kalerkantho


উদ্যোক্তা

ব্যবসা দাঁড়িয়ে গেল ইতিবাচক স্লোগানে

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১ জুলাই, ২০১৮ ১১:৪৪



ব্যবসা দাঁড়িয়ে গেল ইতিবাচক স্লোগানে

‘লাইফ ইজ গুড’-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা বার্ট জ্যাকব ও জন জ্যাকব

১৯৯০ সালে বার্ট জ্যাকব এবং জন জ্যাকব মজা করছিলেন তাঁরা এমন এক জায়গায় ব্যবসা করবেন, যেখানে এখনো কোনো টি-শার্ট কম্পানি যায়নি। দুই ভাই পৌঁছে গেলেন যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলীয় একটি শহরে। সেখানে নিজেদের করা নানা ডিজাইনের টি-শার্ট বিক্রি করা শুরু করলেন। একেবারে দরজায় দরজায় যেতে লাগলেন। কিন্তু চার বছর পর কোনো অগ্রগতিই দেখা গেল না। ৭৮ ডলারে শুরু করা ব্যবসা আগের জায়গাতেই রয়ে গেল।

বিষয়টি চিন্তায় ফেলে দিল দুই ভাইকে। ‘আমরা ব্যবসা ছেড়ে দেব কি না তাই ভাবছিলাম’—বললেন বার্ট জ্যাকব। ‘কিন্তু তখনই মনে হলো প্রতিদিনের অসংখ্য নেতিবাচক কথা ঠেকাতে আমরা যদি একটি ইতিবাচক কথা বলতে পারি তবে মানুষ সেটা গ্রহণ করতে পারে। বদলে যেতে পারে আমাদের ব্যবসার ভাগ্যও। ফলে আমরা একটি স্লোগান ঠিক করলাম—‘লাইফ ইজ গুড’। আর এই স্লোগানটি আমাদের তৈরি টি-শার্টে লিখে দিলাম।’

তিনি বলেন, ‘বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ করলাম এ স্লোগানটিই আমাদের ব্যবসার অগ্রযাত্রায় মাইলফলক হয়ে উঠল। মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে আমাদের বিক্রি ১০ লাখ ডলার ছাড়িয়ে গেল।’

বর্তমানে আমেরিকায় ‘লাইফ ইজ গুড’ একটি লাইফ স্টাইল ব্র্যান্ডে পরিণত হয়েছে। এ কম্পানির বার্ষিক রাজস্ব প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার। বিক্রি হচ্ছে টি-শার্ট, ঘুমানোর পোশাক এবং বিভিন্ন গৃহসজ্জার পণ্য।

দুই ভাই বার্ট জ্যাকব এবং জন জেকবের বেড়ে ওঠা আমেরিকার অঙ্গরাজ্য ম্যাসাচুসেটসের নিদহ্যামে। ১৯৮৯ সালে তাঁরা প্রথম টি-শার্ট ডিজাইন করেন। বোস্টনের রাস্তায় এবং বিভিন্ন কলেজের আবাসিক হলে ভ্যানে করে বিক্রি করেন। বার্ট এবং জনের বয়স ছিল তখন ২৪ এবং ২১ বছর যথাক্রমে। বার্ট জ্যাকব বলেন, ‘আর্ট করে জীবন নির্বাহ করব এমন ভাবনা নিয়েই আমরা দুই ভাই কাজ করছিলাম। কিন্তু তখন বিশ্বে আর্টের খুব একটা কদর ছিল না, আর টি-শার্টে কারুকাজ তো আরো গুরুত্বহীন। ফলে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে আমাদের। ক্ষুধা-দারিদ্র্যের মুখোমুখি হতে হয়েছে। মনে পড়ে আমরা রাস্তায় ভ্যানে ঘুমিয়েছি, একটি স্যান্ডউইচ খেয়ে দিন কাটিয়েছি। তারপর ইতিবাচক আইডিয়া এবং সেটি প্রচারের উদ্যোগই আমাদের জীবন বদলে দিল।’

১৯৯৪ সালে দুই ভাই জ্যাক নামে হাস্যোজ্জ্বল একটি চরিত্র তৈরি করল এবং ‘লাইফ ইজ গুড’ স্লোগানের পাশাপাশি সেটিকেও টি-শার্টে রাখল। ওই বছরই ম্যাসাচুসেটসের কেমব্রিজের রাস্তায় অনুষ্ঠিত একটি মেলায় ৪৮টি টি-শার্টের সবই বিক্রি হয়ে গেল এক ঘণ্টার মধ্যে। ‘এ ঘটনা আমাদের আরো আশাবাদী করে তুলল। বুঝতে পারলাম মানুষ ইতিবাচক কিছু চায়।’ বললেন জ্যাকব ভাইদ্বয়।

গত বছর আয় কেমন হয়েছে বিষয়টি জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ‘লাইফ ইজ গুড’ কম্পানি। তবে ২০০৭ সালেই তাদের বার্ষিক বিক্রি ১০০ মিলিয়ন ডলার ছুঁয়েছে। ব্যবসা ভালো চলছে বলে জানালেন তাঁরা। কম্পানি প্রতিবছর তাঁদের বার্ষিক মুনাফা থেকে ১০ শতাংশ দান করে দেয় শিশুদের কল্যাণে। এ জন্য গড়ে তোলা হয়েছে ‘লাইফ ইজ গুড ফাউন্ডেশন’।

বোস্টনভিত্তিক এ কম্পানিতে বর্তমানে কর্মীর সংখ্যা ১৭৮ জন। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার আড়াই হাজার স্টোরে বর্তমানে এ কম্পানির পণ্য বিক্রি হয়। এ ছাড়া অর্ডার পেলে আন্তর্জাতিকভাবেও সরবরাহ করা হয়। যদিও ব্যবসা এখন অনেক বড়, বার্ট জ্যাকব বললেন, ‘আমাদের লক্ষ্য আগের মতোই রয়ে গেছে। আমরা মানুষের মাঝে আশাবাদ ছড়িয়ে দিতে চাই। এটা হচ্ছে আমাদের মিশন, যা ব্যবসায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে মনে করি।’ ব্যবসার মাধ্যমে ইতিবাচক কথা প্রচার করে মানুষকে আশাবাদী করে তোলার জন্য বার্ট নানা স্বীকৃতি পেয়েছেন। সিএনএনমানি. ফোর্বস। 



মন্তব্য