kalerkantho


রূপগঞ্জে র‍্যাবের হাতে জেএমবির দুই ‘সদস্য’ গ্রেপ্তার

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি   

১৩ অক্টোবর, ২০১৭ ০৬:১৬



রূপগঞ্জে র‍্যাবের হাতে জেএমবির দুই ‘সদস্য’ গ্রেপ্তার

জঙ্গিবাদের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার তারাবো এলাকা থেকে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-১১। তাদের কাছ থেকে জঙ্গিবাদী কাগপত্র উদ্ধার করা হয়।

র‍্যাব বলছে, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা জেএমবির সারোয়ার-তামিম গ্রুপের সদস্য।  

গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হল মো.মামুনুর রশিদ ওরফে মামুন (৩৪) ও মো. ইসমাইল হোসেন (২৯)। তাদের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ বন্দর থানায় দায়ের করা মামলা রয়েছে।  

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজী এলাকায় র‍্যাব-১১ এর কার্যালয়ে সংবাদ তাদের গ্রেপ্তারের কথা জানান র‍্যাব-১১ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক মো. শাকিল আহমেদ।

র‍্যাব জানায়, মো. মামুনুর রশিদ ওরফে মামুন ১৯৯৬ সালে নোয়াখালীর একটি মাদ্রাসা থেকে হাফেজি পাশ করে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে চাকরি করেন। ২০১৬ সালের মে থেকে থেকে তিনি রূপগঞ্জে একটি প্লাইউড কারখানয় কাজ করছিলেন। এর আগে ২০১৩ সালে তিনি জনৈক তাসনিমের সঙ্গে উগ্রবাদী অডিও আদান প্রদানের মাধ্যমে জিহাদে উদ্বুদ্ধ হন। পরে তার সঙ্গে ইতোপূর্বে র‍্যাব-১১ কর্তৃক গ্রেপ্তারকৃত জেএমবির সারোয়ার-তামিম গ্রুপের সদস্য আনোয়ার হোসেন, আবু ইউশা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, মাসুদ আলম ওরফে রানা, নাঈম এবং তারেকের পরিচয় হয়। আর্থিকভাবে স্বচ্ছল হওয়ায় সংগঠনে তার গুরুত্ব বাড়তে থাকে।

এক পর্যায়ে তার বাসায় জেএমবির বিভিন্ন কার্যক্রম ও গোপন বৈঠক চলতে থাকে। তিনি সংগঠনে পর্যাপ্ত অর্থ সহায়তাও প্রদান করেন।  

ওই সময় জেএমবির শীর্ষ স্থানীয় জঙ্গি সারোয়ার জাহান, ডা. নজরুল, তাসলিম ও নাঈম একাধিকবার তার বাসায় সংগঠনের গোপন বৈঠকে মিলিত হয়েছে। ২০১৫ সালের শেষ দিকে জেএমবির সারোয়ার-তামিম গ্রুপের সক্রিয় হওয়ার পর থেকে তিনি এই দলে যোগ দেন। আব্দুল্লাপুর এলাকায় সংগঠনের দাওয়াতি কার্যক্রম পরিচালনা করা ছাড়াও তার বাসায় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ক্রমাগত অভিযানের কারণে তিনি অনেকটা আড়ালে চলে যান। এরপরও তিনি সতর্কতার সঙ্গে দাওয়াতী ও আর্থিক সহায়তার কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলে বলে দাবি করে র‍্যাব।

অপরজন মো. ইসমাইল হোসেন ২০০৫ সালে ঢাকার তুরাগের দারুল ফালাহ ছালেহিয়া সাহেব আলী আলিয়া মাদ্রাসা থেকে অষ্টম শ্রেণি পাশ করে। র‍্যাবের দাবি, ২০১৪ সালে জেএমবি সদস্য গ্রেপ্তারকৃত মামুনুর রশিদ ওরফে মামুনের মাধ্যমে নিষিদ্ধ সংগঠনে প্রবেশ করেন ইসমাইল। তিনি মূলত আব্দুল্লাহপুর এলাকায় দাওয়াতি কাজ করতেন। ধীরে ধীরে সংগঠনের অনেক সদস্যের সান্নিধ্যে এসে তার কার্যক্রম বৃদ্ধি পায়। র‍্যাব-১১ হাতে গ্রেপ্তার হওয়া 

সারোয়ার-তামীম গ্রুপের সদস্য আনোয়ার হোসেন ও মাসুদ আলম ওরফে রানাসহ আরো অনেক সদস্যের সঙ্গে তিনি ঢাকার বিভিন্ন স্থানসহ গাজীপুরের টঙ্গী এলাকায় জেএমবির সদস্য সংগ্রহে কাজ করেন। তার দোকানেই তিনি জঙ্গিবাদবিষয়ক কাগজপত্র ফটোকপি করে দাওয়াতি কাজে ব্যবহার করতেন।  


মন্তব্য