kalerkantho


টিফিন আওয়ার

মহাঋষি স্কুল

‘মনে করুন, একজন একটা স্কুলে ভর্তি হয়েছে। এখন শিক্ষক যদি ওই ছাত্র কিংবা ছাত্রীকে ধ্যানে বসিয়ে দেয়, তাহলে কেমন হবে? এমন স্কুল কিন্তু সত্যিই আছে। বিস্তারিত জানাচ্ছেন অমর্ত্য গালিব চৌধুরী

১৭ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



মহাঋষি স্কুল

যুক্তরাজ্যের ল্যাংকাশায়ারের মহাঋষি স্কুল আর দশটা স্কুল থেকে একেবারেই আলাদা। এটা এমন এক স্কুল, যেখানে শিক্ষার্থীদের প্রচলিত উপায়ে শিক্ষা দেওয়া হয় হয় না। মেডিটেশনের মাধ্যমে পড়াশোনা করানো হয় এখানে।

এই স্কুলের নামকরণ করা হয়েছে মহাঋষি মহেশ যোগীর নামে। এখানকার শিক্ষাদান পদ্ধতির নাম হচ্ছে ‘চেতনাভিত্তিক শিক্ষা’। শিক্ষার্থীরা এখানে দিনে তিনটি সেশনে ১০ মিনিট করে গভীর ধ্যানে মগ্ন থাকে। তাতেই নাকি তাদের সৃষ্টিশীল বুদ্ধিমত্তার উন্মেষ ঘটে। স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কর্মকর্তাদের দাবি, গভীর জীবনবোধের শিক্ষাপ্রাপ্ত এখানকার ছাত্র-ছাত্রীরা তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি মনোযোগী, ধীরস্থির আর বুদ্ধিমান হয়ে গড়ে ওঠে। ১৯৮৬ সালে মাত্র ১৪ জন শিক্ষার্থী নিয়ে মহাঋষি স্কুলের যাত্রা শুরু। পরের কয়েক বছরের মধ্যে এটি দেশের সেরা স্কুলগুলোর একটির মর্যাদা পেয়ে যায়। ২০০৯ সালে স্কুলের শিক্ষার্থীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৭০। এর মধ্যে আছে চার থেকে ১৬ বছর বয়সের শিক্ষার্থীরা।

২০১১ সালে স্কুলটি আরো ২৪টি স্কুলের সঙ্গে সরকারি অনুদান পায়, এখন আর শিক্ষার্থীদের কোনো ফি দিতে হয় না। ফলে বাড়ছে ছাত্র-ছাত্রীসংখ্যা। ওই বছরই স্কুলে শিক্ষার্থীসংখ্যা পৌঁছে ১৩৫ জনে। মাধ্যমিক পরীক্ষাগুলোতে এই স্কুলের শিক্ষার্থীদের পাস করার হারও প্রায় শতভাগ। অস্ট্রেলিয়া আর যুক্তরাষ্ট্রেও এই স্কুলের শাখা আছে। শুধু তা-ই নয়, ২০১৪ সালের মধ্যে যুক্তরাজ্যেই আরো দুটি শাখা খোলা হয় মহাঋষি স্কুলের। যেখানে ১১ থেকে ১৮ বছর বয়সীদের শিক্ষাদান কার্যক্রম চলছে।

মহাঋষি স্কুলের শিক্ষার পদ্ধতি হচ্ছে, শুরুতেই পড়ানোর বিষয়টি অনেকগুলো চার্টের মাধ্যমে ভাগ করে নেওয়া হয়। প্রতিটি চার্ট একেক বিষয়বস্তুর একেকটি অংশ ব্যাখ্যা করে। এভাবে চার্টভিত্তিক শিক্ষাদানের ফলে শিক্ষার্থী যেকোনো অংশের সারবত্তা খুব অল্প সময়ে ধরতে পারে। পরিশেষে সবগুলো চার্টের সারবস্তু সম্মিলিতভাবে উপস্থাপন করলে শিক্ষার্থীরা খুব সহজেই সব অংশের মধ্যে যোগসূত্র খুঁজে পায়। সেই সঙ্গে তিন দফা মেডিটেশন করার ফলে তাদের মস্তিষ্কও অনেক বেশি কর্মক্ষম থাকে—এমনটাই স্কুলের সঙ্গে জড়িতদের দাবি।

তবে সবাই যে মহাঋষি স্কুলের ভক্ত তা কিন্তু নয়। ২০১২ সালে যুক্তরাজ্যের একদল বিজ্ঞানী ও গবেষক ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ানকে লেখা এক খোলা চিঠিতে এই স্কুলকে দেশের শিক্ষাপদ্ধতির জন্য বিপজ্জনক আখ্যা দেন। ওই বছরই যুক্তরাজ্যের শিক্ষা মন্ত্রণালয় এই স্কুলের জরিমানা করে। অভিযোগ, তারা জাতীয় শিক্ষাক্রমের সঙ্গে সংগতি রেখে ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষা দিচ্ছে না। অবশ্য স্কুল কর্মকর্তাদের ভাষ্য—প্রয়োজনীয় উপকরণের অভাবেই এমনটা হয়েছে।


মন্তব্য