kalerkantho


মে মাসে ১০ হাজার ৯৩০ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২ জুলাই, ২০১৮ ১১:২০



মে মাসে ১০ হাজার ৯৩০ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি

ছবি প্রতীকী

বাজেট ঘোষণার পর সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানো হতে পারে, অর্থমন্ত্রীর কথা থেকে এমনই আভাস পাওয়া যাচ্ছিল। এ কারণে ভালো মুনাফা থাকতে থাকতেই অনেকেই জমানো টাকা দিয়ে কিছু সঞ্চয়পত্র কিনতে ব্যাংক, সঞ্চয় ব্যুরো ও ডাকঘরগুলোতে ভিড় শুরু করে। গত মে মাস থেকে এখন পর্যন্ত সঞ্চয়পত্র বিক্রির দীর্ঘ সারি একটি সাধারণ দৃশ্য। মাস শেষে বিনিয়োগের যে তথ্য পাওয়া গেছে, তাও রীতিমতো অবাক করা।

গত মে মাসে সঞ্চয়পত্রসহ সব ধরনের জাতীয় সঞ্চয় স্কিমগুলো থেকে সরকারের নিট ঋণ এসেছে সাত হাজার ৭৯৮ কোটি টাকা, যা দেশের সঞ্চয়পত্র থেকে সরকারের নিট ঋণের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বলে জানিয়েছেন সঞ্চয় অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। এর আগে একক মাস হিসেবে সঞ্চয়পত্রের নিট ঋণের রেকর্ড ছিল ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে। ওই মাসে এ খাতের নিট ঋণের পরিমাণ ছিল পাঁচ হাজার ৪২০ কোটি টাকা।

জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত মে মাসে ১০ হাজার ৯৩০ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয় ব্যাংক, সঞ্চয় ব্যুরো ও ডাকঘরগুলোর মাধ্যমে। এর মধ্য থেকে আগে বিক্রি হওয়া সঞ্চয়পত্রের মূল ও মুনাফা পরিশোধ করে নিট ঋণ দাঁড়ায় সাত হাজার ৭৯৮ কোটি টাকা। এ নিয়ে সদ্য বিদায়ী ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) এ খাতের নিট ঋণ দাঁড়াল ৪৭ হাজার ৮৬১ কোটি টাকায়। তবে ওই সময়ে মোট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছিল ৭৭ হাজার ৫৯২ কোটি টাকার। এর মধ্য থেকে আগে বিক্রি হওয়া সঞ্চয়পত্রের মূল ও মুনাফা পরিশোধ করা হয়েছে ২৯ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা।

২০১৫ সালের মে মাসে সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের সুদ বা মুনাফা গড়ে ২ শতাংশ কমানো হয়। এর পরও এর প্রতিটি স্কিমের মুনাফার হার ১১ শতাংশের ওপরে রয়েছে। বর্তমানে পেনশনার সঞ্চয়পত্রে সর্বোচ্চ ১১.৭৬ শতাংশ, পরিবার সঞ্চয়পত্রে ১১.৫২ শতাংশ, পাঁচ বছর মেয়াদি সঞ্চয়পত্রে ১১.২৮ শতাংশ এবং তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রে ১১.০৪ শতাংশ মুনাফা পাওয়া যাচ্ছে।

ব্যাংক আমানতের সুদের তুলনায় অনেক বেশি মুনাফা থাকায় কয়েক বছর ধরেই সঞ্চয়পত্রের বিক্রি বেড়ে চলেছে। এর ফলে সরকারের সুদব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এ খাতের স্কিমগুলোর মুনাফার হার কমানোর দাবি ছিল বিশেষজ্ঞদের একটি অংশের। অর্থমন্ত্র্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত গত বছরের বাজেট ঘোষণার আগে একবার সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর ইঙ্গিত দেন। এবারও একবার এমন কথা বলেছেন গত মে মাসে। সর্বশেষ গত ৮ জুন বাজেট প্রস্তাব-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার সব সময় এক রকম থাকবে এমন না। এটা দুই-তিন বছর পরপরই পর্যালোচনা করা হয়। এবার এটা পর্যালোচনা করতে একটু দেরি হয়ে গেছে। বাজেটের মাসে অথবা পরের মাসে এটি পর্যালোচনা করা হবে।’

সঞ্চয়পত্রের মুনাফা কমানোর আভাসের পাশাপাশি নতুন সংকট এসে উপস্থিত হয়েছে আমানতের সুদহার কমিয়ে আনা। গত ২০ জুন ব্যাংক পরিচালকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) প্রতিনিধিরা এক বৈঠকে আমানতের সুদের হার কমিয়ে সর্বনিম্ন ৬ শতাংশে নামিয়ে আনার ঘোষণা দেন, যা গতকাল ১ জুলাই থেকেই কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। সব কিছু মিলিয়ে সময়টা এখন সঞ্চয়ীদের জন্য কিছুটা জটিল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, আমানতের সুদহার তুলনামূলক ভালো থাকায় একটা সময় গোটা অর্থবছরেও সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি এক হাজার কোটি টাকাও ছাড়াত না। ২০১২-১৩ অর্থবছরের সঞ্চয়পত্র থেকে নিট ঋণ এসেছিল মাত্র ৭৭৩ কোটি টাকা। তবে ওই অর্থবছর পর থেকেই আমানতের সুদহার কমতে থাকে এবং সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগে উল্লম্ফন দেখা দেয়।

বিদায়ী ২০১৭-১৮ অর্থবছরে মূল বাজেটে ৩০ হাজার ১৫০ কোটি টাকা নিট ঋণের লক্ষ্য থাকলেও পরে সংশোধিত বাজেটে তা বাড়িয়ে ৪৪ হাজার কোটি টাকা করেছে সরকার। তবে অর্থবছরের ১১ মাসে নিট ঋণ সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রাও ছাড়িয়ে যায়।

তবে গোটা অর্থবছরে সঞ্চয়পত্রের রেকর্ড ঋণ এসেছিল ২০১৬-১৭ অর্থবছরে। ওই অর্থবছরে সঞ্চয় স্কিমগুলো থেকে সরকারের নিট ঋণ গ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৯ হাজার ৬১০ কোটি টাকা। অর্থবছর শেষে নিট ঋণ হয়েছিল ৫২ হাজার ৩২৭ কোটি টাকা।

জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শামসুননাহার বেগম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে অনেকেই সঞ্চয়পত্রকে বেছে নিচ্ছেন। এ ছাড়া এ খাতের স্কিমগুলোর মুনাফার হার ব্যাংক আমানতের সুদহারের তুলনায়ও অনেক ভালো। যে কারণে প্রতি মাসেই সঞ্চয়পত্রের বিনিয়োগ বাড়ছে।’



মন্তব্য