kalerkantho


১২ লাখ কোটি টাকার বাজেটের প্রস্তাব অর্থনীতি সমিতির

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৭ মে, ২০১৮ ১৪:৪৯



১২ লাখ কোটি টাকার বাজেটের প্রস্তাব অর্থনীতি সমিতির

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. আবুল বারকাতসহ অন্য অতিথিরা

আগামী ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য ১২ লাখ ১৬ হাজার ৪০০ কোটি টাকার বাজেট প্রণয়নের সুপারিশ করেছেন বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. আবুল বারকাত। গতকাল রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশ বিনির্মাণ’ স্লোগান সামনে রেখে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি আগামী অর্থবছরের বাজেটের এ হিসাব উল্লেখ করেন। এ সময় সমিতি থেকে ৫৬ পৃষ্ঠার একটি বই দেওয়া হয়। এখানে আগামী বাজেট কেমন হওয়া উচিত তা ধারাবাহিকভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে সমিতির সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক ড. জামালউদ্দিন আহমেদ বইটি থেকে বিভিন্ন অংশ পড়ে শোনান। এ সময় সমিতির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সমিতির প্রস্তাবিত বাজেট দেশের ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটের প্রায় তিন গুণেরও বেশি এমন মত জানিয়ে সমিতির সভাপতি হিসাব কষে বলেন, ‘প্রস্তাবিত এ বাজেট দ্রুত সম্প্রসারণশীল বৃহদায়তন বাজেট। এ বাজেটে রাজস্ব আয় থেকে ৯ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা অর্থাৎ মোট বাজেটের প্রায় ৮১ শতাংশের জোগান দেবে সরকারের রাজস্ব আয় এমন প্রস্তাব করছি। সম্মিলিতভাবে সরকারি-বেসরকারি যৌথ অংশীদারিত্ব, বন্ড বাজার, সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ গ্রহণ এবং দেশীয় ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণের মাধ্যমে বাকি অর্থায়নের জোগাড় হবে।’

আবুল বারকাত বলেন, ‘আমাদের প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থায়নে কোনো বিদেশি ঋণের প্রয়োজন হবে না। সুদাসলসহ বৈদেশিক ঋণ থেকে মুক্ত হওয়ার পক্ষে আমাদের অবস্থান।’

রাজস্ব আদায়ের হিসাব উল্লেখ করে সভাপতি বলেন, ‘আয় ও মুনাফার ওপর কর ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রস্তাবিত ৮৫ হাজার ১৭৬ কোটি টাকার ৪.২৭ গুণ বাড়িয়ে ৩ লাখ ৬৪ হাজার টাকা এবং মূল্য সংযোজন কর (মূসক) ৯১ হাজার ২৫৪ কোটি টাকার ১.৬২ গুণ বাড়িয়ে ৩ লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণে প্রস্তাব করছি। আমরা প্রচলিত ছকের বাইরে গিয়ে নতুন কিছু উৎস-বিদেশি নাগরিকদের ওপর কর ৬ হাজার কোটি টাকা, সেবা খাতের ওপর কর ৫ হাজার কোটি টাকা, সম্পদ কর ২৫ হাজার কোটি টাকা, বিমান পরিবহন ও ভ্রমণ কর ৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকা আয়ে কৌশল নির্ধারণে প্রস্তাব করছি।’ দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ, সুশাসন স্বচ্ছতা নিশ্চিতে অর্থপাচার রোধ করতে হবে এমন সুপারিশ জানিয়ে সভাপতি বলেন, ‘আগামী অর্থবছরে অর্থপাচার রোধ থেকে ৩০ হাজার কোটি টাকা এবং কালো টাকা উদ্ধার করে ২৫ হাজার কোটি টাকা আদায়ে প্রস্তাব করছি।’

তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্য খাতের বেহাল দশা। এ খাতের জন্য সমাজে দারিদ্র্য ও বৈষম্য সৃষ্টি হচ্ছে। এ খাতের বরাদ্দ ৮৪ হাজার ৮৫০ কোটি টাকায় উন্নীত করতে প্রস্তাব করছি।

বৈষম্য অসমতা হ্রাসকারী মানবিক উন্নয়ন দর্শন আমাদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের কেন্দ্রীয় দর্শন হওয়া উচিত এমন মত জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বাজেটের মাধ্যমে পাঁচ ধরনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে অর্থনৈতিক সুযোগ, সামাজিক সুবিধাদি, রাজনৈতিক স্বাধীনতা, স্বচ্ছতা ও সুরক্ষার জন্য।’

অঢেল বিত্ত-সম্পদ ও ক্ষমতা পুঞ্জীভূত হয়েছে গুটিকয়েক ধনী ব্যক্তির হাতে এমন তথ্য জানিয়ে সমিতির সভাপতি বলেন, ‘সরকারি পরিসংখ্যানিক অর্থনীতি যাই বলুক না কেন, গবেষণায় বলা হয়েছে, আমাদের দেশের ১৬ কোটি মানুুষের মধ্যে দারিদ্র্যের বহুমুখী মানদণ্ডে ১০ কোটি ৫৫ লাখ মানুুষই দারিদ্র্য-বঞ্চিত, ৫ কোটি ১ লাখ মানুষ মধ্যবিত্ত শ্রেণিভুক্ত, আর অবশিষ্ট ৪৪ লাখ মানুুষ ধনী। বিগত ৩০ বছরে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে ৪ কোটি ৫৫ লাখ। এসব বিবেচনায় রেখেই আগামী বাজেট প্রণয়ন কতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘অনর্থ অর্থনীতি জন্ম দিচ্ছে অর্থহীন সমাজ-সাম্প্রদায়িকতা ও মৌলবাদের অর্থনীতি। সৃষ্টি হয়েছে মূল ধারার অর্থনীতির মধ্যে মৌলবাদের অর্থনীতি। ধর্মের রাজনৈতিকীকরণ অর্থনীতির বন্ধ্রে অনুপ্রবেশ করেছে।’


মন্তব্য