kalerkantho


ভবনের অভাবে গাছের নিচে পাঠদান

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি    

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ১৬:২৬



ভবনের অভাবে গাছের নিচে পাঠদান

বিদ্যালয়টির একটি মাত্র ভবন ছিল। পাঁচ বছর আগে তাও পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়।

ছোট একটি টিনের ঘরে চলে দাপ্তরিক কাজ। শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলে গাছের নিচে। একটু বৃষ্টি হলেই শিক্ষার্থীদের ছুটি। এসব কারণে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। দিন দিন কমে যাচ্ছে শিক্ষার্থীদের সংখ্যা।

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার ১১৭ নম্বর নলুয়া ফিডার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৯০ সালে এই বিদ্যালয়ে নির্মাণ করা হয় চার কক্ষ বিশিষ্ট একটি পাকা ভবন। কয়েক বছর যেতে না যেতই ভবনটির ছাদসহ দেয়ালের পলেস্তরা খসে পড়তে থাকে। এরই মধ্যে দিয়ে চলে শিক্ষার্থীদের পাঠদান।

২০১২ সালে ভবনটি পুরোপুরি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এরপর কর্তৃপক্ষ সেটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে।

বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ৭২ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। তবে বছরের শুরুতে শিক্ষার্থী ছিল ৮৫ জন। ভবন না থাকার কারণে শিক্ষার্থীর সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক বিদ্যুৎ কান্তি মজুমদার। তিনি বলেন, "১৬৫ জন শিক্ষার্থী নিয়ে বিদ্যালয়টির যাত্রা শুরু হয়। যতদিন ভবন ছিল ততদিন শিক্ষার্থীর সংখ্যা ঠিক ছিল। বর্তমানে ভবন না থাকার কারণে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাচ্ছে। ভবনের অভাবে আমরা গাছের নিচে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাচ্ছি। একটি সংস্থার নির্মাণ করা টিনের ঘরে আমরা বিদ্যালয়টির দাপ্তরিক কাজ করছি। "

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী প্রমি মজুমদার ও মিলন হালদার বলে, "ভবনের অভাবে আমাদের গাছের নিচে ক্লাস করতে হয়। একটু বৃষ্টি হলেই বাধ্য হয়ে স্যাররা আমাদের  ছুটি দিয়ে  দেন। "

বিদ্যালয়টির পরিচালনা পরিষদের সভাপতি বরেন্দ্রনাথ হালদার বলেন, "শুধু ভবন সংকটই নয়। বিদ্যালয়টিতে শিক্ষক সংকটও রয়েছে। পাঁচটি পদের মধ্যে বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে তিনজন শিক্ষক রয়েছেন। আমরা এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে জরুরি ভিত্তিতে বিদ্যালয়টিতে ভবন নির্মাণ ও শিক্ষক সংকটের সমাধান চাচ্ছি। "

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, "২০১৬ সালে বিদ্যালয়টির ভবন চেয়ে আমরা কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দিয়েছি। আশা করি খুব শিগগির বিদ্যালয়ের জন্য একটি নতুন ভবন পাশ হবে। এ ছাড়া আপাতত পাঠদানের জন্য উপজেলা পরিষদ থেকে দুই লাখ টাকা বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির নিকট দেওয়া হয়েছে। " এই টাকা দিয়ে একটি টিনের ঘর নির্মাণ করে পাঠদানের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান তিনি।


মন্তব্য