kalerkantho


এক কর্মশালায়ই সাড়ে পাঁচ শ

রবিউল হোসাইন ও মোহাম্মদ মামুন

১৭ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



এক দিনের কর্মশালা হলেও এর পেছনে অনেক দিনের শ্রম ও ঘাম লুকিয়ে আছে। ‘দ্য নেটওয়ার্ক ফর ইন্টারন্যাশনাল ল স্টুডেন্টসের (নিলস) বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের স্বেচ্ছাসেবকরা দিনের পর দিন ফোন করে, ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে এবং নানা জায়গায় গিয়ে আয়োজনটির প্রস্তুতি নিয়েছেন। তাঁর ফলেই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের এ কে খান অডিটরিয়ামে সে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহযোগিতায় হয়েছে দেশের সবচেয়ে বড় আইন বিভাগের ছাত্র-ছাত্রীদের ক্যারিয়ারবিষয়ক এই কর্মশালা। ৫ জানুয়ারির এই আসরে ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর, জগন্নাথ, ঢাকা, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, ব্র্যাক, ইস্ট ওয়েস্ট, নর্থ সাউথ, ডিআইইউ, রাজশাহী, কুমিল্লা, ইসলামী, প্রিমিয়ার, সাউদার্ন, ব্রিটানিয়া, আইআইইউসি (ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি চিটাগাং), কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ছাত্র-ছাত্রীরা। তাঁরা কেউ আত্মীয়ের বাসায়, কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে আবার কেউ  নিলসের কর্মীদের বাড়িতে থেকেছেন।

এত উত্কণ্ঠা আর আগ্রহের এই আসরের শুরু হয়েছিল সকাল ৯টায়। এ কে খান অডিটরিয়ামের সাড়ে ৫০০ আসনের মিলনায়তন তখন কানায় কানায় পূর্ণ। মঞ্চে উপস্থিত প্রধান অতিথি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী, বিশেষ অতিথি আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক এ বি এম আবু নোমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে আছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমি আইন বিভাগের সভাপতি ক্রিস্টিন রিচার্ডসন, বাংলাদেশের বিচার বিভাগকে আলাদা করার আন্দোলনের মূল সূত্রধর এই মামলা দায়েরকারী অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মাসদার হোসেন।

সবার আগে মঞ্চে এলেন নিলসের প্রেসিডেন্ট। তিনি জানালেন এত দিন ধরে তাঁরা কী কী আয়োজন করেছেন। সেগুলোর সবই আজকের মতো আইনের ছাত্র-ছাত্রীদের কর্ম-অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের জন্য। আর ভবিষ্যতেও ল লেকচার সিরিজ, জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে আন্তর্জাতিক আইনি কর্মশালা, লিগ্যাল এইড ও মুট কোর্ট প্রতিযোগিতা থাকবে। এরপর শুরু হলো মূল সেশন। মাসদার হোসেন বললেন, ‘আমি মনে করি, আইনের প্রতিটি ছাত্র-ছাত্রীই একেকজন সামাজিক প্রকৌশলী। ফলে চলমান যেকোনো প্রথা, আইন বা কাঠামো মানুষের জন্য ক্ষতিকর হলে সেটি পরিবর্তনের প্রথম উদ্যোগ তাদেরই নিতে হবে। সে জন্যই আমি সেই মামলাটি করেছিলাম।’ তারপর সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট ও একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের সংবাদ উপস্থাপক মনজুর আল মতিন বললেন, ‘চ্যালেঞ্জ নিতে শেখাই ক্যারিয়ার গড়ে তোলার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।’ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাঈদ আহসান খালিদ জানালেন, আইনের ছাত্র-ছাত্রীদের সত্ ও কর্মঠ হতে হবে। তাঁদের মনে রাখতে হবে, আইনই হলো জীবন এবং জীবনটিই আইন। যাতে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আইনের চর্চা করা সম্ভব হয়। এসব বলার পাশাপাশি তাঁরা তাঁদের জীবনের অভিজ্ঞতার আলোকে ছাত্র-ছাত্রীদের আইনি ক্যারিয়ারের বিভিন্ন তথ্য প্রদান করেন। পাশাপাশি করণীয় সম্পর্কেও জানান। তাঁরা বলেন, ওকালতি তো বটেই, এ ছাড়া ব্যাংক, আইন মন্ত্রণালয়, বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের লিগ্যাল অফিসার হিসেবে কাজ করতে পারেন। এই পেশা একই সঙ্গে স্বাধীন, পাশাপাশি সৃজনশীলও। এরপর ছিল খাবারের বিরতি।

এরপর শুরু হলো প্যানেল আলোচনা। এই প্যানেলে নানা পেশার আইনবিদ ও কর্মকর্তারা ছিলেন। আলোচকরা তাঁদের কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা ছাত্র-ছাত্রীদের সামনে তুলে ধরেন এবং পরে তাঁদের নানা প্রশ্নের জবাব দেন। এত এত মানুষ কাছে পেয়ে প্রশ্ন করতে এতটুকু ছাড় দেননি আইনের ছেলে-মেয়েরা। এত প্রশ্ন, আলোচনা ও গল্পের ভিড়ে কখন যে সময় চলে গেল, কেউ টেরই পেলেন না। বিকেল ৫টায়ই বিশাল এই সবুজ ক্যাম্পাসে সন্ধ্যা নেমে এলো। গল্প করতে করতে সবাই বাড়ি ফিরতে লাগলেন।


মন্তব্য