kalerkantho


অগ্নিকাণ্ডে বছরে পাঁচ হাজার কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১ এপ্রিল, ২০১৮ ১৩:২৩



অগ্নিকাণ্ডে বছরে পাঁচ হাজার কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি

ছবি অনলাইন

বিভিন্ন অগ্নিকাণ্ডে প্রতি বছর শিল্প-কারখানা, দোকানপাট, গোডাউন, আবাসিক স্থাপনা ও যানবাহনের ক্ষয়ক্ষতি হয়। এতে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকার মূল্যবান মালামাল নষ্ট হয়।

অগ্নিকাণ্ডে গড়ে প্রতিবছর দেশে ২৩৩ জন মারা যায়। আহত হয় প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ। আর মালামাল ভস্মীভূত হয় গড়ে চার হাজার ৮৩৪ কোটি টাকার।

ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আলী আহম্মেদ খান এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য তুলে ধরেন। গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে ইলেকট্রনিকস সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইএসএসএবি) উদ্যোগে এ সংবাদ সম্মেলন হয়।

মো. আলী আহম্মেদ খান জানান, গত ছয় বছরে সারা দেশে প্রায় ৮৮ হাজার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় মারা গেছে এক হাজার ৪০০ জন। এতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৯ হাজার কোটি টাকারও বেশি। এসব অগ্নিকাণ্ডের মূল কারণ হচ্ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতার অভাব।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ইএসএসএবির প্রেসিডেন্ট মো. মোতাহের হোসেন খান। তিনি জানান, সংগঠনের পক্ষ থেকে এ বছর পঞ্চমবারের মতো ইন্টারন্যাশনাল ফায়ার সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি এক্সপো-২০১৮-এর আয়োজন করা হচ্ছে। আগামী ৫ থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এই প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। এবারের প্রদর্শনীতে ৩০টি দেশের খ্যাতিমান ফায়ার সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি প্রতিষ্ঠান অংশ নেবে। এই এক্সপোতে মোট স্টল থাকবে ৬০টি। মেলার কো-পার্টনার ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ এবং এনএফপিএ। ৫ এপ্রিল সকাল সাড়ে ১০টায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান খান কামাল প্রধান অতিথি হিসেবে মেলার উদ্বোধন করবেন।

ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক বলেন, দেশে সংঘটিত বেশ কয়েকটি বড় অগ্নিকাণ্ডের পর রপ্তানিমুখী শিল্প-কারখানার বেশির ভাগে অগ্নি নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে ব্যক্তিমালিকানাধীন অনেক ভবন ও প্রতিষ্ঠান এখনো পিছিয়ে আছে। সম্পদ ও নিরাপত্তার স্বার্থে অগ্নি নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা সবার নৈতিক দায়িত্ব। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরো সচেতন হতে হবে। তিনি আরো বলেন, সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতা অনেক বেড়েছে। অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনতে প্রতিবছর স্কুল, কলেজের শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানের অন্তত দেড় লাখ কর্মীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া প্রতিটি উপজেলায় ফায়ার স্টেশন স্থাপন করা হচ্ছে। রাজধানী ও বিভাগীয় শহরগুলোতে বহুতল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। এসব ভবনের অগ্নি নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে ভবন মালিককেই উদ্যোগ নিতে হবে।

 


মন্তব্য