kalerkantho


যুক্তরাষ্ট্র-চীন পাল্টাপাল্টি শুল্কারোপে উদ্বেগ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৭ এপ্রিল, ২০১৮ ১৫:০৩



যুক্তরাষ্ট্র-চীন পাল্টাপাল্টি শুল্কারোপে উদ্বেগ

ছবি অনলাইন

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপের ‘খেলা’ অব্যাহত রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে চীনা পণ্যে আরো ১০ হাজার কোটি (১০০ বিলিয়ন) ডলারের আমদানি শুল্ক বসানোর হুমকি দিয়েছেন। প্রতিক্রিয়ায় চীন জানিয়েছে, নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় যেকোনো পদক্ষেপ নিতে তারা এতটুকু দ্বিধা করবে না। এ অবস্থায় বিশ্লেষকরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, দুই পরাশক্তির এই বিরোধ অব্যাহত থাকলে বিশ্ব অর্থনীতির বিরাজমান অস্থিরতা আরো ভয়াবহ রূপ নেবে।

দুই দেশের মধ্যকার এই উত্তেজনার সূত্রপাত গত মাসের শুরুতে। ৮ মার্চ এক আদেশে সই করেন ট্রাম্প। তাতে চীনসহ কয়েকটি দেশ থেকে আমদানি করা ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর যথাক্রমে ২৫ ও ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়। জবাবে চীন চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা ১২৮টি পণ্যে নতুন করে শুল্ক বসায়। এসব পণ্যের মধ্যে ওয়াইন থেকে শুরু করে শূকরের মাংসও আছে। পেইচিং বলে, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা শুল্কের ফলে যে ক্ষয়ক্ষতি হতো, সেটা পুষিয়ে নিতে এবং অর্থনীতির ভারসাম্য ধরে রাখতে তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

চীনের এই সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা করে, তারা ছয় হাজার কোটি ডলারের চীনা পণ্যে আমদানি শুল্ক বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চীনের বিরুদ্ধে মেধাস্বত্ব চুরির অভিযোগ তুলে এই সিদ্ধান্ত নেয় তারা।  অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এ সিদ্ধান্তের জবাবে চীনের কর্মকর্তারা জানান, তাঁরাও নতুন করে আরো ১০৬টি মার্কিন পণ্যে আমদানি শুল্ক বসানোর চিন্তা-ভাবনা করছে। এসব পণ্যের মধ্যে সয়াবিনও আছে। উল্লেখ্য, চীন যুক্তরাষ্ট্রের সয়াবিনের সবচেয়ে বড় ক্রেতা।

ট্রাম্পের সর্বশেষ হুমকি : গত বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট এক বিবৃতিতে চীনের বাণিজ্যনীতিকে ‘অবৈধ’ উল্লেখ করে বলেন, ‘তাদের জন্য হাজার হাজার মার্কিন প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। চাকরি হারাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের লাখ লাখ মানুষ।’ চীনের পাল্টা শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তকে ‘অন্যায্য’ অভিহিত করে করে ট্রাম্প বলেন, ‘নিজেদের নীতি সংশোধন না করে চীন উল্টো আমাদের কৃষক ও উৎপাদকদের ক্ষতি করার পথ বেছে নিয়েছে।’ ট্রাম্প আরো বলেন, “চীনের প্রতিশোধমূলক এই সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে আমি ‘ইউএসটিআর’কে (ইউনাইটেড স্টেটস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ) নির্দেশ দিয়েছি, তারা যেন চীনের ওপর অতিরিক্ত আরো ১০ হাজার কোটি ডলার শুল্ক আরোপের সম্ভাব্যতা খতিয়ে দেখে। এটাও খতিয়ে দেখতে বলেছি যে, চীনের কোন কোন পণ্যের ওপর এই শুল্ক বসানো যায়।”

পেইচিংয়ের প্রতিক্রিয়া : দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বলেন, ‘চীন ও যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের দুই পরাশক্তি। তাই দুই পক্ষেরই একে অপরের প্রতি সম্মান দেখানো উচিত।’ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা যুদ্ধ চাই না। তবে বাণিজ্য যুদ্ধে জড়াতে আমাদের কোনো ভয়ও নেই।’ তিনি আরো বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যদি চীন ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে উপেক্ষা করে, তবে আমরাও দেশ ও জনগণের স্বার্থ রক্ষায় যেকোনো পদক্ষেপ নিতে এতটুকু দ্বিধা করব না।’

সম্ভাব্য প্রভাব : যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখলে, ট্রাম্পের এসব পদক্ষেপ তাঁর দলের (রিপাবলিকান) অনেকেই ইতিবাচকভাবে নেননি। তাঁরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, এর জন্য মার্কিনিরাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সংকুচিত হবে তাদের চাকরির বাজার। তাঁরা আরো বলছেন, এর মধ্য দিয়ে অনেক অর্থনৈতিক মিত্র দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক খারাপ হতে পারে। এ ছাড়া সাধারণ ভোক্তাদের কথা মাথায় রেখে শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করতে ট্রাম্পকে আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় খুচরা-বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ‘ওয়ালমার্ট’ ও ‘টার্গেট’। অন্যদিকে ট্রাম্পের সর্বশেষ সিদ্ধান্তকে ‘পাগলামি’ বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিপ্রধান এলাকা হিসেবে পরিচিত নেবরাস্কার রিপাবলিকান সিনেটর বেন সাসে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে সয়াবিন উৎপাদনকারী খামারগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কারণ যুক্তরাষ্ট্র প্রতিবছর যে পরিমাণ সয়াবিন রপ্তানি করে, তার ৬০ শতাংশই চীনে যায়। এ ক্ষেত্রে অতিরিক্তি শুল্ক আরোপ হলে চীনের ব্যবসায়ীরা সয়াবিন আমদানিতে অন্যান্য দেশের দিকে ঝুঁকবেন।



মন্তব্য