kalerkantho


স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল দেশ

তৈরি পোশাকশিল্পের চ্যালেঞ্জ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৩ মার্চ, ২০১৮ ১৪:১৭



তৈরি পোশাকশিল্পের চ্যালেঞ্জ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ

ছবি অনলাইন

বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার ধারাবাহিকতায় দেশের তৈরি পোশাকশিল্পের চ্যালেঞ্জ নিয়ে এরই মধ্যে জল্পনা শুরু হয়ে গেছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো বলছে, উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেলে জিএসপি সুবিধা হারাবে দেশের পোশাক খাত, এ ক্ষেত্রে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হতে হবে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় এখনই পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বিজিএমইএ নেতারা।

তৈরি পোশাকশিল্প দেশের রপ্তানি বাণিজ্যের সিংহভাগ দখল করে রাখায় এ চ্যালেঞ্জ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে জাতিসংঘের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পেতে ২০২৪ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এরপর আরো তিন বছর বর্তমানের জিএসপি সুবিধা পাবে বাংলাদেশ। এই সুযোগ ২০২৭ সালের পর আর থাকবে না। তবে এখন থেকে পদক্ষেপ নিলে ২০২৭ সালের পর জিএসপি প্লাস সুবিধা পেতে পারে বলে রবিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। এ সময় মন্ত্রী সরকারের তরফ থেকে জিএসপি প্লাস প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন। যদিও ইউরোপীয় ইউনিয়ন দক্ষিণ এশিয়ায় পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কাকে জিএসপি প্লাস সুবিধা দিলেও ভারতকে এই সুবিধা দেয়নি।

স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পরে বাংলাদেশের সামনে যেসব চ্যালেঞ্জ আসবে সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বিশ্ববাজারে রপ্তানির প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানো। কারণ বিভিন্ন দেশে এলডিসি হিসেবে যে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার রয়েছে, তা আর থাকবে না। বাংলাদেশ বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি করলেও তৈরি পোশাক খাত থেকে মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ ভাগের বেশি আসে। আর পোশাকের সবচেয়ে বড় বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) বাংলাদেশ অগ্রাধিকারমূলক বাজার প্রবেশাধিকার সুবিধা পায়। বর্তমানে দেশের তৈরি পোশাক ইউরোপীয় ইউনিয়ন, দক্ষিণ আফ্রিকা, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, রাশিয়ার মতো প্রায় ৪০টি দেশে জিএসপি (জেনারালাইজড সিস্টেম অব প্রেফারেন্স) সুবিধা পায়। এই সুবিধা ক্ষেত্র বিশেষে বিনা শুল্ক থেকে শুরু করে অপেক্ষাকৃত কম শুল্কে পণ্য রপ্তানির সুযোগ পায়; কিন্তু উন্নয়নশীল দেশের তকমা পেয়ে গেলে এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে তৈরি পোশাক খাত।

একই সঙ্গে এলডিসি উত্তরণ পর্যায়ে এবং পরবর্তী সময়ে রপ্তানি আয় বাড়াতে পণ্য ও বাজার বহুমুখীকরণের বিকল্প নেই। আগামী ১০ বছর বহুমুখীকরণের উদ্যোগ জোরদার করা সরকারের অন্যতম কাজ হওয়া উচিত বলে মনে করেন ব্যবসায়ী নেতারা।


মন্তব্য