kalerkantho


জমে উঠেছে চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা

রাশেদুল তুষার, চট্টগ্রাম   

৩১ মার্চ, ২০১৮ ১৫:০৫



জমে উঠেছে চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা

ফাইল ফটো

চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স আয়োজিত বাণিজ্যমেলা হয়ে ওঠেছে নগরবাসীর বিনোদনকেন্দ্র। প্যাভিলিয়নগুলোর নির্মাণশৈলীর নান্দনিকতা দিয়েছে বাড়তি আকর্ষণ। ২৩ মার্চ একদিনেই ৯০ হাজার দর্শকের সমাগম ঘটে মেলায়। আন্তর্জাতিক হলেও বিদেশি স্টলের দৈন্যতা এবং আন্তর্জাতিক মোড়কে মূলত দেশীয়দের আধিপত্য মেলার আভিজাত্যকে কিছুটা হলেও ম্লান করেছে।

২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের সরকারি ছুটির দিনে মেলায় প্রবেশের মুখেই নতুনত্বের শুরু। এবারের প্রবেশপথ সাজানো হয়েছে কর্ণফুলী টানেলের আদলে। প্রবেশপথ দিয়ে মেলা প্রাঙ্গণে ঢুকতেই সামনে নজরে পড়বে আবুল খায়ের গ্রুপের স্টারশিপের প্যাভিলিয়ন। প্রতিবারের মতো এবারও স্টারশিপের প্যাভিলিয়ন ছিল থিমনির্ভর। এবারের থিম বন্যপ্রকৃতি। এর ঠিক পরেরটিই আকিজ গ্রুপের। এটি গ্লাস দিয়ে ঘেরা আর কারিগরী বৈচিত্র্যে নজর কাড়ে সহজেই। হাতিল, পারটেক্স, সজিব করপোরেশন, ইউনিলিভার, ইস্পাহানির প্যাভিলিয়নগুলোর নকশাগত নান্দনিকতা দারুণভাবে নজর কেড়েছে মেলায় আগত দর্শনার্থীদের।

গত কয়েকবছরের মতো এবারও থাইল্যান্ড আছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার থিম কান্ট্রি হিসেবে। থাইপণ্য নিয়ে একটি প্যাভিলিয়ন ছাড়াও আন্তর্জাতিক পণ্যের সমাহারের জন্য রয়েছে আরও তিনটি প্যাভিলিয়ন। মোট ২৬টি প্যাভিলিয়নসহ এবারের বাণিজ্য মেলায় স্টল রয়েছে মোট ২৩৪টি।

তবে এবারের আন্তর্জাতিক মেলায় মূলত আরএফএল (রংপর ফাউন্ড্রি লিমিটেড) গ্রুপের প্রাধান্য চোখে পড়ার মতো। মেলার ২৬টি প্যাভিলিয়নের পাঁচটিই আরএফএল পণ্যের। এছাড়া আরএফএল পণ্য নিয়ে রয়েছে আলাদা আরও বেশ কয়েকটি স্টল। প্যাভিলিয়নের অভিজাত লেনের শেষদিকের টানা পাঁচটি প্যাভিলিয়নে আরএফএল গ্রুপের প্রাণ, আরএফএল, বেস্ট বাই, ভিশন এবং ইজি বিল্ডের শোরুম। মগ, বদনা থেকে শুরু করে ফার্নিচার, নিত্যব্যবহার্য পণ্য, খাদ্যপণ্য, কমোড, বেসিন, বাথটাব, ইলেকট্রনিক্স পণ্য হেন কোনো আইটেম নেই যা আরএফএলের শোরুমগুলোতে নেই। মেলায় আগত দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে তাই আরএফএল প্যাভিলিয়ন।

কথা হয় আরএফএল প্যাভিলিয়নের ইনচার্জ রুহুল ইমতিয়াজের সঙ্গে। শুধু তাঁর প্যাভিলিয়নেই আড়াই হাজার আইটেম প্লাস্টিক পণ্যের সমাহার ঘটেছে। তিনি গতবার মেলায় থাকার অভিজ্ঞতা থেকে বললেন, ‘এবার দর্শনার্থী ও বিকিকিনি গতবছরের তুলনায় অনেক ভালো। বিক্রিত পণ্যের মধ্যে বসার টুলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি।’

