kalerkantho


চৌকস

প্রগ্রামিং এখন রায়াতের নেশা

খুদে প্রগ্রামার মো. রায়াত চৌধুরী তৈরি করেছে রে-কম্প্রেসার নামের কার্যকরী একটি সফটওয়্যার। তার গল্প শোনাচ্ছেন গাজী খায়রুল আলম

১৭ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



প্রগ্রামিং এখন রায়াতের নেশা

রংপুর জিলা স্কুলের বিজ্ঞান বিভাগের দশম শ্রেণির ছাত্র রায়াত পিএসসি ও জেএসসিতে পেয়েছে জিপিএ ৫। পড়াশোনার পাশাপাশি ছোটবেলা থেকেই গেমিংয়ের নেশা ওর। সময় পেলেই বসে যায় কম্পিউটার নিয়ে। নতুন যেসব গেম আসে, নেট থেকে নামিয়েই খেলা শুরু। একদিন তার গৃহশিক্ষক বললেন, তুমি এত গেমিং না করে প্রগ্রামিং শেখো। এখন অনেক ছাত্র-ছাত্রীই স্কুলপর্যায়ে প্রগ্রামিং শিখছে। রায়াত তখন প্রগ্রামিং কী সেটাই জানত না! শিক্ষক প্রগ্রামিং সম্পর্কে তাকে বিস্তারিত বুঝিয়ে বলেন। রায়াতও আগ্রহী হয়ে ওঠে। এলাকার একটি বিজ্ঞান ক্লাবে ভর্তি হয়ে প্রগ্রামিং শেখা শুরু করে। দিন দিন প্রগ্রামিংয়ে নেশা ঢুকে যায়। অন্যরা যখন অবসর সময়ে বিভিন্ন খেলা নিয়ে ব্যস্ত, রায়াত তখন সময় কাটায় প্রগ্রামিংয়ে। অল্পদিনে শিখে ফেলে প্রগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ, সি/ সি++, ব্যাচ, পাইথন। তার পরই হঠাত্ করেই করে ফেলল আবিষ্কারটা।

একদিন নিজের কম্পিউটারে বসে দেখে, অতিরিক্ত গেম থাকার কারণে হার্ডডিস্কে জায়গা নেই। নতুন কোনো গেম নিতে গেলে পুরনোগুলো ডিলিট করতে হয়। নতুন গেমগুলো বেশি মেগাবাইটের হওয়ায় সমস্যাটি হচ্ছে। ভাবতে শুরু করে কী করা যায়, যাতে সাপও মরল না লাঠিও ভাঙল না। একপর্যায়ে তৈরি করে ফেলল একটি সফটওয়্যার। গেমকে কম্প্রেস করতে খুবই কার্যকর তার তৈরি সফটওয়্যারটি। অর্থাত্ এটা ব্যবহার করা হলে একটি গেম কম্পিউটারে অনেক কম জায়গা দখল করবে। আর এটা তৈরি করে দারুণ সুবিধা হয়ে গেল তার। এর নাম দিল ‘রে-কম্প্রেসর’। বন্ধু ও পরিচিত আইটি বিশেষজ্ঞ বড় ভাইদের দেখাল নিজের তৈরি সফটওয়্যারটি। সবাই ভূয়সী প্রশংসা করল। রায়াত বলে, ‘রে-কম্প্রেসর অনেক কম্প্রেসরের থেকেই বেশি কার্যকরী। এর মধ্যে আমার সফটওয়্যারটি বেশ নামও করেছে।’ যে কেউ ফাইল ফোরামস (http://file forums.com/showthread.php?p=459284) সাইটে ঢুকে এটি ব্যবহার করতে পারবে।

এখন সে দুটি গেম তৈরি করছে। একটির কাজ প্রায় শেষপর্যায়ে। এদিকে রুবিক্স কিউবেও ভারি ওস্তাদ রায়াত। মাত্র ১৫ সেকেন্ডেও রুবিক্স কিউব মিলিয়েছে সে। রায়াত জানায়, সব কাজে মা-বাবা ও পরিচিত বড় ভাইদের যথেষ্ট সাহায্য ও উত্সাহ পায়। স্বপ্ন দেখে একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার।

রংপুরে তাদের একটি বিজ্ঞান ক্লাবও আছে। সেখানে প্রগ্রামিংয়ের ক্লাস নেয় রায়াত। স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে তার জ্ঞানটুকু ভাগাভাগি করে নেওয়ার চেষ্টা করে। অনেক ছাত্র-ছাত্রীই রায়াতের দেখাদেখি প্রগামিংয়ে উত্সাহী হয়ে উঠছে।


মন্তব্য