kalerkantho


প্রতিকার দাবি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের

ফরিদপুরে ইটভাটায় ক্ষতির মুখে ৫০০ একর জমির ফসল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর    

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ২০:২০



ফরিদপুরে ইটভাটায় ক্ষতির মুখে ৫০০ একর জমির ফসল

ফরিদপুর সদর উপজেলার অম্বিকাপুর গ্রামে ফসলি জমিতে গড়ে ওঠা ওসমান অটো ব্রিকস্ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড নামের একটি ইটভাটা থেকে নির্গত ধোঁয়ায় প্রায় ৫০০ একর জমির ফসল নষ্ট হচ্ছে বলে দাবি ওই গ্রামের কৃষকদের। এরই মধ্যে অনেক জমির ধানের পাতা পুড়ে গেছে জানিয়ে কৃষকরা এ ঘটনার প্রতিকার দাবি করে আজ শনিবার দুপুরে ক্ষতিগ্রস্ত জমির আইলে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।

এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন ওই গ্রামের কৃষক রেজাউল খান, বক্তার হোসেন, সেকেন্দার খান, আকবর খান, শফি শেখ, আবু সাঈদ চৌধুরী বারী প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, ইটভাটাটি এক বছর আগে চালু হওয়ার পর থেকেই  ফসল উৎপাদন বিঘ্নিত হচ্ছে। ওই মাঠে প্রতিবছর কালো হিরা খ্যাত পেঁয়াজ বীজের বাম্পার ফলন হলেও এ বছর তারা আশানুরূপ ফলন হয়নি। একইভাবে পাটের ফলনেও বিপর্যয় ঘটেছে। তারা বলেন, গত কয়েকদিন ধরে ভাটার আশপাশের শতাধিক একর জমির ধান গাছের ওপরের অংশ পুড়ে যেতে শুরু করেছে। বিভিন্ন জমিতে ধানের শীষ বেরুলেও তা চিটায় পরিণত হচ্ছে। এতে  ওই মাঠের প্রায় ৬০০ কৃষকের পাঁচ শতাধিক একর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ইটভাটার ধোঁয়ার কারণে গাছের পাতা পুড়ে যাচ্ছে। ফলদ গাছে ফল ধরছে না।

আর প্রতিদিনই ধোঁয়া নির্গত ছাই উড়ে এসে পড়ছে। এতে শ্বাসকষ্টে ভুগছেন অনেকে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আবুল বাশার বলেন, "ইটভাটার ধোঁয়ার কারণে এমনটি হয়েছে বলেই প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি  জানান, ওই এলাকার মাটির নমুনা সংগ্রহ করে তা পরীক্ষার জন্য  গবেষণাগারে পাঠানো হয়েছে।

ভাটাটি সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব উল্লেখ করে ওসমান অটো ব্রিকস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের পরিচালক মো. মাসুদ রানা এমনটি হওয়ার কোনো সুযোগ নেই দাবি করে বলেন, "অন্য কোনো কারণে জমির ফসল নষ্ট হয়ে থাকতে পারে। " তিনি বলেন, "প্রকৌশলী দিয়ে আবারও পরীক্ষা করানো হবে। যদি ভাটার কারণে ফসল নষ্ট হয়ে থাকে তবে তা নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা অবশ্যই নেওয়া হবে। " 


মন্তব্য