kalerkantho


অবিরাম বর্ষণে বেনাপোলে নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকার পণ্য

নুরুজ্জামান লিটন, বেনাপোল থেকে   

২১ অক্টোবর, ২০১৭ ১৩:৩৮



অবিরাম বর্ষণে বেনাপোলে নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকার পণ্য

গত দুই দিনের অবিরাম বর্ষণে বেনাপোল স্থলবন্দর এর অধিকাংশ মালামাল পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে খোলা আকাশের নিচে রাখা কোটি কোটি টাকার মালামাল নষ্ট হতে শুরু করেছে।

মোটা অংকের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে আমদানিকারকদের। আজ শনিবার সকাল থেকে সব ধরনের মালামাল লোড-আনলোড বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে বর্ষায় বন্দরে ৬ হাজার টন চাল আটকা পড়েছে।

বন্দরে পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বন্দরে মালামাল নষ্ট হচ্ছে পানিতে। খোলা আকাশের নিচে অযত্ন-অবহেলায় রাখা এসব মালামাল পানিতে ডুবে গেছে। অবস্থা এমনই বেগতিক যে, ইতিমধ্যে কোনো কোনো পণ্যের গুদামে পানি ঢুকে মালামাল নষ্ট হচ্ছে। বর্ষায় অযত্ন-অবহেলায় বন্দরের অভ্যন্তরে প্রতিনিয়ত কোটি কোটি টাকার মালামাল খোলা আকাশের নিচে নষ্ট  হলেও কর্তৃপক্ষর যেন কোনো মাথাব্যথা নেই। বন্দরের অব্যবস্থাপনার কারণে  ক্ষতিগ্রস্ত আমদানিকারকরা এই বন্দর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। ফলে বেনাপোল বন্দর দিয়ে ক্রমেই আমদানি বাণিজ্য কমতে শুরু করেছে।

 

দীর্ঘদিন ধরে বন্দরের ড্রেনগুলো নিয়মিত পরিষ্কার না করায় পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়েছে। এ কারণে সামান্য বৃষ্টি হলেই কাদাপানিতে বন্দরের ভেতরে হাঁটু পরিমাণ পানি জমে যায়।  

পণ্য পরিবহনকারী যানবাহনগুলো পানির গর্তে আটকে যাচ্ছে। পণ্যাগারের প্রবেশমুখেও হাঁটুপানি। সেখানটায় পায়ে হেঁটে যাতায়াতেরও কোনো সুযোগ নেই।  

বন্দরে মাত্র ৪২টি পণ্যাগার রয়েছে, একটি রপ্তানি টার্মিনাল ও একটি ভারতীয় ট্রাক টার্মিনাল। বন্দরে পণ্য ধারণক্ষমতা ৪২ হাজার মেট্রিক টন। অথচ সারাবছরই বন্দরে পণ্য রাখা হচ্ছে ৮০ হাজার মেট্রিক টন।  

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়শনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন জানান, দেশের সর্ববৃহৎ এই স্থলবন্দর থেকে সরকার বছরে ৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আয় করে থাকে। অথচ এ বন্দরের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। প্রায় একযুগ ধরে এখানে উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নয়ন হয়নি। পূর্বে ভারত থেকে প্রতিদিন ৫ শ ট্রাক মালামাল আমদানি হতো এই বন্দর দিয়ে, বর্তমানে আমদানি কমে দাঁড়িয়েছে ৩ শ-তে।  

বেনাপোল বন্দরের পরিচালক আমিনুল ইসলাম জানান, গত দুই দিনের অবিরাম বর্ষণে বন্দরের ওপেন ইয়ার্ডের মালামাল পানির নিচে রয়েছে। পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা নেই। তবে পানি বের করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।


মন্তব্য