kalerkantho


মন্ত্রীর প্রতিশ্রুতিতেও খুশি হতে পারলেন না ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তরা

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি   

১২ অক্টোবর, ২০১৭ ২০:৫৮



মন্ত্রীর প্রতিশ্রুতিতেও খুশি হতে পারলেন না ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তরা

ছবি: কালের কণ্ঠ

যমুনার পশ্চিম পাড় সিরাজগঞ্জ জেলার এনায়েতপুরে থানায় গত চার বছর ধরে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ভাঙনের কবলে ইতিমধ্যে যমুনা গর্ভে বিলীন হয়েছে এ অঞ্চলের তাঁত কারখানা, ঘরবাড়ি, ফসলি জমিসহ বহু স্থাপনা।

অথচ ভাঙনরোধে পাউবো নেয়নি কার্যকর কোনো ব্যবস্থা। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও বরাবরই উদাসীন। সবশেষে চলতি বছরের গত দুই সপ্তাহে যমুনার ভয়াল থাবায় ব্রাহ্মণগ্রাম, আড়কান্দি ও জালালপুরসহ ৮টি গ্রামের প্রায় দেড় হাজার ঘরবাড়ি, ৩টি শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থাপনা ইতিমধ্যে নদীতে বিলীন হয়েছে।

ভাঙনের কবলে পড়ে এ অঞ্চলের মানুষ যখন দিশেহারা তখন বৃহস্পতিবার বিকেলে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ভাঙন এলাকা পরিদর্শনে আসার খবরে ক্ষতিগ্রস্ত ও আতঙ্কিতরা ভাঙনরোধে নদী তীর রক্ষা বাঁধ হবে এমন আশা নিয়ে তাকে বরণ করেন। প্রতিমন্ত্রী নজরুল ইসলাম বীর প্রতীক বৃহস্পতিবার নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্রাহ্মণগ্রাম ও জালালপুরে পরিদর্শন শেষে বিকেল সাড়ে পাঁচটায় সংক্ষিপ্ত পথ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। এ সময় তিনি ভাঙন প্রতিরোধে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতিমন্ত্রী শান্তনা দিলেও বাঁধ নির্মাণের জন্য তাৎক্ষণিক নির্দিষ্ট কেএনা সময়সীমা উল্লেখ না করায় হতাশ নদী পাড়ের মানুষ। প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, নদী তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণের বিষয়ে এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংকের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা এগিয়ে না এলে দেশের টাকা দিয়েই বাঁধ নির্মাণ করা হবে। তবে এর জন্য কত সময় লাগবে তা বলা যাচ্ছে না।

অপেক্ষা করতে হবে ধৈর্য্যের সঙ্গে। তবে বাঁধ নির্মাণ হবেই।

মন্ত্রীর এমন আশ্বাসে ক্ষোভ প্রকাশ করে জালালপুরে নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তরা। তারা বলেন, ত্রাণ চাই না, নদী রক্ষা বাঁধ চাই। চাল খাইলে ফুরিয়ে যাবে। ঘরবাড়ি যদি না থাকে তাহলে থাকব কোথায়। তাই আমাদের পেটে খাবার নয়, ভাঙন প্রতিরোধ চাই। দাবি মোদের একটাই। ভাঙনকবলিত ব্রাহ্মণ গ্রামের রফিকুল ইসলাম আক্ষেপ করে বলেন, মন্ত্রীকে দেখে খুশি হয়েছিলাম, কিন্তু তিনি নদী তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণের কোনো বিষয়ে পরিষ্কার না করায় এলাকায় সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আরো বলেন, বাঁধ নির্মএণ সময়ক্ষেপণ করা হলে এনায়েতপুরের দক্ষিণ জনপদের চিহ্ন থাকবে না। তখন বাঁধ দিয়ে কি হবে। তাই এলাকা রক্ষায় এখনই স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের দাবি জানাই।

ভাঙন এলাকা পরিদর্শনের সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য হাসিবুর রহমান স্বপন, পাউবোর অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পশ্চিম জোন) মোসাদ্দেক আলী, জেলা প্রশাসক কামরুন নাহার সিদ্দীকা, শাহজাদপুর উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ আজাদ রহমান, সিরাজগঞ্জ পাউবোর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান হাজী সুলতান মাহমুদ ও মুল্লুক চাঁদ মিয়া উপস্থিত ছিলেন।


মন্তব্য