে ব্রণ সেরে গেলেও এর দাগ রয়ে যায়। লেজারে সেটা থাকে না। স্বাস্থ্যগত বিভিন্ন সমস্যায় বিভিন্নভাবে লেজার পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে। ডার্মাটোলজি ছাড়াও ওজন হ্রাস, শেপিং, হরমোনের চিকিৎসা, অ্যালার্জি চিকিৎসা প্রভৃতি বিষয়ে অত্যাধুনিক সময়োপযোগী চিকিৎসা আমরা দিয়ে আসছি।


মন্তব্য