kalerkantho


দীর্ঘ ২৭ বছর পর পূর্ণাঙ্গ অবকাঠামো পেল অমর একুশে ভাস্কর্য

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

১৫ এপ্রিল, ২০১৮ ২৩:৫৮



দীর্ঘ ২৭ বছর পর পূর্ণাঙ্গ অবকাঠামো পেল অমর একুশে ভাস্কর্য

ছবি : কালের কণ্ঠ

১৯৯১ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি উদ্বোধনের পর পেরিয়ে গিয়েছিল ২৭টি বছর কিন্তু নকশা অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ অবকাঠামো থেকে বঞ্চিত ছিল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষা আন্দোলনের স্মারক ভাস্কর্য 'অমর একুশে'। অবশেষে দীর্ঘ ২৭ বছর পর বর্তমান প্রশাসনের আন্তরিকতা ও উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অমর একুশে ভাস্কর্যের সংস্কার ও মূল নকশা অনুযায়ী সম্পন্নকরণ করা হলো। রবিবার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম পূণাঙ্গ অবকাঠামোর উদ্বোধন করেন। 

উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম বলেছেন, 'একুশ আমাদের আবেগের বিষয়। একুশের চেতনা আমরা লালন করি। একুশ আমাদের গর্বেরও বিষয়'। উপাচার্য অমর একুশের ভাস্কর্যের শিল্পী চৌধুরী জাহানারা পারভীনের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে  বলেন, 'শিল্পী তাঁর মায়া, মমতা ও স্নেহ দিয়ে মূল নকশা অনুযায়ী ভাস্কর্যটি সম্পন্ন করেছেন। তাঁর অবদান কখনোই ভুলবার নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক, অফিসার, কর্মচারী তাঁর সৃষ্টিকর্মের কথা সব সময় স্মরণ করবেন'। উপাচার্য তাঁর বক্তব্যে অমর একুশের ভাস্কর্য সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করায় সংবাদ প্রতিনিধিদেরও ধন্যবাদ জানান। অনুষ্ঠানে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক শেখ মনজুরুল হক অমর একুশের ভাস্কর্য নির্মাণের ইতিহাস তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে শিল্পী চৌধুরী জাহানারা পারভীন বলেন, 'অধ্যাপক ড. কাজী সালেহ আহমেদ উপাচার্য থাকাকালীন তিনি অমর একুশের এ ভাস্কর্য নির্মাণের আগ্রহ প্রকাশ করলে তাতে কর্তৃপক্ষ অনুমোদন দেন। ১৯৯১ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি উপাচার্য ড. কাজী সালেহ আহমেদ এ ভাস্কর্যটি উদ্বোধন করেন। সেই সময়ে এটি মূল নকশা অনুযায়ী সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। বিগত সময়গুলোতে ভাস্কর্যটির বিভিন্ন অংশে ক্ষতি হয়। এতে এর স্রষ্টা হিসেবে আমি ব্যথিত হই। ফলে আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এর সংস্কার এবং মূল নকশা অনুযায়ী এটি সম্পন্ন করার আগ্রহ ব্যক্ত করি। কর্তৃপক্ষ আমার আগ্রহ সাদরে গ্রহণ করেন এবং সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখেন। ভাস্কর্যটির সংস্কার এবং পুরো নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করতে পেরে আমি যারপরনাই খুশি'।

শিল্পী চৌধুরী জাহানার পারভীন তাঁর বক্তব্যে আরো বলেন, 'একুশের ভাষা আন্দোলনে পুরুষের পাশাপাশি অনেক মহিলাও জীবন দান করেছেন। ভাস্কর্যের মধ্যখানে একজন মহিলা তারই প্রতীক। মহিলা ওপরের দিকে তাকিয়ে আছেন। সন্তান বা ভাই হারানোর শোক মহিলাকে দু:খিত করলেও ঊর্ধ্বাকাশে তাঁর মুখটি সাহসের প্রতীক'। শিল্পী আরো বলেন, 'ভাস্কর্যটির পাদদেশে ৬টি সিড়ি দেয়া হয়েছে। এই ৬ সিড়ি ৬ দফাসহ আমাদের স্বাধীনতা ও মুক্তি আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ের ৬টি সালের স্মারক। ভাস্কর্যটির পাশে পলাশ ফুলের গাছ লাগানো হয়েছে। বাংলার ঋতু বৈচিত্রে পলাশ ফুল ফুটার সময় একুশ আসে। পলাশ গাছটি তারই নিদর্শন'। শিল্পী ভাস্কর্যটির অবয়ব কখনোই পরিবর্তন না করার আহবান জানান। রেজিস্ট্রার আবু বকর সিদ্দিকের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ১৯৯১ সালে উদ্বোধন করা হলেও ভাস্কর্যটির পূর্ণাঙ্গ রুপ না দেওয়া, সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা এবং অবহেলা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে দৈনিক কালের কণ্ঠসহ বেশ কিছু জাতীয় পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। অবশেষে ভার্স্কযটির পূর্ণাঙ্গ রূপ পেল।


মন্তব্য