তবে আরএফএলের প্যাভিলিয়নে এক ক্রেতা পণ্যের ছাড় নিয়ে প্রশ্ন তুললেন। নতুন করে বাড়তি দামের স্টিকার লাগিয়ে সেখান থেকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন আগ্রাবাদের হাজিপাড়া থেকে আসা শ্যামলী আক্তার। অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে রুহুল ইমতিয়াজ বলেন, ‘এটা একেবারেই অবাস্তব। কারণ আরএফএল পণ্যের দাম যেকোনো শোরুমে গেলেই জানা যায়। আমরা মেলা উপলক্ষে সব পণ্যে ১০ শতাংশ এবং বিশেষ কিছু পণ্যে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিচ্ছি।’

মেলায় পিএইচপি ফ্যামিলি এসেছে তাদের সংযোজিত প্রোটন কার নিয়ে। মেলায় প্রোটন ব্র্যান্ডের প্রোটন সাগা ও প্রোটন প্রিভি মডেলের গাড়ি দুটি প্রচারণার জন্য প্রদর্শন করা হচ্ছে। মেলা উপলক্ষে দুটি গাড়িতে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ৫০ হাজার টাকা ছাড় দেওয়া হচ্ছে। ছাড়ের পর ১৬০০ সিসির প্রোটন প্রিভি গাড়িটির মূল্য ধরা হয়েছে ২৫ লাখ টাকা। এছাড়া প্রোটন সাগা গাড়িটির মেলা উপলক্ষে মূল্য ১৮ লাখ টাকা। সঙ্গে রয়েছে তিন বছরের ওয়ারেন্টি ও পাঁচটি ফ্রি সার্ভিসিং। প্রোটনের স্টলে কথা হয় পিএইচপি অটোমোবাইলের উপ-মহাব্যবস্থাপক (হেড অব সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং) এস এম শাহিনুর রহমানের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘মেলায় আমরা এসেছি মূলত গাড়ির প্রচারণার জন্য। দর্শনার্থীদের ব্যাপক আগ্রহ আমাদের কার দুটি নিয়ে। মেলায় এর মধ্যেও ৩টি গাড়ি বিক্রি এবং ৫টি গাড়ির বুকিং কনফার্ম করা হয়েছে। ক্যাশ টাকার পাশাপাশি লঙ্কাবাংলা, আইপিডিসি, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক এবং সিটি ব্যাংক থেকে কিস্তিতে গাড়ি কেনার সুযোগ রয়েছে আগ্রহীদের জন্য।’

নগরের রেলওয়ে পলোগ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত মেলাটি ব্যবসায়ীদের কাছে চট্টগ্রামবাসীর কাছে পণ্যের প্রসার ও প্রদর্শনের একটি বড় সুযোগ। নগরবাসীর বেড়ানোর উপলক্ষ আর বাড়তি পাওনা এক জায়গায় সব পণ্য দেখার সুযোগ।

আন্তর্জাতিক ধ্যান-ধারণা নিয়ে শুরু হয়েছিল চট্টগ্রাম চেম্বারের বাণিজ্যমেলা। কিন্তু গত কয়েক বছরে বিদেশিদের অংশগ্রহণ কমতে শুরু করেছে। গত ১০ বছর ধরে থাইল্যান্ড মেলার থিম কান্ট্রি। অথচ এবার মেলায় থাই প্যাভিলিয়নে কোনো থাই বিক্রেতাকে তাদের পণ্য প্রদর্শন করতে দেখা যায়নি। বরং দেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে থাইপণ্য নাম দিয়ে নিজেদের পণ্য বিক্রি করতে দেখা গেছে। একই অবস্থা বিদেশিদের জন্য নির্ধারিত প্যাভিলিয়নের অন্য স্টলগুলোতে।

মেলায় চেম্বারের তথ্যকেন্দ্র থেকে জানানো হয়, এবার থাইল্যান্ড ছাড়াও ইরান, ভারত ও ভুটানের স্টল রয়েছে। অথচ বিদেশি প্যাভিলিয়ন ঘুরে কোনো ভুটানী স্টল চোখে পড়েনি। একজন মাত্র ইরানিকে দেখা গেছে একটি স্টলে। আর পাকিস্তানি স্টল না থাকলেও বিদেশি প্যাভিলিয়নে উর্দুভাষী বিক্রেতা ছিল চোখে পড়ার মতো।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এসব উর্দুভাষী বিক্রেতারা মূলত চট্টগ্রামের শেরশাহ, ঝাউতলা এবং ঢাকার মিরপুরে বসবাসকারী আটকেপড়া পাকিস্তানি।

তবে মেলা প্রাঙ্গণে চট্টগ্রাম চেম্বারের অস্থায়ী অফিসের তথ্যকেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা শওকত বিন হায়াত মাহমুদ দাবি করেন, ‘বিদেশি স্টলের সবকটি প্রকৃত অর্থেই বিদেশিদের দ্বারা পরিচালিত।’


মন্তব্য