kalerkantho


জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

চাকরিচ্যুত শিক্ষককে স্বপদে বহালে মানববন্ধন, আজ বিক্ষোভ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

৩০ এপ্রিল, ২০১৮ ০১:২৬



চাকরিচ্যুত শিক্ষককে স্বপদে বহালে মানববন্ধন, আজ বিক্ষোভ

ছবি: কালের কণ্ঠ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাসির উদ্দিন আহমদকে অপসারণের প্রতিবাদে এবং স্বপদে বহালের দাবিতে মানববন্ধন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় সাধারণ শিক্ষার্থীদের একটি অংশ। রবিবার সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধনটি অনুষ্ঠিত হয়। আজ সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ে সকল ক্লাস পরীক্ষা বর্জন, শহীদ মিনারের সামনে অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ এবং উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করবেন বলে জানান শিক্ষার্থীরা।

এর আগে শুক্রবার রাতে, 'স্ট্যান্ড ফর নাসির স্যার-এই যুগের শামসুজ্জোহা' নামে একটি ফেসবুক গ্রুপ খুলে ঐক্যবদ্ধ হন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। গ্রুপটিতে বর্তমানে প্রায় ৩০ হাজার সদস্য রয়েছে। এখান থেকেই শনিবার মানববন্ধন কর্মসূচির ঘোষণা দেয় হয়েছিল। এ ছাড়া অপসারণের বিষয়টি নিয়ে ‘কোটা সংস্কার চাই (সকল ধরনের চাকরির জন্য)’ কোটা সংস্কার আন্দোলনের গ্রুপটিতেও চলছে তুমুল সমালোচনা।

রবিবার সকাল থেকে বৃষ্টি উপেক্ষা করে শিক্ষার্থীরা জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জড়ো হতে থাকে এবং মানববন্ধনে অংশ নেন। শিক্ষার্থীরা বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৭তম সিন্ডিকেট সভায় গবেষণা জালিয়াতির অভিযোগ এনে চাকরিচ্যুত করা নাসির উদ্দিন আহমদ স্যারের উপর অন্যায় করা হয়েছে। এ সময় তারা দাবি করেন, যে অভিযোগের ভিত্তিতে ওই শিক্ষককে চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্রমূলক ও অবৈধ। আর অপসরাণ পরবর্তী রেজিষ্ট্রার কর্তৃক গণমাধ্যমে পাঠানো তথ্য অনেকাংশেই বানোয়াট, ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

মানবন্ধনে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগান সম্বলিত প্ল্যাকার্ড দিয়ে প্রতিবাদ জানান। যাতে স্লোগান ছিল ‘একই প্রশাসনের দুই নীতি, নাসির স্যারের কেন হলো চাকরিচ্যুতি’ ‘লঘুপাপে গুরুদণ্ড সবই ছিল ষড়যন্ত্র’ ‘ষড়যন্ত্র নিপাত যাক নাসির স্যার বহাল থাক’ ‘ছাত্র বন্ধু নাসির স্যার, তার সঙ্গে কেন অবিচার’ ‘শামসুজ্জোহার প্রতিচ্ছবি রুখে দিবে ষড়যন্ত্রের হাতছানি’।

সাবেক এক শিক্ষার্থী রফিকুল ইসলাম। তিনি ১৯৮৮ সালে জগন্নাথ কলেজে পড়তেন। তিনি বলেন, ফেসবুক থেকে জানতে পেরে নিজ দায়িত্বের যায়গা থেকে এখানে এসেছি। স্যারকে ব্যক্তিগতভাবে না চিনলেও বিভিন্ন সময় সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশে থাকতে দেখেছি।

মানববন্ধনে শিক্ষার্থী দিগ্বিজয় ভট্টাচার্য বলেন, নাসির স্যার এমন একজন, যিনি সব সময় শিক্ষার্থীর সঙ্গে ছিলেন। নাসির স্যার শুধু জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শিক্ষক নয়। তিনি বাংলাদেশের সকল শিক্ষার্থীদের পিতা। এ পি এম সোহেল বলেন, নাসির স্যারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে যে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তা বাতিল করে স্বপদে বহাল করতে হবে। দরকার হলে সিন্ডিকেট সভার আহব্বান করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। 

এ সময় শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের গণমাধ্যমে দেয়া বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষীতে বলেন, মাননীয় উপাচার্য মহাদয় বারবার প্রমাণ করতে চাচ্ছেন যে এই অপসারণ ‘কোটা সংস্কার আন্দোলন’ বা নাসির স্যারের শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার কারণে হয়নি। ওনার কাছে প্রশ্ন তাহলে ১ বছর আগের অভিযোগের শাস্তি এখনই কেন হয়েছে?


মন্তব্য